Thursday, July 28th, 2016
চারু মজুমদারের প্রয়াণ দিবস
July 28th, 2016 at 6:18 pm
চারু মজুমদারের প্রয়াণ দিবস

ডেস্ক: ভারতের প্রখ্যাত নকশালপন্থী ও মাওবাদী রাজনীতিবিদ চারু মজুমদারের ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২৮ জুলাই)। রাজশাহী জেলার হাগুরিয়া গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্ম নেন চারু মজুমদার, তার পৈত্রিক পৈতৃক নিবাস শিলিগুড়িতে। তার বাবার নাম বীরেশ্বর।

শিলিগুড়ি বালক হাই স্কুল থেকে ১৯৩৩ সালে মেট্রিক পাস করার পর পাবনা এডোয়ার্ড কলেজে আই এ ক্লাসে ভর্তি হন। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পূর্বে সাম্যবাদী ধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে লেখাপড়া ত্যাগ করে জলপাইগুড়ি জেলায় তেভাগা আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯৩৬ সালে তার কর্মক্ষেত্র ছিলো জলপাইগুড়ি জেলা। ব্রিটিশ শাসনামলে ছয় বছর আত্মগোপন অবস্থায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।

এ সময়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ। ১৯৪২ সালে জলপাইগুড়িতে গ্রেফতারকৃত হয়ে দুই বছর নিরাপত্তা বন্দিরূপে কারাভোগের পর মুক্তিলাভ করেন ১৯৪৪ সালে। মুক্তিলাভের পর উত্তরবঙ্গে চা-বাগান শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি।

১৯৪৮ সালের ২৬ মার্চ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বেআইনি ঘোষিত হলে তিনি নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং ১৯৫২ সালে মুক্তিলাভ করেন। ১৯৫৭ সালে নকশালবাড়ির কেষ্টপুরে চা বাগানের মালিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার অভিযোগে গ্রেফতার আবার গ্রেফতার করা হয় তাকে। প্রায় চার মাস কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয় এই নেতাকে।

১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধের সময়ে ভারত রক্ষা আইনে গ্রেফতার হন তিনি। ১৯৬৩ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কংগ্রেস প্রার্থির কাছে পরাজিত হন। চীন ও রাশিয়ার আদর্শগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির পিকিংপন্থি নেতৃবৃন্দ সিপিআই (এম) গঠন করলে (১৯৬৪) তার সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন তিনি।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় আবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছর মুক্তিলাভের পর সিপিআই (এম)-এর নামে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন তিনি। সিপিআই (এম) নেতৃবৃন্দ কর্তৃক একে দলীয় কর্মসূচির পরিপন্থী আখ্যায়িত করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে, যদিও পরবর্তীতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদের নির্বাচনে (১৯৬৭) কংগ্রেসকে পরাজিত করে বামফ্রন্ট জয়ী হলে সিপিআই (এম)-এর বামফ্রন্ট সরকারে যোগদানের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সিপিআই (এম)-এর সংগে বিরোধ বাধলে সিপিআই (এম) ত্যাগ করেন তিনি। বামফ্রন্ট সরকারের অভিষেক অনুষ্ঠান (জুন ১৯৬৭) শেষ হওয়ার পরপরই তার ও কানু স্যান্যালের নেতৃত্বে দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি এলাকায় সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হয়।

কৃষকদের জমির মালিকানার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চল, কেরালা ও পূর্ব উড়িষ্যায় এই সশস্ত্র আন্দোলন ব্যাপকভাবে বিস্তারলাভ করে। ১৯৬৮-তে কানু সান্যাল, জঙ্গল সাঁওতাল, নাগি রেড্ডি প্রমুখের সহযোগিতায় তিনি কমিউনিস্ট কনসোলিডেশন গঠন করেন। ১৯৬৯ সালের ১ মে কলকাতা ময়দানে এক জনসভায় কানু সান্যাল কর্তৃক সিপিআই (এমএল) গঠনের কথা ঘোষণা করা হয় এবং চারু মজুমদার এদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।

এরপরই সমগ্র ভারতে একজন বিপ্লবী নেতারূপে পরিচিতি লাভ করেন চারু মজুমদার। নেতা পরিচালিত আন্দোলন নকশাল আন্দোলন নামে খ্যাত। নকশালবাড়ির সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ (১৯৬৭) থেকে এ আন্দোলনের উৎপত্তি। শোষণহীন সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের আশায় অনেক প্রতিভাবান যুবক ও যুবতী তার এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ভারত সরকার কর্তৃক নকশালদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি প্রয়োগ।

১৯৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সিপিআই (এমএল) এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি। চারু মজুমদারের নেতৃত্বকে অস্বীকার করে অসীম চট্টোপাধ্যায় ও সন্তোষ রাণা দলত্যাগ করেন। ভারত সরকার কর্তৃক তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা ও সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর কয়েক বছর পর পর্যন্ত তিনি পলাতক জীবন যাপন করেন।

১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই কলকাতার এন্টালী রোডের এক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২৮ জুলাই হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ভারত সরকার কর্তৃক একটি ঘোষণা প্রচার করা হয়।

নিউজনেক্সটবিডিডটকম/এসকেএস/এসজি


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ