Monday, October 31st, 2016
চীনের চামড়া শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা
October 31st, 2016 at 10:43 am
চীনের চামড়া শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

রিজাউল করিম, ঢাকা: চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে শীর্ষে থাকা চীনের আন্তর্জাতিক বাজার দখলে নিচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে ক্রমেই বাড়ছে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের রফতানি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে আয় হয় ৯৮ কোটি ৩ লাখ ডলার। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৩০৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ তিন বছরে খাতটিতে আয় বেড়েছে ২১১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

সম্প্রতি চীনে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির উদ্যোক্তারা এ খাতে বড় ধরণের বিনিয়োগ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। যার কারণে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এ চামড়া শিল্পের দুয়ার আরো উম্মুক্ত ও সম্ভাবনাময় হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের মতে, প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনার নিরিখে এ খাত অভ্যন্তরীন তৈরি পোশাক শিল্পের পরেই স্থান নিতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চীনের চামড়া শিল্প নিয়ে রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেট ডটকমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২-১৩ সালে চীনে চামড়ার তৈরি জুতা শিল্পের উৎপাদন ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। চীনের ছেড়ে দেয়া বিশ্বের জুতার বাজারের ওই অংশটিই ধরতে চাইছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। কারণ ‘ফরাসিদের ফ্রেঞ্চ কাফের’ পর মানের দিক থেকে বাংলাদেশের চামড়াই দুনিয়ার সেরা। এ রকম স্মুথ গ্রেইনের চামড়া বিশ্বের অন্য কোথাও মেলে না। এছাড়া এ শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামাল, চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সস্তা শ্রম এবং জুতা তৈরির জন্য যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা। পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে সরকারের ১৫ ভাগ ভর্তুকি সুবিধার ফলে বিদেশি উদ্যোক্তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে এ খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। যার ফলে অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এই খাতে।

2

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ৫৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। অন্যদিকে পাদুকা রফতানি থেকে আয় হয় ৪১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ দেশের সার্বিক চামড়া খাতের রফতানি আয় হয় ৯৮ কোটি ডলারের কিছু বেশি। আগের বছরের চেয়ে এ সময় প্রস্তুত চামড়া রফতানিতে ২১ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ৬২ শতাংশ এবং পাদুকা রফতানিতে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। প্রবৃদ্ধির এ ধারা বর্তমানেও অব্যাহত আছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বেড়ে হয় ১২৯ কোটি ডলার, যা মোট রফতানি আয়ের ৪ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। চামড়াজাত পণ্য থেকে আয় হয়েছে ২৩৪ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ৩০৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলারে। যা মোট রফতানি আয়ের প্রায় ১০ ভাগ।

চামড়া শিল্পে রফতানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে বিনিয়োগ। বিদেশি বিনিয়োগও আসছে দেশে। লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে অন্তত ৫১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান যৌথ বিনিয়োগে বাংলাদেশের পাদুকা শিল্পে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দেশে বর্তমানে ১১০টি রফতানিমুখী কারখানায় চামড়ার পাদুকা তৈরি হয়। এর মধ্যে এপেক্স, এফবি, পিকার্ড বাংলাদেশ, জেনিস, আকিজ, আরএমএম, বেঙ্গল এবং বে’র রয়েছে নিজস্ব ট্যানারি ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। এর বাইরে শুধু চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে এমন কারখানার সংখ্যা ২০৭টি। দেশে প্রতিবছর গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন বর্গফুট ফিনিশড লেদার উৎপাদন হয়। এসব চামড়ার ৫০ শতাংশই দেশের চামড়াজাত শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাকিটা প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি করা হয়। বাংলাদেশের চামড়া ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং, তাইওয়ানে বেশি রফতানি হয়।

3

চামড়া প্রক্রিয়াজাত হয় ট্যানারিতে। সারা দেশে ট্যানারি আছে ২২০টি। রাজধানীর হাজারীবাগেই আছে ২০৬টি। এ খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আছেন প্রায় ৮ লাখ মানুষ। বিটিএ বলছে, দেশের ট্যানারি কারখানাগুলোতে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। ট্যানারি কারখানাগুলো সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তর হলে এবং নিজেরা আরো বেশি করে রফতানিতে যেতে পারলে পাঁচ বছরেই এ বাজার বেড়ে ১৫ বিলিয়ন ডলারের হতে পারে বলে আশা করছেন বিটিএ সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি শাহীন আহমেদ জানান, আমাদের প্রধান সুবিধা হচ্ছে, চামড়া আমরা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই পাই। তার ওপর এখানে শ্রমিকের মজুরিও কম। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা তুলনামূলকভাবে কম দামে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য দিতে পারি। আমরা মান নিশ্চিত করি। যারা বাইরের বাজারের ক্রেতা, তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পণ্য তৈরি করি। তারা যে মানের পণ্য চান আমরা সেই মান নিশ্চিত করি। বায়াররা উপস্থিত থেকেই মান পরীক্ষা করেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জুতা প্রস্তুতকারী দেশ চীন এখন বিশ্ববাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে গার্মেন্টসের মতো আমাদের দেশে এখন এ খাতের ব্যবসা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। বিপুল সম্ভাবনাও আছে এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার।

উল্লেখ্য, বিশ্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার এখন ২১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারের শতকরা শূন্য দশমিক ৫ ভাগ রফতানি করে। তবে এটা আরো বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু

দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু


সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং

সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত


বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা

বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা