Thursday, September 28th, 2017
চিকিৎসার অভাবে প্রসূতি মায়ের করুণ মৃত্যু
September 28th, 2017 at 7:45 pm
চিকিৎসার অভাবে প্রসূতি মায়ের করুণ মৃত্যু

পঞ্চগড়: নিজের অনাগত সন্তানের জন্য সংসারের খরচ থেকে তিলে তিলে জমা করেছিলেন টাকা। প্রসবের সময় যেন ভাল চিকিৎসা পাওয়া যায়, সেজন্য খুব যত্নে রেখেছিলেন জমানো টাকা। কিন্তু তার ভাগ্যে চিকিৎসা সেবা জোটেনি।পরিবারের গোঁড়ামির জন্য চিকিৎসা সেবা না পেয়ে সন্তান জন্ম দিয়েই তাকে মরতে হয়েছে।

চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মৃত্যুর  কোলে ঢলে পড়া ওই গৃহবধূর নাম কল্পনা আক্তার (১৮)। তিনি বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, বিয়ের ৩ বছরের মাথায় প্রথম সন্তান গর্ভে ধারণ করেন কল্পনা।সন্তান প্রসব ও তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দরিদ্র এই নারী সংসারের খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে রাখতেন। সন্তান গর্ভে থাকার সময় তেমন কোন চিকিৎসা সেবা পাননি তিনি।

সর্বশেষ এক্সরে রিপোর্টের মাধ্যমে চিকিৎসকরা তার সন্তান প্রসবের দিন নির্ধারণ করে দেন ৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু স্বামী ও পরিবারের লোকজনের গোঁড়ামির কারণে নির্ধারিত দিনে তার প্রসবের কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি।

পরবর্তীকালে ওই গৃহবধূর গর্ভাশয় ফেটে যায়। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার পরেও পরিবারের লোকজন জোরপূর্বক বাড়িতেই সন্তান প্রসব করান।এ সময় তিনি একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান।

পরে পঞ্চগড় জেলা শহরের আব্দুস শহীদ বাবু নামে এক ব্যক্তির সহযোগিতায় ওই রাতেই নবজাতক শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু গত ৩ দিনেও শিশুটির পরিবারের কেউ তার কোন খোঁজ খবর নেয়নি।

আব্দুস শহীদ বাবু বলেন, ‘ওই এলাকার স্থানীয়রা খবর দিলে আমি দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলি। পরিবারের লোকজন তাতেও রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।’

তিনি উল্লেখ করেন, এখনো ওই পরিবারের কেউ শিশুটির খোঁজ খবর নিতে আসেনি। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মূলত চিকিৎসার অভাবেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আর যেন কোন গৃহবধূর এমন মৃত্যু না হয়।

স্থানীয় প্রতিবেশি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আসলে কল্পনার স্বামী আনোয়ার একটু সাদাসিধে  লোক। তাই সঠিক সময়ে তার স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারেনি। টাকার সংকট হবে বলে মেয়েটি নিজেই টাকা জোগাড় করে  রেখেছিল। কিন্তু সে তার সন্তানের মুখটিও দেখে যেতে পারলো না।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করলে ওই গৃহবধূটি হয়তো বেঁচে যেতো। মূলত গ্রামের মানুষের অসচেতনতার জন্যই এমনটি হয়। তবে নবজাতক শিশুটিকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটি ভাল আছে।

প্রতিবেদক, সম্পাদনা: ফারহানা করিম

 


সর্বশেষ

আরও খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৬, তদন্ত কমিটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৬, তদন্ত কমিটি


বুলবুলে ১২ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বুলবুলে ১২ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর


আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছে মানুষ

আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছে মানুষ


বরগুনায় বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু

বরগুনায় বিদ্যুৎস্পর্শে মা-ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু


নারায়ণগঞ্জে ৪ তলা ভবন ধসে খালে, নিহত ১

নারায়ণগঞ্জে ৪ তলা ভবন ধসে খালে, নিহত ১


টেকনাফে মিয়ানমার বিজিপি’র গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

টেকনাফে মিয়ানমার বিজিপি’র গুলিতে বাংলাদেশি নিহত


চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩

চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩


রংপুরে ট্রলির ধাক্কায় ২ জনের মৃত্যু

রংপুরে ট্রলির ধাক্কায় ২ জনের মৃত্যু


নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি

নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি


বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে মা-মেয়েসহ নিহত ৩

বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে মা-মেয়েসহ নিহত ৩