Wednesday, May 31st, 2017
জঘন্য ‘বড় বাপের পোলায় খায় ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়’
May 31st, 2017 at 10:43 am
জঘন্য ‘বড় বাপের পোলায় খায় ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়’

এম কে রায়হান: শিরোনাম শুনে অবাক হলেও পুরান ঢাকার খাবারের বাস্তবতা এখন এমনই। রোজাদারদের সামনে বাহারি সব ইফতারসামগ্রীর পসরা নিয়ে হাজির হতে প্রতিবারের মতো এবারো প্রস্তুত ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ইফতার বাজার।

কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের মান ও স্বাদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের বিভিন্ন খাবারের পেইজগুলোতে পুরান ঢাকার খাবারের মান ও স্বাদ নিয়ে সবাই নেতিবাচক মন্তব্য করছে। তারা বলছেন, খাবারের মান ও স্বাদ কোনটাই ভালো না, পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বানানো এবং বিক্রি করা হচ্ছে এসব খাবার।

সরেজমিনে এসবের প্রমাণও মিলেছে। সোমবার গিয়ে দেখা গেছে খোলা হাতে ধরেই সকল খাবার বিক্রি হচ্ছে। ঘামে একাকার হাত নিয়েই খাবার মাখানো হচ্ছে আবার ওই হাত দিয়েই টাকা আদান প্রদান হচ্ছে।

বনানী থেকে আসা বিপ্লব নামের এক ক্রেতা নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘আমি পুরান ঢাকার ইফতারের কথা অনেক শুনেছি। এটা নাকি অনেক ঐতিহ্যবাহী খাবার। কিন্তু এখানকার খাবার দেয়ার পরিবেশ মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত না। একই হাত দিয়ে খাবার ধরছে আবার টাকা দিচ্ছে।’

এদিকে খাবারের স্বাদ নিয়েও প্রশ্ন সবার মনে। যারা একবার খায় তারা আর দ্বিতীয় বার কখনই এই খাবার খায় না। বিশেষ করে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ নামে একটি বিশেষ আইটেম নাকি অতি জঘন্য।


রুশো আহমেদ নামের একজন তার ফেইসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘বড় বাপের পোলায় খায় নামক কুবস্তু নিয়ে আসছিলাম। যখন বানায় ঠোঙ্গা ভইরা দিলো তখন গরমই মনে হলো কিন্তু মিরপুর আসতে আসতে পুরা ঠাণ্ডা হয়ে গেলো। ইফতারের আগে যখন প্লেটে নামালাইলাম- মনে হইলো কোনো বিয়ে বাড়িতে গেস্টদের প্লেটের উচ্ছিষ্ট অংশ। মুরগির পা আর ডানার হাড় (মাংস ছাড়া) ২/৪ টা এদিক-ওদিক। একটু মুড়ি মাখার মত, দেখলে লাগে কারো চিবানো। আরও কি সব জানি। জোর করে খেয়েছি কিছুটা। আর কেউ খায় নাই। বড় বাপের পোলায় যদি এসব খায় তাহলে ছোট বাপের পোলায় আরও কী জঘন্য খায়!’


আরিফ এলাহি নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘পুরান ঢাকার সব খাবারই জঘন্য তবে বড় বাপের পোলায় খায় আর সুতি কাবাব বেশি জঘন্য।’

আরেকজন ভুক্তভোগী নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, রেশমি কাবাব, সুতি কাবাব, জালী কাবাব, বটি কাবাব ইত্যাদি নামের কাবাবগুলো আসলে কোন কাবাবের কোয়ালিটিতে পড়ে না। ভুলেও রাস্তার ওপরের ‘দই বড়া’ কিনবেন না, না হলে বাসায় গিয়ে নিজেকে গালি দিবেন, এতটা জঘন্য এখানকার খাবার।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিতু শিকদার নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘সুতি কাবারের ভিতরে সুতা দেয়া থাকে। আর এর স্বাদ এমন জঘন্য যে কাবাব খাওয়ার রুচি আপনার নষ্ট হয়ে যাবে।’


যদিও এসব মানতে নারাজ পুরান ঢাকার ব্যাবসায়ীরা। এ বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। এক বিক্রেতা উল্টা প্রশ্ন করেন, খাবার যদি খারাপই হয় তাহলে এতদিন ধরে আমরা কিভাবে এই ব্যাবসা করে আসছি?


এ বিষয়ে পুরান ঢাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘আমার জন্ম এই ওল্ড টাউনে (পুরান ঢাকায়)। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার নামে যে সব অখাদ্য এবং কুখাদ্য এখন চকবাজারে বিক্রি হচ্ছে তা আসলে এখানকার খাবারের ঐতিহ্য না। চকের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো ছিল শিরমলি, বাকেরখানি চাপাতি, নান রুটি, কাকচা, কুলিচা, নানখাতাই, শিক কাবাব, হান্ডি কাবাব, মাছ ও মাংসের কোফতা, শামী ও টিকা কাবাব, পরাটা, বোগদাদী রুটি, শবরাতি রুটি, মোরগ কাবাব, ফালুদার শরবত ও নানারকম ফল।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরাতন ঢাকার অরিজিনাল আদি বাসিন্দা যারা চকবাজারের ইফতার সম্পর্কে খোঁজ রাখেন, তারা কেউ এই খাবারের কথা আপনাকে বলবে না। বড় বাপের পোলায় খায় খাবারের ইতিহাস হল, একজন মুড়ি ভর্তা বিক্রেতার উর্বর মস্তিস্কের ফসল।’


সর্বশেষ

আরও খবর

সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত

সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত


রোজাদারদের জন্য কিছু পরামর্শ

রোজাদারদের জন্য কিছু পরামর্শ


সেহরি ও ইফতারের সময়সুচী


বাংলাদেশে রমজান শুরু ১৮ মে থেকে

বাংলাদেশে রমজান শুরু ১৮ মে থেকে


যানজটহীন ঢাকায় স্বস্তিতে নগরবাসী

যানজটহীন ঢাকায় স্বস্তিতে নগরবাসী


জমে উঠেছে বঙ্গবাজারের কেনাকাটা

জমে উঠেছে বঙ্গবাজারের কেনাকাটা


জমে উঠেছে ফুটপাতের কেনাকাটা

জমে উঠেছে ফুটপাতের কেনাকাটা


ঠাকুরগাঁওয়ে গরীবের মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

ঠাকুরগাঁওয়ে গরীবের মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়


পাবনায় দেশি পোশাকের কদর বেশি

পাবনায় দেশি পোশাকের কদর বেশি


ছুটির দিনে জমজমাট ঈদবাজার

ছুটির দিনে জমজমাট ঈদবাজার