Tuesday, November 8th, 2016
‘চায়ের কাপে তুমুল ঝড়’
November 8th, 2016 at 12:53 pm
‘চায়ের কাপে তুমুল ঝড়’

ইলিয়াস খান: নিউইয়র্কের জ্যামাইকার একটি নির্বাচন কেন্দ্রে গিয়েছিলাম ২০০৮ সালে। ব্যাপক কৌতুহল। কিভাবে নির্বাচন হয় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এ গণতান্ত্রিক দেশটিতে। কেন্দ্রে গিয়ে কিছুটা বিস্মিত হই। হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ। কোন হৈ হুল্লোর নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো নয়। সঙ্গে ছিলেন ফকির সেলিম। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু। তিনি তখন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি। এখন কাজ করছেন ভয়েস অব আমেরিকায়।আমার কল্পনার সঙ্গে কেন্দ্রের চিত্র কোনভাবেই মিলছে না। এ রকম ফাঁকা ফাঁকা কেন নির্বাচন কেন্দ্র- জানতে চাইলে সেলিম জানান, এদেশের নির্বাচন এরকমই। নির্বাচন নিয়ে অধিকাংশ আমেরিকানের কোন আগ্রহ নেই। ভোটের দিন মন চাইলে ভোট দিতে আসে না চাইলে না। সেলিম আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে মূলত নির্বাচনী লড়াই হয় গণমাধ্যমে। প্রিণ্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার দিকে তাকালে মনে হবে তুমুল যুদ্ধ চলছে। কিন্তু রাস্তাঘাট মনে হবে ভাঙাহাট। শ্লোগান নেই, মাইক নেই, লিফলেট নেই।

চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের নির্বাচন। যেন উৎসব। মিছিল, শ্লোগান, মারামারি, হুড়োহুড়ি, হত্যা, রাহাজানি, টাকা বিলোনো-আরও কতকিছু।

২০০৮ সালে প্রায় এক মাস ধরে মার্কিন নির্বাচন কাভার করেছিলাম। মার্কিনীদের মধ্যে উত্তেজনা না থাকলেও আমরা, যারা বাংলাদেশ থেকে নির্বাচন কাভার করতে গিয়েছিলাম, উত্তেজনার শেষ ছিল না। প্রতিদিন চার-পাঁচটা করে রিপোর্ট ঢাকায় পাঠানো। রিপোর্ট কিভাবে ছাপা হলো তা দেখার জন্য অধীর অপেক্ষা-সবই ছিল।

আজ, ৮ বছর পর সেদিনের স্মৃতি খুব মনে পড়ছে নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখে। গত কিছুদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে টক অব দ্য কান্ট্রি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আহত না হওয়াই ভাল, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ বাংলাদেশের নাম জানে না। অনেক কষ্ট করে ম্যাপ বোঝালে তারা বড় একটা জ্ঞানীর ভাব ধরে বলেন, ও চিনতে পেরেছি, ভারতের পাশে। আমি তখন শিনা টান করে বলি, না বাংলাদেশের পাশে ভারত।

যে দেশের মানুষ বাংলাদেশের নামটিই জানে না সে দেশের নির্বাচন নিয়ে এত আগ্রহ কেন? এই প্রশ্নের উত্তর কমবেশি আমাদের সবারই জানা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন-তার ওপর বিশ্বব্যবস্থার অনেক কিছুই নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা করলে বিশ্বব্যাবস্থার খোলনলচে পাল্টে দিতে পারে-এমন বিশ্বাস অনেকেরই রয়েছে। এমনকি বিশ্ববাসী তা বারবার দেখেছেও।

এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের আগ্রহ ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। এর মূল কারণ বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন। বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোর মূল প্রত্যাশা-হিলারী ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন। যদি মোটা দাগে বলি, তারা মনে করছেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে হলে হিলারির প্রেসিডেন্ট হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে হিলারী পরিবারের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও বারবার আসছে।

আবার সরকারিদলের নেতারা বলছেন, অনেকটা আগ বাড়িয়ে, প্রেসিডেন্ট যেই হোন, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হয় না।
হিলারীর প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়টি পেন্ডুলামের মতো দুলছে। এই অনেক এগিয়ে যাচ্ছেন। আবার পিছিয়ে পড়ছেন। এটা নিয়েই মূলত উদ্বেগ উতকণ্ঠায় বাংলাদেশের হিলারী সমর্থকরা। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম। ফেরার পর ঘনিষ্ঠজনদের একটিই জানার ছিল হিলারির কী অবস্থা? খুব ভাল অবস্থা দেখে এসেছিলাম। বলেছি খুব ভাল। কিন্তু এখন খুব ভাল বলার কি সুযোগ আছে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।

সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোয় দেখা যাচ্ছে, হিলারি এগিয়ে আছেন। তারপর নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই তিনিই প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে পপুলার ভোটে প্রেসিডেন্ট হন না, হন ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে।

অফিস আদালত, পাড়া-মহল্লা সব যায়গায়, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সব যায়গায়ই আলোচনার মূল বিষয় মার্কিন নির্বাচন। চায়ের কাপে তুমুল ঝড় বইছে। হিলারি ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প- কার নামের সামনে লেখা হবে প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট? কারণ নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেবেন ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী


সর্বশেষ

আরও খবর

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!

মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!


তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!

তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!


সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?

বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?


আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি