Monday, July 4th, 2022
চোখবাজি না আয়নাবাজি না কান্নার কল?
October 20th, 2016 at 1:49 pm
চোখবাজি না আয়নাবাজি না কান্নার কল?

মিঠুন রাকসাম : আয়নাবাজি বলার সাথে সাথে সৈয়দ শামসুল হকের একটি বিখ্যাত উপন্যাসের কথা মনে পড়ে যায়। নাম ‘চোখবাজি’। যদিও চোখবাজির সাথে কোনো মিল নাই সিনেমার। তবু সেই অনেক আগের পড়া উপন্যাস যেটা ভাল লেগে গেছে প্রথম পড়াতেই সেইজন্যেই হয়তো ভুলতে পারি নাই উপন্যাসের নামটা। যাই হোক, আসি আয়নাবাজিতে। গতকাল বহু কষ্ট করে মচকানো পা নিয়ে দেখে এলাম আয়নাবাজি। সিনেমাটা খারাপ লাগেনি। সিনেমার গল্পটা একজন পাক্কা অভিনেতার। যে কিনা টাকার বিনিময়ে অভিনয় করে। যার রক্তে বইছে মা প্রদত্ত অভিনয়ের নেশা। নায়ক আয়নার মা ছিল যাত্রাশিল্পী। একসময় মার ধরা পড়ে ক্যান্সার। প্রচুর টাকা দরকার। ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে গিয়েই আয়নার টাকার জন্য অভিনয় শুরু। সেই থেকে আয়নার অভিনয় অভিনয় খেলা; এই খেলা চলে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। আয়না চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী।

চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয়ের প্রশংসা করতেই হবে। যদিও তাঁর অভিনয়ের সঙ্গে পরিচয় আমার সেই ২০০৮ সাল থেকেই। যখন প্রথম সিসিমপুরে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ শুরু করি তখন থেকেই মুকুল চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় ভাল লেগে যায়। আয়নাবাজি সিনেমাতেও চঞ্চল ইস ফিট!

এবার সিনেমার ভিতর-বাহির আর ভাল মন্দের খবর নিই।

aynabazi-4

কালিবাউস-আয়নার রন্ধনপ্রণালী অত:পর গোলআলু

আয়না মাছ কিনতে গেসে মাছের বাজারে। মনের হাউস খাবে কালিবাউস। ট্যাহা তো নাই। ধরে অন্য উপায়। যদি পায়। মাছওয়ালাকে শোনায় কালিবাউস রান্ধনের উপায় আর মাছওয়ালা আয়নার রন্ধনপ্রণালী শুইন্যা কালিবাউস দিয়া দেয় আর আয়না মনের সুখে আস্তকালিবাউস ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে বাসায় যায় আর মাকে ফোন করতে থাকে মহাখুশিতে। এইখানে আমি বুঝতে পারি নাই এইটা কী কইরা সম্ভব হইল যে যার টাকা নাই অথচ রান্ধনপ্রণালী বইলাই কালিবাউসের মতো দামি বড়মাছ ভাগানো যায়! আরেকটা দৃশ্য আলু কিনতে গিয়া পুরো আলু রান্নার প্রক্রিয়া বলছে মানে প্যাচাল পারসে! আমরা বাজারে গিয়া এমন করি কিনা কিংবা কেউ করে কিনা তা লইয়া ভাবতে হইতাসে।

aynabazi-1

উড়ে এসে জুড়ে বসা দিদিমণি

যে মেয়েটিকে কেউ চিনে না জানে না সেই মেয়ে একটা স্কুলের দিদি হইয়া গেলগা এমনি এমনি? বাচ্চারা দিদি কইয়া কোলে এসে চড়ে বসল- এটা একটু বেশি বেশি মনে হয় নাই? আমার কিন্তু হয়সে। কারণ বাচ্চারা এতোসহজেই যে কাউরে দিদি কিংবা আপা মেনে নেয় এইটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না। যদিও নানা কসরত করে তবেই বাচ্চাদের মন পাওয়া যায়।

হৃদির (নাবিলা) অভিনয় আহামরি হয়নি কিন্তু খারাপও করেনি। আয়না আসেনি ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে কিন্তু নাবিলার চোখে মুখে নেই কোনো হাহাকার কিংবা টেনশন। আয়না যে আসেনি-এইযে কথা দিয়ে কথা না রাখা কিংবা কোনো সমস্যা হতে পারে এই চিন্তা মেয়েটির মনে কিংবা চেহারায় ধরা পড়েনি। অন্তত আমার কাছে। এটা কেন হলো ঠিক বুঝতে পারলাম না। একসময় ঠাশ করে পিছন ফিরে ক্যাটওয়াক করে ঠক ঠক হিলের শব্দ করতে করতে আয়নার বাসায় চলে গেল। মজার ব্যাপার হলো- যে আয়নার সাথে সিলেট যেতে চাচ্ছিল, যে আয়নার সঙ্গে সে জড়িয়ে গেছে অথচ আয়না সম্পর্কেই সে জানে না। মানে ফাপার ওপর দিয়ে তৈরি হয়েছে সম্পর্ক। অবশ্য খুব দ্রুতই আয়না আর হৃদির মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। যা অন্য আট-দশজন পরিচালক যেভাবে নায়ক-নায়িকার পরিচয় ঘটায় সেই পরিচয় থেকে প্রেম তারপর ইয়ে..এখানেও এমনটাই হয়েছে যেটা পরিচালক অমিতাভ রেজার কাছে আশা করি নাই। সম্পর্ক তৈরি না হওয়ার দরুণ একজন সাংবাদিকের কাছে জানতে হয় যে আয়না আসলে জাহাজের কুক না সে মাঝে মাঝে জেলে যায়। টাকার বিনিময়ে অপরাধীর অভিনয় করে। এইখানে হৃদি চরিত্রের কিন্তু ফাঁক থেকে গেছে। যে ফাঁকে পড়ে অভিনয়টা অনেকটা ফসকে গেছে।

সাংবাদিক-ক্যামেরা-বোরখাওয়ালী ও তার স্বামী  

আয়নাকে ধরার চরম মুহূর্ত। এবার সাংবাদিক আয়নাকে তার ক্যামেরায় বন্দি করবেই। আর আয়নার আসল চরিত্র প্রমাণ করেই ছাড়বে। কিন্তু না। ক্যামেরায় ধাক্কা লাগে এক বোরখাওয়ালীর। ভেসে যায় সব। বোরখাওয়ালীর সাথে তেড়ে আসে তার স্বামী। বেচারা সাংবাদিক আয়নাকে ভুলে নকল আয়নার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। এরপর যা হবার তাই হয়। সাংবাদিকের সামনে হাড় জিরজিরে কুকুর হাঁটতে থাকে। এই যে ধাক্কা লাগা-লাগি নিয়া তর্ক বা ক্যাচাল তাকে বাড়াবাড়িই বলব। কারণ সাংবাদিকের লক্ষ্য ছবি তোলা কিন্তু সে তা না করে মহিলার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হইয়া পড়ে যেটা বাস্তবে কোনো সাংবাদিক এমন করবে কিনা সন্দেহ। কারণ তার লক্ষ্য ছবি তোলা তাও আবার বিশেষ মুহূর্ত। এই দৃশ্যটা দেখে মনেই হয়েছে সাংবাদিককে বাধাপ্রদানের জন্য এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে এবং তা খুবই ফালতুভাবেই। ঘটনাটি অন্যভাবেও ঘটানো যেত। আরেকটু নাটকীয় হতে পারতো যা দর্শকের কাছে বিরক্তির উদ্রেগ বা হাস্যকর ঠেকতো না। এইখানে যেটা করা হয়েছে সেটা আমার কাছে স্রেফ হাস্যকর লাগল।

gallery4

সাংবাদিক মানেই কি মাতাল সংসারত্যাগী?

আয়নাবাজিতে একজন সাংবাদিক আছে যে নাকি ক্রাইম রিপোর্টারগিরি করে। কিন্তু কোথাও পাত্তা পায় না। না ঘরে, না বাইরে। ফলে বউ দেয় ডিভোর্স অন্যরা দরজা থেকেই ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেয়। সম্পাদক সাহেব হন নাখোশ। ফলে প্রতিদিন মদ খেয়ে ঢোল হয়ে থাকে সাংবাদিক। বিষয়টা খুবই হাস্যকর আর আপত্তিকর কারণ সাংবাদিক মানেই কিন্তু মদারু কিংবা তোষামোদপ্রিয় কিংবা সংসারত্যাগী না। কিন্তু সিনেমাতে যা দেখানো হয়েছে তাতে যে কারোরই মনে হবে একজন সাংবাদিক মানেই মদখোর, সংসারত্যাগী। আর সাংবাদিকের ডিভোর্স হবার দৃশ্য/কথোপকথন দৃশ্যটির আদৌ দরকার ছিল কি? আমার কাছে এই দৃশ্যগুলো অত্যন্ত বাজে মনে হয়েছে। যা সাংবাদিক চরিত্রটি জনসাধারণের কাছে নেগেটিভ মডেল হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

এছাড়াও কিছু বিচ্ছিন্ন/বাড়তি দৃশ্য বা ঘটনাও আছে সিনেমাতে। যেটা আমি দেখতে চাইনি তবু দেখে ফেলেছি। যেমন বৃষ্টির প্যারা। কিংবা দিনদুপুরে গাড়ি থেকে গাড়ি আসামীর পরিবর্তন। এটা খুবই হাস্যকর এবং সিনেমাতে এমন দৃশ্য খুব সহজেই করা যায় কিনা সন্দেহ আছে। কারণ চোখের নিমিষেই আসামী বদল হয়ে যাচ্ছে ভেলকি বাজির মতো এটা সহজে মেনে নেয়ার মতো দৃশ্য না। এমনও নয় যে জাদু-মন্ত্র দিয়ে কার টু কার অপরাধীর বদল হচ্ছে। এতে মনে হলো পরিচালক বোমাবাজি করেও দৃশ্যটি করতে চাননি! যদি লোকে বলে খ্যাত!

আয়নার আয়না হয়ে ওঠা

সিনেমা দেখতে গেসি মূলত আয়নার আয়না বাজি দেখতে তাই বহুত আশা নিয়া আয়নার পিছে পিছে ঘুরসি। তাই আয়নার লগে লগে জেলখানায় গেসি আর আইসি। তয় আয়না একটি চরিত্র বটে। যার পিছে পিছে ঘুরে মনে হয়সে যাহ্ শালা আয়না তো পাক্কা অভিনেতা! পরিচালক আয়নাকে যেভাবে তৈরি করেছেন বিশেষ করে আয়নাকে পাক্কা অভিনেতা তৈরির জন্য একটি অভিনয় স্কুলও দেখানো হয়েছে যেখানে আয়নার পরিচালনায় বাচ্চারা অভিনয় শিখছে। এটা ভাল- আয়নাকে পাক্কা অভিনেতা মেনে নিতে আর কোনো বাধা থাকে না। প্রধান চরিত্রকে ধীরে ধীরে শীর্ষের দিকে নিয়ে যাবার সূত্রটা সফল পরিচালকেরই কাজ।

aynabazi-3

এখানে আয়না চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয়ের প্রশংসা করতে হবে। এক কথায় ফাটাফাটি! আমি শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম যদিও আমি বুঝে গেসিলাম যে এখানেও আয়না অভিনয় করেই জেল থেকে পালাবে। ঠিক তাই হয়ে গেছে। যাই হোক, আমার পাশে বসা দর্শকরা শুধু বলছিল- পালালো…পালালো আয়না! এবার তারা হতাশ হয়নি কারণ এরআগে একবার যখন পাহারাদারদের সারি করে গেট থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছিল তখন সবাই চেচাচ্ছিল যে আয়না পালাচ্ছে কিন্তু সবাইকে হতাশ করে আয়না পালায়নি। কিন্তু এবার ঠিকই পালিয়েছে! আর দর্শকরা হৈ হৈ করে আয়নার সাথে সাইকেলে চড়ে যার যার বাড়িতে চলে গেছে। সবার মনে আহ কী শান্তি! শেষের দৃশ্যটুকুও দেখার আগ্রহ জাগেনি দর্শকদের। আয়নার সাথে সাথে সবাই মহাখুশিতে আনন্দচিত্তে সাইকেল চালাতে চালাতে হল থেকে বেরিয়ে গেছে। পর্দায় তখনও আয়নার শিশু শিক্ষার্থীরা অভিনয় করে যাচ্ছে! এই যে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে দর্শক বাড়ি ফিরে যাচ্ছে এটাই আয়নাবাজির বড় সাফল্য! আয়নার অভিনয় সার্থকতা।

গল্পের বুনন আর গল্পকারের কারিশমা

আয়নাবাজি সিনেমার গল্পটা আহামরি না। আবার ফেলে দেবার মতোও না। পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে গেছে গল্প। যেহেতু গল্পটা নায়ক কেন্দ্রিক সেহেতু সব ঘটনা নায়ককে কেন্দ্র করেই সংঘটিত হয়েছে। যদিও ছিটে ফোটায় ছড়িয়েছে অন্যদিকে। তবু সাজানো-পরিপাটি। বিশেষ করে গল্পের শেষ অংশটা অসাধারণ, ইতিবাচক। দর্শকদের মনপুত হয়েছে বলা যায়। এখানেই পরিচালককে সাধুবাদ জানাই। এটা পরিচালকের ক্ষমতাও বটে। গল্প যাই থাকুক যেন ইতিবাচক হয়। সিনেমা নাটক তো তাই এখানে মন্দের ধ্বংস আর ভালোর জয় হবে অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাও হতে পারে সেটা ব্যতিক্রম। শয়তানের বিনাশ আর নায়কের জয়ই তো দেখতে চায় সাধারণ দর্শক। আমিও তাই। তা না হলে আমি কেন দেখবো টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সিনেমা? অশুভ শক্তির জয় তো প্রশ্নই আসে না! যাই হোক আয়নাবাজির গল্প নিয়ে কথা বলছিলাম। গল্পটা এতো ভাল আর পরিচিত কেন মনে হলো? আমি কী আগে এমন গল্প পড়েছি কোথাও?

aynabazi-5

অনেকদিন আগে গল্পকার আবুল বাশারের একটি গল্প পড়েছিলাম নাম ‘কান্নার কল’ কান্নার কল কি? মনে হচ্ছে। সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। যদিও আয়নাবাজি’র গল্পটা আলদা। তবু কেন যেন আবুল বাশারের গল্পের রেশই কাটেনি মন থেকে।

যাই হোক। তবে আবুল বাশারে গল্পের শেষটা এমন ছিল না। আবুল বাশারের গল্পের মূল হচ্ছে গল্পের মেইন প্রটাগনিস্ট ভাড়ায়/টাকার জন্য লাশের আপনজন সেজে কান্নাকাটি করে। আয়নাবাজিতে মেইন চরিত্র টাকার জন্য অপরাধী সেজে অভিনয় করে, তফাৎ এই যা। আর শেষ? সে তো গল্পকারের কারিশমা। গুটির দান উল্টে দেবার ক্ষমতা আর কী। আর ওটাই আসল ক্ষমতা। গল্পের সারাংশ যতদূর মনে পড়ে- মেইন প্রটাগস্টি একজন নারী যে টাকার বিনিময়ে কান্নাকাটি করে। কারো বাপ বা ছেলে মারা গেল লাশের কেউ মহিলাকে ভাড়া করে নিয়ে যায় আর মহিলা লাশের আপনজন হয়ে কান্নাকাটি করে টাকা নিয়ে চলে আসে। গল্পের শেষে মেইন প্রটাগস্টি-এর আপনজন মারা যায় কিন্তু মহিলার কান্না আসে না। সে শোকে পাথর হয়ে যায়।

আমি বলছি না যে আবুল বাশারের গল্প থেকে আয়নাবাজি’ গল্পের সৃষ্টি। সেটা বললে আমার অন্যায়ও হয়ে যাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আবুল বাশারের গল্পটা আগে পড়ে ফেলেছি। ফলে সেই টেস্ট আর রস মাথায় রয়ে গেছে। যদিও আয়নাবাজি সিনেমা আর কান্নার কল হচ্ছে গল্প! দুটা দুই জগতের কারবার। তবু আমি অন্তত সিনেমাতে গল্পই খুঁজি। ভাল গল্প।

যাই হোক, আয়নাবাজি সিনেমার পরিচালক সত্যিই একজন সৃজনশীল লোক। ক্রিয়েটিভ। তাঁর প্রশংসা করতেই হবে। গল্পের শেষ অংশটুকু কীভাবে পাল্টে দিতে হয় তা তিনি জানেন। আর জানেন বলেই আয়নাবাজি- আয়নাবাজি হয়ে ওঠেছে। এখানে সিসিমপুরের স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের কথা মনে পড়ে গেল। ক্রিয়েটিভ ক্রিয়েটিভ আর পজিটিভ।

aynabazi-2

আয়নাবাজি- গল্পের বিষয়বস্তু চলমান সময়কে ধরে এগিয়ে গেছে। এটা ঠিক চলমান বিষয় আশয় আর গল্পের সুন্দর গাঁথুনির জন্যেই আয়নাবাজি নিয়ে এতো হৈ হৈ রৈ রৈ কাণ্ড। দশর্ককে সামাল দিতে পুলিশ নামাতে হয় হল কর্তৃপক্ষকে। ফলে সিনেমা দেখতে গিয়েও ফিরে এসেছি দুবার। তৃতীয়বারে সফল হয়েছি।

পুরো সিনেমা দেখার পর আমি কিন্তু পরিচালকের সঙ্গে এক হয়ে যাচ্ছি। তার ভাবনায়-চিন্তায় এক হয়ে যাচ্ছি। মনে হয় সত্যিই তো আমরা সবাই অভিনয় করে যাচ্ছি, প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে। আয়নার মতো। কান্নার কলের মহিলার মতো। মুদির দোকানদার-ঘরের বউ, রাস্তার চা বিক্রেতা, কবি, সাহিত্যিক কিংবা রাজনীতিবিদ, কেউ বাদ পড়ছি কী? আমরা যে যার আসনে থেকে অভিনয় করে যাচ্ছি। ভাল নেই তবু ভাল থাকার ভান করছি- মাথা নেড়ে ভাল-বলছি। ঘরে বউয়ের সাথে ঝগড়া করে বাইরে হাসিমুখে অন্যের বউকে বাহবা দিচ্ছি। এটা তো দেখা হয়ে গেছে সবার। এই আয়নাবাজির গল্পটি তো আমাদের সবার এই সমাজের এই দেশের।

একটা জিনিস স্পষ্ট-আমরা আয়নার মত অভিনয় করে যাচ্ছি যে যার আসনে থেকেই। সিনেমার বিষয় নানা দিকে ছড়িয়ে যায়নি এটা ভাল একটা দিক। নানা বিষয় আসলে হয় কি সিনেমা খেই হারিয়ে ফেলে। মূল লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। যেটা এই সিনেমাতে হয়নি। একজন অভিনেতা হিসেবে আয়না অভিনয় করে যাচ্ছে আর অভিনয়টা হচ্ছে অপরাধীর। সেটা যারই হোক সমাজের বিত্তবানের বা রাজনীতিবিদের। এই বিষয়টা নিয়ে এমন একটা সিনেমা হবে তা হয়তো ভাবেনি সাধারণ দর্শক।  তাই পর্দায় নিজের চেনাজানা-গল্প আর ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সিনেমায় দেখতে পেয়ে খুশিই হয়েছে! এতো হিড়িক আর হাততালি পড়েছে পরিচালকের কপালে। এটার জন্য সাধুবাদ জানাই!

আয়নাবাজি আসলে চোখবাজিই। যা ঘটছে সব চোখের পলকেই ঘটছে। এই যে সিনেমায় একটার পর একটা দৃশ্য পাল্টে যাচ্ছে, কাহিনী ঘটে যাচ্ছে এটাকে আসলে চোখবাজিও বলা যায়। আসলে এটা চোখবাজিরই খেল। চোখ তো একটা আয়নাই। আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি- সৈয়দ হকের চোখবাজি’র সাথে এই সিনেমার কোনো মিল নাই। শুধু নামে যা। আমি শুধু আয়নাবাজির সাথে চোখবাজিটা মিলিয়ে দেখছি যেহেতু আমার মাথায় চোখবাজিটা আগে থেকেই গেঁথে আছে। চোখবাজি মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধের পরের সময়কালকে নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস। তবু সৈয়দ শামসুল হকের চোখ বাজির কথা ধার করেই লেখাটা শেষ করি- ‘এ জগত এক চোখবাজি। তামাশার খেলা। এই আছে, এই নাই। এই নাই, এই আছে। এই দেখা যায়, এই যায় না। যা দেখা যায়, তাও ঠিক কিনা কে জানে? দেখা যখন যায়না, তখনো কি দেখার কিছু নাই? চোখবাজি রে ভাই, চোখবাজি। এই হয় জগত।’ (চোখবাজি / সৈয়দ শামসুল হক)।

লেখক: কবি

সম্পাদনা: শিপন আলী, মাহতাব শফি


সর্বশেষ

আরও খবর

লাইফসাপোর্টে কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর

লাইফসাপোর্টে কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর


সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান


৬ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পরীমনি

৬ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পরীমনি


পরীমনির সাথে ঘনিষ্ঠতা থাকায় ডিবি থেকে বদলি হলেন এডিসি সাকলায়েন

পরীমনির সাথে ঘনিষ্ঠতা থাকায় ডিবি থেকে বদলি হলেন এডিসি সাকলায়েন


পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জিমি আটক

পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জিমি আটক


পরীমনির মাদকের দুই মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

পরীমনির মাদকের দুই মামলা ডিবিতে হস্তান্তর


চার দিনের রিমান্ডে পরীমনি

চার দিনের রিমান্ডে পরীমনি


পরীমণির পর আটক হলেন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ

পরীমণির পর আটক হলেন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ


পরীমনির বাসায় মিলেছে মদ, আইস ও এলএসডি, র‍্যাব সদর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

পরীমনির বাসায় মিলেছে মদ, আইস ও এলএসডি, র‍্যাব সদর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে


কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার মারা গেছেন

কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার মারা গেছেন