Wednesday, July 20th, 2016
চন্দ্রাভিযান নিয়ে যত বিতর্ক!
July 20th, 2016 at 10:38 pm
চন্দ্রাভিযান নিয়ে যত বিতর্ক!

শাকিরা তাসনিম ইরা: এমন কেউ কি আছে যার শৈশবে চাঁদের গল্প নেই? যে শৈশবে একবারও চাঁদে যাবার স্বপ্ন দেখে নি? নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিনও সেই স্বপ্ন দেখেছিলেন নিশ্চয়। প্রথম মানুষ হিসেবে তাই চাঁদে পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং, তারপরই বাজ অলড্রিন। চাঁদে পা রেখেই অভিভূত নীল আর্মস্ট্রং বলেন ‘মানুষের জন্য এটা ছোট পদক্ষেপ কিন্তু মানব জাতির জন্য বিশাল এক লাফ।’ বাজ আলড্রিঙ্কে সঙ্গে নিয়ে নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে গিয়েছিলেন আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই।  বাংলাদেশ সময় যা ২১ জুলাই।

মানুষের চন্দ্র অভিজানের গল্প আমরা সবাই জানি। শুনে অভিভূত হই। কিন্তু এ নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। সব থেকে মজার বিষয় হল খোদ আমেরিকার ২০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে তারা কখনো চাঁদে যায় নি।   

বিল কেইসিং অ্যাপোলো রকেট ডিজাইন করা কোম্পানি রকেট ডাউনের একজন ইঞ্জিনিয়ার ও পর্যবেক্ষক। তার লেখা একটি বই ‘উই নেভার ওয়েন্ট টু দি মুন’। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত এই বইয়ে তিনি দাবি করেন অ্যাপোলো মিশন ছিল একটি বড় মিথ্যা। তিনি এই বইয়ে অনেক প্রমাণ উপস্থাপন করেন যা অ্যাপোলো মিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

শুধু বিল কেইসিংই নয়, ব্রাইয়ান ওলেরিও ছিলেন ষাটের দশকে নাসাতে কর্মরত একজন বিজ্ঞানী এবং নাসার চন্দ্র অভিজানের একজন পরামর্শদাতা। তিনিও এই অভিযানকে ১০০ ভাগ সত্য বলতে নারাজ।  বিল কেইসিং এর মতে অ্যাপোলো মিশনের চিত্রায়ন করা হয়েছিল আমেরিকার একটি মরুভূমিতে যা ‘এরিয়া ৫১’ নামে পরিচিত। এরিয়া ৫১ হল আমেরিকার খুবই গোপনীয় একটি মিলিটারি বেস। রাশিয়ার স্পাই স্যাটেলাইট থেকে এরিয়া ৫১ এর কিছু ছবি তোলা হয়েছে সেখানে দেখা যায় এরিয়া ৫১ এ একটি মুভি সেট রয়েছে এবং সেখানে কিছু জায়গা চন্দ্র পৃষ্ঠের মত দেখতে।

চাঁদে কোনো বাতাস নেই। তবুও সেখানে আমারিকার পতাকা উড়তে দেখা গেছে যা সম্ভব নয়– এমনটাও দাবি করেন অনেকে। এবং এটিকেও চন্দ্র অভিযানের প্রতি সন্দেহ পোষণ করার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Foot Step on moon

                                                                   চাঁদের বুকে মানুষের পায়ের ছাপ

বিল কেইসিং আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি উপস্থাপন করেন। সেটি হল একাধিক আলোর উৎস। চাঁদে মহাকাশচারীদের আলোর উৎস ছিল শুধুমাত্র সূর্য। সুতরাং চাঁদে বস্তুর ছায়া পড়লে তা হবে সমান্তরাল। কিন্তু ছবিগুলোতে দেখা যায় দুই মহাকাশচারীর ছায়া পরস্পরকে ছেদ করছে। যা একাধিক আলোর উতসকে ইঙ্গিত করে। তাই তিনি দাবি করেন এসব ছবি পৃথিবীতে তোলা, চাঁদে নয়।

আবার অ্যাপোলো মিশনের ছবি তুলতে যে ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছিল তার লেন্সে ক্রশেয়ার স্থায়ীভাবে লাগানো। তাই ছবিগুলোতে ক্রশেয়ার এর সাইন থাকার কথা। কিন্তু ছবিগুলোতে প্রায়ই ক্রশেয়ার এর অংশ ঢেকে গেছে যা থেকে বোঝা যায় ছবিগুলো এডিট করা। এ কারণেও অনেকে এই অভিযানকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।

চন্দ্র জয়ের বিরুদ্ধে এমন নানান যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করার পর চন্দ্র জয় নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন কৌতুহল, সাথে নানা তর্ক-বিতর্ক। মার্কিনরা সত্যিই চন্দ্র জয় করেছে নাকি এটি শুধুই একটি প্রতারনা? এটিই যেন এখন এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসটিই/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ  ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা

করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা

অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা


কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!

কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!


প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা

প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা


রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি

রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি


মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর

মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর


মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন

মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন