Thursday, September 1st, 2016
গুলশান হামলার দুইমাস: মারজান-জিয়ার খোঁজে পুলিশ
September 1st, 2016 at 3:01 pm
গুলশান হামলার দুইমাস: মারজান-জিয়ার খোঁজে পুলিশ

প্রীতম সাহা সুদীপ, ঢাকা: গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার দুই মাস পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার। এ দুই মাসে ঘটে গেছে অসংখ্য ঘটনা। রাজধানীর কল্যাণপুর ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ ১২ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। এখন ঘটনার অন্য দুই মাস্টারমাইন্ড নুরুল ইসলাম মারজান, চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হকসহ আরো কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তামিম চৌধুরীই গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।  তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত প্রোভিসি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের বাসায় বসে হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা করেন। পুলিশের অভিযানে তামিম নিহত হলেও কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড ও তাদের সহযোগী এখনো রয়ে গেছেন ধরা-ছোঁয়ারর বাইরে। তদন্তের সূত্র ধরে এমন কয়েকজনের চেহারার বর্ণনা পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Holy Artisan 1

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম-এর সম্পাদক নজরুল ইসলাম’র ক্যামেরায় হলি আর্টিজান বেকারির চিত্র

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে জানান, গুলশানের মামলার তদন্তে অনেক ক্লু বেরিয়ে এসেছে। তদন্তে নতুন করে আরো সাত-আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সাংগঠনিক নামসহ বেশ কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। হামলায় তাদের বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা সবাই দেশের ভেতরেই আছে,তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘গুলশান হামলার অপারেশন কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজান, জোনায়েদ খানসহ ছয়জনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। মারজান মূলত বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহারে পারদর্শী। সে অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে সমন্বয়ের কাজ করে। মারজান বাংলা ছাড়াও আরবি এবং ইংরেজিতেও পারদর্শী। সে অত্যন্ত চালাক ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী। ফলে দলের ভেতর তার গুরুত্ব অনেক বেশি।’

Holy Artisan

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম-এর সম্পাদক নজরুল ইসলাম’র ক্যামেরায় হলি আর্টিজান বেকারির চিত্র

মনিরুল ইসলাম আরো জানান, গুলশান হামলার জন্য এপ্রিল থেকে প্রায় ৩ মাস পরিকল্পনা করে জঙ্গিরা। কে কে হামলা করবে,অস্ত্র চালাবে কে, অস্ত্র দেবে কে, রেকি করবে কে, কে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে, বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে ছবি প্রচার করবে কে এমন অনেক পরিকল্পনা করে তারা। এর পেছনে বেশ অর্থ খরচ করে জঙ্গিরা। হামলার প্রয়োজনীয় অর্থ আসে এশিয়ার একটি দেশ থেকে। যার পুরোটাই সংগ্রহ করেছিল নিহত মাস্টারমাইন্ড জঙ্গি তামিম আহমেদ চৌধুরী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গুলশানের মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের অভিযানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী নিহত হয়েছেন। এখন নুরুল ইসলাম মারজানসহ আরো কয়েকজনের সন্ধান করা হচ্ছে। তাদের সাংগঠনিক নাম পাওয়া গেছে। যেসব সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে তাদের সবার নাম পরিচয় এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

Holy Artisan 3

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম-এর সম্পাদক নজরুল ইসলাম’র ক্যামেরায় হলি আর্টিজান বেকারির চিত্র

তিনি আরো বলেন, ‘গুলশান মামলায় গ্রেফতারকৃত হাসনাত করিম ও তাহমিদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেয়া তথ্যে কিছু গরমিল পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এই দুইজনকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।’

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ‘গুলশান হামলা মামলার চার্জশিট প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই এ চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হতে পারে। জিয়া,মারজানসহ অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে। পুলিশের তালিকায় এখন নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জন। তারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদেরও খোঁজা করা হচ্ছে।’

Holy Artisan 2

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম-এর সম্পাদক নজরুল ইসলাম’র ক্যামেরায় হলি আর্টিজান বেকারির চিত্র

গুলশান হামলা মামলায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই মামলায় তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে ৮ দিন ও ৬ দিনের দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। জঙ্গিদের কাছে বাসা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত প্রোভিসি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণ পীরেরবাগ থেকে গ্রেফতার সাবেক শিক্ষক নূরুল ইসলামসহ ৫ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জন নিহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া বোমায় নিহত হন দুই পুলিশ সদস্য। পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযানে ছয়জন নিহত হয়। এদের মধ্যে পাঁচজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির সদস্য। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৩২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ৪ জুলাই রাতে গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে (সিটি)। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা।

প্রতিবেদন: প্রীতম সাহা সুদীপ, সম্পাদনা: মাহতাব শফি


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু


বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক


সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন


দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার


অতিরিক্ত মূল্যে আলু বিক্রির দায়ে বরিশালে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

অতিরিক্ত মূল্যে আলু বিক্রির দায়ে বরিশালে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা


করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের

করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের


শিশু ধর্ষণের মামলায় দ্রুততম রায়ে আসামির যাবজ্জীবন

শিশু ধর্ষণের মামলায় দ্রুততম রায়ে আসামির যাবজ্জীবন


মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ মন্ত্রিসভার

মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ মন্ত্রিসভার


দেশে করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু

দেশে করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু