Saturday, June 20th, 2020
জলে যার বাস, ডাঙ্গায় তার আহার!
June 20th, 2020 at 10:24 pm
জলে যার বাস, ডাঙ্গায় তার আহার!

শামীম আহমেদ :

ব্রাজিলের বনিতোর সচ্ছ জলের জলাশয় দেখার বড় ইচ্ছা। সচ্ছ জল দেখার জন্যে বনিতোই বা কেন? আসলে জলের সচ্ছতাই এখানে এক ধরনের মাছ ও তার খাবার হিসেবে গাছের ফলের মধ্যে ঘটিয়েছে অবিশ্বাস্য সংযোগ। প্রতিদিনই জন্ম দিচ্ছে খাবার আহরণের বিস্ময়কর এক দৃশ্য। এ বিস্ময় নিজ চোখে না দেখলে আফসোসতো থেকেই যাবে।

বনিতো শব্দের অর্থ বিউটিফুল বা সুন্দর। ব্রাজিলের কার্স্ট এলাকা থেকে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম নামক উপাদান মিশ্রিত জল প্রবাহিত হয় বনিতোর জলাশয় বা নদীগুলো দিয়ে। এসব উপাদানই নদীর জলকে রাখে ক্রিস্টালের মতো সচ্ছ ও পরিষ্কার।

বনিতোর এই সচ্ছ পানিতে বাস করে পিরানহা, পাকো, ডরিডো নামের বিভিন্ন মাছ। আরো এক ধরনের বিশেষ মাছ এই জলে আছে যার জন্যেই আজকের লেখা। প্যারাপাতুঙ্গা!

সচ্ছ জলে ঝাকে ঝাকে প্যারাপাতুঙ্গা বাস করলেও তাদের চোখ থাকে উপরের দিকে, ডাঙ্গায়। তারা যে, খাবার খায় ডাঙ্গা থেকে! কি আশ্চর্য! জলের মাছ অথচ খাবার তার ডাঙ্গায়!

আর তাদের এই খাবার পেতে সাহায্য করে ব্রাউন ক্যাপাচিনস নামের এক ধরণের বানর। যারা নদী তীরে জন্মে থাকা বেরি জাতীয় এক রকমের গাছের ফল খেয়ে বেচে থাকে। থোকায় থোকায় ধরে থাকা এই ফল ব্রাউন ক্যাপাচিন্স গাছের ডাল থেকে ডালে গিয়ে গিয়ে সংগ্রহ করে। কিন্তু এই খাবারতো প্যারাপাতুঙ্গারও দিনের আহার। অথচ প্যারাপাতুঙ্গা গাছ চড়া জানে না। তাহলে? এখানেই বনিতোর প্রকৃতির খেলা।

বনিতোর জল এতো সচ্ছ যে মাছ নিচ থেকে বানরকে অনুসরণ করে। বানর যেখানে যেখানে যায় পিছু পিছু ঝাকে ঝাকে প্যারাপাতুঙ্গাও যায়। বানর যখন ফল ছিড়তে গিয়ে দুই একটা ভুলবশত ফেলে তাই নিয়ে পানির তলায় যুদ্ধ করে প্যারাপাতুঙ্গা। কার আগে কে নিবে সেই ফল। এভাবেই চলে বেশ ক্ষণ।

জল থেকে এক মিটার দুই মিটার উচুতে থাকে বেরি জাতীয় এ গাছগুলোর ডাল। সেই ডালে বানর দিব্যি ফল খেতে পারলেও ভয় তাদেরও আছে। তাদের শিকারের জন্যে সেই জলে ঘাপটি মেরে থাকে ২০০ কেজি ওজনের এনাকুন্ডা। যখনই এনাকুন্ডার অস্তিত্ব টের পায় বানর ভয়ে পালায়। চলে যায় উচু গাছের আগায়। বানর চলে গেলে প্যারাপাতুঙ্গার কি হবে। সেতো খায় বানরের ফেলে দেয়া ফল।

অন্য উপায় যখন নেই। নিজেই তখন তার উপায়। জল থেকে উঠে আসে ১ মিটার উচুতে শূন্যতায়। তারপর গাছের ডাল থেকে ছিড়ে খায় ফল এই অবিশাশ্ব্য পারাপাতুঙ্গা।

এই দৃশ্য না দেখে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো??

ছবি ও তথ্য কৃতজ্ঞতাঃ বিবিসি’র Seven Worlds One Planet ( David Attenborough) 

গবেষনাঃ JONNY KEELING and SCOTT ALEXANDER.


সর্বশেষ

আরও খবর

“তাসের খেলায় একটি জোকার নষ্ট হবার কষ্ট”

“তাসের খেলায় একটি জোকার নষ্ট হবার কষ্ট”


রাজশাহীর গানের রাজা

রাজশাহীর গানের রাজা


সোহাগি প্রলেপ; নেসেসারি ইলিউশান

সোহাগি প্রলেপ; নেসেসারি ইলিউশান


কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!

কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!


বর্ণিল অর্ধশত

বর্ণিল অর্ধশত


ভয়ের রাজ্য!

ভয়ের রাজ্য!


প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা

প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা


করোনার ক্রান্তিলগ্নে দাড়িয়ে বিশ্ব, আসলে দায় কার?

করোনার ক্রান্তিলগ্নে দাড়িয়ে বিশ্ব, আসলে দায় কার?


লেমিনেটেড পোস্টার: কেউ কিছু বলছে না দেখেই আদালতের রুল

লেমিনেটেড পোস্টার: কেউ কিছু বলছে না দেখেই আদালতের রুল


ধর্মদ্রোহে আটক বয়াতী, প্রগতিশীলদের প্রতিবাদ-নিন্দা

ধর্মদ্রোহে আটক বয়াতী, প্রগতিশীলদের প্রতিবাদ-নিন্দা