Sunday, August 14th, 2016
চুরির অর্থ ফিরিয়ে আনতে আগস্টের মধ্যে আবেদন
August 14th, 2016 at 8:42 pm

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনতে ১৬ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে এফিডেভিটের মাধ্যমে ফিলিপাইনের আদালতে আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ খবর জানা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো মিউচ্যুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (এমএলএ) রিকোয়েস্টের আওতায় ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আদালতে অর্থ ফেরতের আবেদন করবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এফিডেভিট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দলিলাদি পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, রিজার্ভ চুরির অর্থের মধ্যে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্মপরিচালক মহুয়া মহসীন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং এন্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসকেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে পাঠানোর জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং এন্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বাংলাদেশ দূতাবাসকেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে পাঠানোর জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্মপরিচালক মহুয়া মহসীন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে তিনি জানান, ফিলিপিনো-চাইনিজ ব্যবসায়ী কিম অং এর ফেরত দেয়া ১৫ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিতে এন্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল ও কিম অং আদালতে একটি যৌথ প্রস্তাব (জয়েন্ট মিশন) দাখিল করে এবং আদালত থেকে গত ১ জুলাই আংশিক বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ (পার্শিয়াল ফরফেইটার অর্ডার) জারি করা হয়। এতে ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ অর্জিত হয়। এখন ফিলিপাইনের স্থানীয় আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংককে এফিডেভিটের মাধ্যমে আদালতে এ অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য আবেদন করতে হবে।

মহুয়া মহসীন জানান, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিং এর মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ লেনদেনকারী হিসাব থেকে মোট ৭০টি ভুয়া পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশন (পিআই)-এর মাধ্যমে ১ হাজার ৯২৬ মিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়।

এরমধ্যে ১টি পিআই এর বিপরীতে শ্রীলঙ্কায় ২০ মিলিয়ন ডলার এবং ৪টি পিআই’র বিপরীতে মোট ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকের চারজন গ্রাহকের হিসেবে পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কার ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুরোধে সম্পূর্ণ অর্থ ইতোমধ্যে ফেরত পাঠিয়েছে।

ফিলিপাইনে পাঠানো ৮১ মিলিয়ন ডলার রিজেল কমার্শিয়াল ব্যাংক কর্পোরেশন (আরসিবিসি)-এর চারটি হিসেবে জমা হয় এবং সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকের একই শাখায় পরিচালিত অপর একজন গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়। যা পরবর্তীতে একটি মানি রেমিটেন্স কোম্পানি হয়ে ফিলিপাইনে পরিচালিত ক্যাসিনোতে চলে যায় এবং পরবর্তীতে তা একজন ফিলিপিনো-চাইনিজ ব্যবসায়ী তুলে নেয়।

মোট ৮১ মিলিয়ন ডলার আরসিবিসির জুপিটার স্ট্রিট, মাকাতি সিটি শাখায় পরিচালিত ভুয়া সুবিধাভোগীদের হিসাবে স্থানান্তর হয়। এ পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়। ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা ত্বরান্বিতকরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দুই সদস্যের একটি দল ফিলিপাইন যায়। ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বাণিজ্যিক ব্যাংক আরসিবিসির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের ভার তাদের অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি)-এর ওপর অর্পণ করে।

এএমএলসি আনুষ্ঠানিক তদন্তের জন্য গত ২৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে আবেদন করে এবং ফিলিপাইনের আদালত থেকে ১ মার্চ ওই বার্তাগুলোর মাধ্যমে পাঠানো অর্থের চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের হিসাবগুলো আরসিবিসি’র সংশ্লিষ্ট শাখাসহ তিনটি ব্যাংকের সম্পৃক্ত হিসাবগুলো স্থগিত করাসহ (ফ্রিজ) আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ জারি করে। সে মোতাবেক এএমসিএল আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ফিলিপিনের সিনেটের ব্লু রিবন কমিটিতে মোট ৭টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অর্থ চুরির বিষয়ে ফিলিপিনো-চাইনিজ ব্যবসায়ী কিম অং আরসিবিসি’র বিভিন্ন কর্মকর্তা, মানি রেমিটেন্স কোম্পানি ফিলরেম সার্ভিস কর্পোরেশন (ফিলরেম)-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো উন্মোচিত হয় এবং এর ভিত্তিতে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে ফিলিপাইনের আইনি প্রক্রিয়া গতিশীল হয়। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ উদ্ধারেও বিশেষভাবে সহায়ক হয়।

অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মোট চারবার ফিলিপাইন গেছেন। এ সময় ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস, এন্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল, ফিলিপাইন এর কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সভা করেন এবং সকল কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান।

সর্বশেষ গত ১ থেকে ৫ আগস্ট ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ এবং যুগ্মপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব ফিলিপাইন যান। এ টিমকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ আইনজ্ঞ আজমালুল হোসেন কিউসি ও এ টিমের সঙ্গে ফিলিপাইন যান।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এর সেক্রেটারি (আইনমন্ত্রী), সলিসিটর জেনারেল, চিফ স্টেট কাউন্সেল, ক্যাসিনো সেক্টরের রেগুলেটরের প্রেসিডেন্ট ও চিফ অপারেটিং অফিসার, এন্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল এর প্রধান কর্মকর্তা, ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সভা করেন।

নিউজনেক্সটবিডি ডডকম/ডিএম/জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম


পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার


হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আটকেপড়া পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আটকেপড়া পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে


স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার ৪৪৯ টাকা

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার ৪৪৯ টাকা


ভারত থেকে আসছে না পেঁয়াজ

ভারত থেকে আসছে না পেঁয়াজ


রোববার থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি

রোববার থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি


সৌন্দর্যসেবায় আয় কমেছে সবার: বেকার ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা-কর্মী

সৌন্দর্যসেবায় আয় কমেছে সবার: বেকার ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা-কর্মী


ইভ্যালির ব্যবসা পর্যালোচনায় ই-ক্যাবের কমিটি গঠন

ইভ্যালির ব্যবসা পর্যালোচনায় ই-ক্যাবের কমিটি গঠন


অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সংবাদপত্র শিল্প

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সংবাদপত্র শিল্প


সরকার সংবাদপত্র শিল্প খাতকে ধ্বংস করতে চায়ঃ ফখরুল

সরকার সংবাদপত্র শিল্প খাতকে ধ্বংস করতে চায়ঃ ফখরুল