Monday, September 17th, 2018
ছাত্রলীগের জাদুকরি বদলে যাওয়া
September 17th, 2018 at 4:32 pm
ছাত্রলীগের জাদুকরি বদলে যাওয়া

মাসকাওয়াথ আহসান: ছাত্রলীগের ছেলেদের চায়ের দোকানে আসতে দেখে চা-দোকানির আত্মাটা শুকিয়ে যায়। সে দু’হাত তুলে আত্মসমর্পণ করে বলে, আপনারা ফ্রিতে চা খেয়ে যান ভাই; কিন্তু চাঁদা দেওয়ার পয়সা নাই; আমারে মাইরেন না; আমি ছোট।

ছাত্রলীগের এক ছেলে বলে, কীসের চাঁদা। হোয়াট ইজ চাঁদা। আমরা চা খেয়ে বিল যা আসে তাই দেবো। চা-খেয়ে বিল দিয়ে ছেলেরা চা’দোকানির সঙ্গে কোলাকুলি করে ফিরে যায়। বিস্ময়ে অজ্ঞান হয়ে যায় দোকানি।

চা খেয়ে তারা সবাই মিলে একটি টেম্পুতে উঠলে; টেম্পুচালক হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে, ভাইজানেরা যেইখানে যেতে চান ফ্রিতে নিয়ে যাবো; কিন্তু মাইরেন না আল্লার দোহাই লাগে। চাঁদা দেওনের টাকা নাই।

ছাত্রলীগের এক ছেলে বলে, আমরা ভাড়া দিয়েই যাবো; আমাদের একটু লাইব্রেরিতে পৌঁছে দিন প্লিজ। লাইব্রেরিতে পৌঁছে দিতেই ছেলেগুলো ভাড়া দিয়ে লাইব্রেরিতে ঢুকে পড়ে। টেম্পু চালক হতভম্ব হয়ে বসে থাকে।

ছাত্রলীগের ছেলেরা লাইব্রেরিতে ঢুকতেই লাইব্রেরিয়ানের আত্মা শুকিয়ে যায়। বিসিএস গাইড মুখে বসে থাকা পাঠকেরা তাদের গাইড বুক কোথায় লুকাবে ভেবে পায়না; পাছে তাদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মী ভেবে হাতুড়ি নিয়ে আসে ছাত্রলীগের ছেলেরা।

অন্য কোন দিকে না তাকিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাখা থেকে বই নিয়ে পড়তে শুরু করে। নীচু স্বরে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, জবাবদিহিতা, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে স্টাডি সার্কেলে মেতে ওঠে। তাদের দেখে দুই দাড়িওয়ালা লোক রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাখার কোণার দিকে গিয়ে মুখ লুকায়। ছাত্রলীগের এক ছেলে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, স্যার আপনারা প্লেটো-এরিস্টোটল না!

ছাত্রলীগের ছেলেরা উচ্ছ্বসিত হয়ে তাদের ঘিরে বসে। একজন অনুরোধ করে, আপনাদের মুখেই ‘রিপাবলিক’ সম্পর্কে শুনতে চাই।

এরপর আলোচনা জমে ওঠে। এক পর্যায়ে প্লেটো-এরিস্টোটল বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আমাদের “সুশীল” তকমা দিয়ে আঙ্গুল ওঁচাবে তোমরা; কিংবা দাড়ি দেখে “জঙ্গি” বলে তকমা দিয়ে এলিট ফোর্সের হাতে তুলে দেবে!

ছাত্রলীগের ছেলেরা প্লেটো-এরিস্টোটলের সঙ্গে সেলফি তোলার অনুরোধ জানায়। একজন বলে, সহমত ভাইদের সঙ্গে সেলফি তোলা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে স্যার। আপনারা শিক্ষক মানুষ; তাই আপনাদের সঙ্গে ছবি তুলতে চাই।

লাইব্রেরি থেকে হেঁটে ছাত্রলীগের ছেলেরা হলের দিকে এগিয়ে যেতেই, কতগুলো লুঙ্গি পরা ছেলে এসে জিজ্ঞেস করে, আবার কবে একশান হবে ভাই; পুলিশের লগে কান্ধে কান্ধ মিলাইয়া ফাইট দিতে হেব্বি মজা লাগে।

ল্যাম্পপোস্টের আলোয় লুঙ্গি পরা ছেলেদের নিয়ে নিরক্ষরতা দূরীকরণ কার্যক্রম শুরু করে ছাত্রলীগের ছেলেরা।

এমন সময় পাশ দিয়ে ভয়ে ভয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো ছাত্রদলের একটি ছেলে। ছাত্রলীগের একটি ছেলে গিয়ে তাকে আলিঙ্গন করে। তাকে বলে, এসো ভাই আমরা একসঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত ছেলেদের পড়াই।

হলে ফিরে ছাত্রলীগের ছেলেরা ডাইনিং রুমে ঢুকতেই অন্য ছাত্রদের মুখ শুকিয়ে যায়। দ্রুত খেয়ে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করে। চেয়ার টেবিল খালি না পেলে যদি তারা ক্ষুব্ধ হয়।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা বলে, ডাইনিং হলের মামারাও খেতে বসেন প্লিজ। আজ আমরা খাবার পরিবেশন করবো। তারপর খাবার বাঁচলে খাবো; নইলে উপোষ থাকবো।

ডাইনিং হলের এক মামা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় বিস্ময়ে।

Bangladesh writer

লেখক: ব্লগার ও প্রবাসী সাংবাদিক


সর্বশেষ

আরও খবর

মিডিয়ার যুগে শোক প্রকাশের উচ্চ নম্বরের সিঁড়ি! 

মিডিয়ার যুগে শোক প্রকাশের উচ্চ নম্বরের সিঁড়ি! 


চাটা লিমিটেড কোম্পানি

চাটা লিমিটেড কোম্পানি


পাবলিক পাঞ্চিং ব্যাগ

পাবলিক পাঞ্চিং ব্যাগ


যাপনে নয়, জীবন উদযাপনের

যাপনে নয়, জীবন উদযাপনের


তোমার সুরে সুর মেলাতে

তোমার সুরে সুর মেলাতে


চীনের চাঁদ আর শ্রীখণ্ডের ঈশ্বর

চীনের চাঁদ আর শ্রীখণ্ডের ঈশ্বর


তেল দিয়ে সত্য নিতে পারি কী কিছু!

তেল দিয়ে সত্য নিতে পারি কী কিছু!


পাখীদের অনশন

পাখীদের অনশন


গণদেবতার ঠোঁট সৈনিকেরা

গণদেবতার ঠোঁট সৈনিকেরা


পাটোয়ারী ভিলেজ ও চাড্ডিগ্রামের ডাইহার্ডেরা

পাটোয়ারী ভিলেজ ও চাড্ডিগ্রামের ডাইহার্ডেরা