Friday, July 1st, 2016
জন্মবার্ষিকী: কীর্তিমান আবুল ফজল
July 1st, 2016 at 3:27 am
জন্মবার্ষিকী: কীর্তিমান আবুল ফজল

ডেস্কঃ ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ মুসলিম সাহিত্য সমাজের সামাজিক আন্দোলনের মূলমন্ত্রটি বহুল পরিচিত; বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষিত মানুষ মাত্রই বাক্যটিকে পরিচিত বলে চিহ্নিত করবে। আজ, ১ জুলাই, এই ঐতিহাসিক চিরসত্যের রচয়িতা আবুল ফজলের ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী।

একাধারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাষ্ট্রপতির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা, বুদ্ধিজীবি, শিক্ষাবিদ, চিন্তাশীল ও সমাজমনস্ক প্রবন্ধকার এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল ফজল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

আবুল ফজলের বাবা মৌলবী ফজলর রহমান ও মা গুলশান আরা। প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে। ১৯২৩ সালে ম্যাট্রিক ও ১৯২৫ সালে ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর ১৯২৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং ১৯৪০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন।

ফজলর রহমান চেয়েছিলেন আবুল ফজল তার ও দাদা মৌলবী হায়দর আলীর মতো মৌলবী হন। কিন্তু আবুল ফজলকে সাহিত্যই বেশি আকর্ষণ করে। শিক্ষক হওয়ার জন্য ১৯২৯ সালে বিটি পড়ার জন্য ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ভর্তি হন। পাস করে ১৯৩১ সালে চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। কিছুদিন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে দ্বিতীয় মৌলবী হিসেবে চাকরি করেন। এর পর চট্টগ্রাম সরকারি মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে দুই মাস এবং পরে কাজেম আলী বেসরকারি হাইস্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন। ১৯৩৩ সালে খুলনা জেলা স্কুলে দ্বিতীয় পণ্ডিতের পদে স্থায়ীভাবে যোগ দেন। ১৯৩৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে সহকারী ইংরেজি শিক্ষক পদে যোগ দেন। ১৯৪১ সালে কৃষ্ণনগর কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৩ সালে যোগ দেন চট্টগ্রাম কলেজে। এ কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচনে দাঁড়ান ও জয়ী হন। ১৯৫৯ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন আবুল ফজল। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন এবং ১৯৭৭ সালের ২৩ জুন এ পদ ত্যাগ করেন।

আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সম্পাদকও হন। সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার থেকে মানুষকে মুক্ত করা।  ১৯২৬ সালে তারা প্রকাশ করেন মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখা। মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন। এ গোষ্ঠী ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু করে।

সেকালে সমাজ সচেতন লেখক হিসেবে আবুল ফজলের সুনাম ছিল। তার লেখায় উঠে এসেছে স্বদেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সত্যনিষ্ঠা ও মানবতাবোধ। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে তীব্র প্রতিবাদ জানান। উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম ও ভ্রমণকাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- জীবনপথের যাত্রী, রাঙ্গা প্রভাত, চৌচির, মাটির পৃথিবী, আয়েশা, আবুল ফজলের শ্রেষ্ঠ গল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, সমাজ সাহিত্য রাষ্ট্র, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা, রেখাচিত্র, সফরনামা ও দুর্দিনের দিনলিপি।

আবুল ফজল অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬০), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৩), নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৮০), মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), আব্দুল হাই সাহিত্য পদক (১৯৮২) ও স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর ২০১২)। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

নিউজনেক্সটবিডিডটকম/এসকেএস


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ