Monday, June 27th, 2022
জহির রায়হানের মৃত্যু দেখাতে চান খিজির
March 13th, 2017 at 9:10 pm
জহির রায়হানের মৃত্যু দেখাতে চান খিজির

সজিব ঘোষ, ঢাকা:

বাংলা চলচ্চিত্রে যে গল্প দেখে অভ্যস্ত সাধারণ দর্শক, দৃশ্যায়নের সুনিপুণ কারুকার্যে সেলুলয়েডের সেই ভাষা বদলে দিয়েছেন নির্মাতা খিজির হায়াত খান। এই পরিচালকের প্রথম ছবি ‘অস্তিত্বে আমার দেশ’; যেখানে তিনি দেখিয়েছেন একজন বীরশ্রেষ্ঠর জীবন ও কর্ম কিভাবে বদলে দিতে পারে পলায়নপর এক যুবকের দৃষ্টিভঙ্গি। ‘অস্তিত্বে আমার দেশ’ছবিটি দারুণ প্রশংসিত হওয়ার পর খিজির হায়াত খান নির্মাণ করেন দেশের প্রথম স্পোর্টস ফিল্ম ‘জাগো’। ফেরদৌস-বিন্দু অভিনীত ফুটবল কেন্দ্রিক এই চলচ্চিত্রে বিয়োগান্তক বিজয়ের যে চিত্র তিনি এঁকেছিলেন,রূপালী ক্যানভাসে তা দেখে মুগ্ধ হয়েছিল দর্শক। তারপর সামান্য বিরতি নেন খিজির হায়াত খান,দেশ ছেড়ে চলে যান কানাডায়। দেশটির ভ্যাঙ্কুভারে ‘মাস্টার্স ইন ডিজিটাল মিডিয়া অ্যান্ড কনসেনট্রেশন ইন ফিল্ম মেকিং’কোর্সে ভর্তি হন। এ সময় তিনি ‘আই ফর অ্যান আই’ শিরোনামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন যা ২০১৫ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।

ফের পুরনো অধ্যায় শুরু করেন নতুন করে। ‘প্রতিরুদ্ধ’ নামে তার তৃতীয় ছবির কাজ অর্থের অভাবে এখনো বন্ধ। তাই বলে কি থেমে থাকবে ভাবনা? মোটেও নয়। চিন্তার খোরাকে এবার খিজির হায়াতের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে জহির রায়হান। এখানে,‘কে’ নয় হয়তো দেখা যাবে ‘কি’ ছিলো জহির। একি শুধুই কারো নাম, নাকি অস্তিত্ব। জহির রায়হানের বেড়ে ওঠা, কর্ম জীবন, আন্দোলন কর্মী এমনকি তার মৃত্যুর রহস্যের দ্বার উন্মোচনের ভাবনা এখন কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে এই নির্মাতাকে। কেননা এবার তিনি জহির রায়হানকে কেন্দ্র করে তৈরি করতে যাচ্ছেন ‘জহির-লেট দেয়ার বি লাইট’।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খান’র মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র সহ সম্পাদক সজিব ঘোষ। জহির রায়হান ও ‘জহির-লেট দেয়ার বি লাইট’ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা বিনিময় হয়েছে বিস্তর। পাঠকদের জন্য আজ থাকল সেই আলোচনা।


কেমন আছেন?

ভালো নেই।

কেন?

এই সব কিছু নিয়ে কেমন জানি আটকে আছি।মনে হচ্ছে আটকে আছি সবদিক থেকেই।

বেশ কিছুদিন ধরেই আপনি শুধু টিভিসির মধ্যেই বন্দী, কেন?

আসলে আমি এতো টিভিসি করিনা। আমার শেষ টিভিসি ছিল ভ্যাট নিয়ে। ভ্যাট দেয়াটা আসলে কতটুকু জরুরি। এবং এটা মুক্তিযুদ্ধের একটা কাহিনী নিয়ে ছিল। তো আমি যেটা বললাম এতো টিভিসি আমি করিনা। তবে যেটাই করি ওটার সাথে আমার একটা কানেকশন থাকতে হবে।

টিভিসির বাইরেওতো অনেক দিন ধরে কিছু করছেন না?

বেঁচে থাকার জন্য কিছু এভি কিছু ডকুমেন্টারি আমাকে করতে হয়েছে। সেনাবাহিনীর জন্য কিছু কাজ আমি করি। ওদের কিছু কাজ করেছি। তবে হ্যা ওই রকম বড় কোনো কাজ…লাস্ট বড় কাজ ছিল ভ্যাটের টিভিসিটাই যেটা ডিসেম্বর মাসে এসেছে।

আপনার তৃতীয় সিনেমা আটকে আছে…

হ্যা,প্রতিরুদ্ধ আটকে আছে।

প্রতিরুদ্ধের গল্পটা তো সেনাবাহিনী কেন্দ্রিক?

না,সেনাবাহিনী কেন্দ্রিক না। প্রতিরুদ্ধ একটা ক্যারেকটার সেনাবাহিনীর একজন কর্মরত মেজরের।

আপনি নিজেই তো সেনাবাহিনী ছেড়ে এসেছেন, তাহলে সেনাবাহিনী কেন?

না সেনাবাহিনী ছেড়ে আসা না, আমি মেডিকেল বোর্ড আউট হয়েছিলাম। ছেড়ে আসলেই যে একটা জিনিসের প্রতি আমার আকর্ষণ বা ভালোবাসা নষ্ট হয়ে যাবে তাতো না। আমি সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করি,আমার এখন একশো প্লাস কোর্সমেট আছে, ছোটভাই, বড়ভাই অনেকেই সেনাবাহিনীর সাথে জড়িত। সেনাবাহিনীর প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আছে। হ্যা,আমি থাকতে পারিনি সেটা আমার দুর্ভাগ্য কি সৌভাগ্য,সেটা অন্য কথা।

তাহলে কি আপনার সিনেমায় ফেরা হচ্ছে না?

আমার প্ল্যান হচ্ছে প্রতিরুদ্ধটাকে শেষ করা। যেহেতু এটা আটকে আছে। আমি চেষ্টা করছি এটাকে শেষ করার জন্য। তারপরও যদি এটা আটকে যায়, তাহলে হয়তোবা আমাকে প্রতিরুদ্ধটা রেখে সামনের যে প্রজেক্টগুলো নিয়ে আমি কাজ করবো সেটা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বাট আমি প্রতিরুদ্ধটা শেষ করতে চাই।

আপনার সামনের প্রজেক্টগুলোর মধ্যে কি কোনো সিনেমা রয়েছে?

অবশ্যই। প্রতিরুদ্ধের পরে আমার জহির রায়হানকে নিয়ে একটা সিনেমা বানানোর ইচ্ছা। আমি জীবনে আরেকটা বায়োপিক বানাতে চাই,সেটা জহির রায়হানকে নিয়ে। আমার ইচ্ছা আছে প্রতিরুদ্ধটা শেষ হলে, আগামী বছরের শেষের দিকে যদি রিসার্চটা কমপ্লিট হয়; আমার যদি মনে হয় যে রিসার্চ কমপ্লিট এবং জহির রায়হানকে নিয়ে আমি গল্পটা পেয়েছি তাহলে তাকে নিয়ে আরেকটা বায়োপিক করা হবে।আমি প্রথম বায়োপিক করেছিলাম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে নিয়ে।

এতো দিন পর কেন আবার বায়োপিক, কেনই বা জহির রায়হান?

বায়োপিক কেন সেটা না। এজ অ্যা ফিল্মমেকার আমার কাছে মনে হয় জহির রায়হানকে বলা উচিত আমাদের দেশের ওয়ান অব দ্য মোস্ট ট্যালেন্টেড ফিল্ম মেকার। এই লোকটা ৩৭ বছর বয়সে মারা গেছেন এবং তিনি ওই ৩৭ বছরে যা দিয়ে গেছেন সেটার জন্য আজও আমরা তার কাছে ঋণী। এই লোকটা ৫২, ৬৯ ও ৭১ সাল তিনটা মেজর পিলার, ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এ তিন সময়েই একটিভ ছিলেন।

একজন ফিল্মমেকার কিভাবে একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে দেখেন এবং কিভাবে ওইটাকে তার আর্টের মাধ্যমে জাতির সামনে নিয়ে আসেন সেই জিনিসটা খুবই ইন্টারেস্টিং। সেদিক থেকে যদি দেখানো যায় আমার মনে হয় জহির রায়হানের যে স্পিরিটটা,যেটা হয়তো চাপা পড়ে গেছে সেটাকে বাঁচিয়ে তোলা যাবে।

আপনি নির্মাতা দেখেই কি একজন নির্মাতাকে নিয়ে বায়োপিক করতে চাচ্ছেন?

আমি তো এর আগে জাগো বানিয়েছিলাম ফুটবলারদের নিয়ে। তখন তো আমাকে কেউ প্রশ্ন করেনি যে ফুটবলারই কেন? আমার দেশের যিনি সবচেয়ে প্রতিভাবান নির্মাতা ছিলেন, তিনি হঠাৎ করে মরে গেলেন, কিভাবে তিনি মারা গেলেন সেটা নিয়ে আজও কন্ট্রোভার্সি আছে। আমি জানতে চাই আসলে জহির রায়হানসহ এতজন বুদ্ধিজীবী যে মারা গেলেন। এটার রুটটা কোথায়? এটা কি শুধুই পাকিস্তানিরা মেরে গেল নাকি এখানে আরো কোনো ষড়যন্ত্র ছিল?

এখন সবারটা করা তো সম্ভব না,তো একজনের বায়োপিক দিয়ে যদি পুরো বিষয়টাকে আমাদের জেনারেশন বা তার পরের প্রজন্ম তাদের আমলে আনা যায়। আর ফিল্মমেকার হয়ে ফিল্মমেকারের প্রতি একটা দায়িত্ব তো থাকেই। আমাকে যদি বলা হয় বাংলাদেশের কোন ফিল্মমেকারকে আপনি আইডল মানেন, আমি বলবো জহির রায়হান। শুধু প্রতিভা নয় তার কারেজটা অন্য লেভেলের ছিল। তিনি সঠিক জায়গায় সঠিক কথা বলতে দ্বিধা বোধ করতেন না।

ওই সমসাময়িক সময় তার ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার সহ আরো অনেক বুদ্ধিজীবী ছিলেন, তাদের কি কোনো টাচ পাওয়া যাবে এই মুভিতে?

অবশ্যই, জহির রায়হানকে নিয়ে ছবি বানালে শহীদুল্লাহ কায়সার তো আসবেনই। তারপর ওনার চাচাতো ভাই যিনি এখনো বেঁচে আছেন,ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির শাহরিয়ার কবির এমন কিছু ক্যারেকটার তো আসবেই। এখনো আমরা রিসার্চের প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। গল্পটা কিভাবে আমরা বলতে চাই এটা রিসার্চ কমপ্লিট না হলে বলা মুশকিল।

জহির রায়হান সম্পর্কে জানেন তারাই, যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু শুধু সিনেমা নয়, এর বাইরেও তার একটা ব্যক্তি জীবন ছিল। তার পরিবারের যারা আছেন, তার ছেলেরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার ইচ্ছা আছে। এরইমধ্যে একজনের সঙ্গে আমার কথাও হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমরা বসবো। কারণ একটা মানুষকে সবচেয়ে বেশি জানে তার ছেলে মেয়েরা, যদি দূরত্ব না থাকে। যেহেতু বায়োপিক সেহেতু তার পরিবারের একটা ম্যোরাল সাপোর্ট যাতে থাকে। এবং দেশের একজন আইকনকে নিয়ে কাজ হবে,তাই দায়িত্ববোধের জায়গাটা অনেক বেশি থাকবে। তবে হ্যা আমার কাছে কেন যেন মনে হয় এই ছবিটা করতে গেলে এর জার্নিটা অন্যান্য সিনেমার মতো স্বাভাবিক হবে না। এখানে অনেক কিছু আসতে পারে যে জিনিসটা আমি দেখাতে পারবো কি পারবো না। ওই রকম একটা জায়গায় হয়তো আমাকে যেতে হতে পারে।

কারণ এই লোকটা হঠাৎ করে মিরপুরে গেলেন আর বিহারীরা গুলি করে দিল এটা হতে পারেনা। বা একজন সিভিলিয়ান হয়ে তিনি সেখানে গেলেনই বা কেন! ইতিহাসের পাতায় আছে সেনাবাহিনীর কিছু লোক মিরপুরে যাচ্ছিলো, ওখানে লুকিয়ে থাকা বিহারীদের অ্যাটাক করার জন্য।উনি একমাত্র সিভিলিয়ান ওখানে কেন গেলেন? একজন আনপ্রিপেয়ার্ড লোকের তো ওখানে যাওয়ার কথা না। অনেকগুলো প্রশ্ন আছে, যেগুলো নিয়ে আমাদের রিসার্চ করতে হবে।

জহির রায়হান একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গল্পকার, ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী।আপনি কি তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধাও বলবেন?

অবশ্যই তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ কি শুধু অস্ত্র হাতেই হয়েছিল? মানুষ ফুটবল খেলে, ভাস্কর্য তৈরি করে,গান গেয়ে,ছবি এঁকেও যুদ্ধ করেছে। এ যুদ্ধ জেতার জন্য অনেক ধরণের যোদ্ধা ছিল। জহির রায়হান একজন ফিল্মমেকার ছিলেন,তিনি যে সিনেমা করেছিলেন ‘জীবন থেকে নেয়া’তাতে মুক্তিযুদ্ধের অনেক কিছু ছিল। ‘স্টপ জেনোসাইড’যেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কিভাবে জেনোসাইড হয়েছিল সেটাকে তুলে ধরেছেন। তিনি অবশ্যই একজন মুক্তিযোদ্ধা,তার অস্ত্র ছিল ক্যামেরা।

আপনার বায়োপিকে কোন জহির রায়হানকে দর্শক দেখবেন?

দেখুন রিসার্চটা যদি শেষ না হয়,এটা বলা খুব কঠিন যে আমরা আসলে কোন দিক দিয়ে যাবো। তবে আমি দেখাতে চাই আসলে একটা ফিল্মমেকারের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের ৫২, ৬৯ ও ৭১ সালের তিনটা মেজর পিলারকে জহির রায়হান কিভাবে দেখেছিলেন। অবশ্য সেটা করতে গেলে তার পারিবারিক ও মনোস্তাত্ত্বিক  বিষয়গুলো এমনিতেই উঠে আসবে।কতটুকু আসবে সেটা সময়ের ব্যাপার, যখন চিত্রনাট্য করবো তখন বোঝা যাবে।

এটা সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক সিনেমা হবে বোঝাই যাচ্ছে। দর্শক কি গ্রহণ করবে?

ইতিহাসকে দেখাতে গেলেই সিনেমা তথ্যভিত্তিক হবে তা কিন্তু নয়। আমরা চেষ্টা করবো সেখানে বাণিজ্যিক জিনিসগুলো ধরে রাখার জন্য। আমি কিন্তু সিনেমার মধ্যে সিনেমা দেখাবো, একজন ফিল্মমেকার ফিল্ম বানাচ্ছে সেটা দেখাবো। সিনেমা যখন বানায় তখন সেটা তথ্যভিত্তিক হয় না,ইট ইজ গ্ল্যামার। সেখানে গান থাকবে,সেখানে তিনি যে ছবিগুলো নিয়ে কাজ করেছেন তা দেখাতে গেলেও তো গ্ল্যামার দেখাতে হবে। একটা ফিল্মমেকার সিনেমা দেখাচ্ছে সেটা যদি আমি দেখাতে যাই তখন এমনিতেই গ্ল্যামার চলে আসবে।

যেহেতু আমি এখনো চিত্রনাট্যটা করিনি, তাই এই মুহূর্তে আমি কাহিনীটা বলতেও চাচ্ছিনা। কোন দিকে আমি এগোবো সেটা নির্ভর করবে রিসার্চটা আমাকে কি রেজাল্ট দেয় সেটার উপর। আমার একটা টিম অলরেডি ঠিক করা আছে। আস্তে ধীরে আমি তাদের গোছাচ্ছি,যারা এ রিসার্চটা করবে।

৫২’র ভাষা সৈনিক ১৯৬৪ সালে গিয়ে উর্দুতে সিনেমা তৈরি করলেন বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?

দেখুন একজন ফিল্মমেকার যখন ফিল্ম বানায় তার মাথায় তখন অনেক কিছু কাজ করে। ‘সঙ্গম’সিনেমাটি তিনি বানিয়েছিলেন ৬৪’তে। তখনো কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়নি। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেয়ার আগে আমরা কিন্তু সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করেছিলাম,স্বাধীন দেশের জন্য নয়। পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর,দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লড়াই শুরু করি।

জহির রায়হান তখন পাকিস্তানের একজন ফিল্মমেকার। তখন শুধু পূর্ব পাকিস্তান নয়, পুরো পাকিস্তানের ফিল্মমেকার হয়েই তিনি বিশ্বের দরবারে যেতে চেয়েছিলেন। উনি ওই সিনেমাকে পুরো পাকিস্তানের সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন। হয়তো এজন্যই তিনি উর্দুতে সিনেমাটি করেছিলেন এবং এটি ছিল পাকিস্তানের প্রথম কালার ছবি। আমি তো এখানে নেগেটিভ কিছু দেখি না।তখনও তো রাষ্ট্র ভাগ হয়নি, ৬৪ সালে তো তিনি জানতেন না যে ৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়ে যাবো। তখন তিনি পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন এবং ফিল্মমেকারও পাকিস্তানেরই ছিলেন।

জহির রায়হানের বায়োপিকে অজানা কি থাকবে?

দেখুন উনার মৃত্যু নিয়ে বেশ মতপার্থক্য রয়েছে। কতটা সত্যি কতটা মিথ্যা জানি না। তবে ইতিহাসে যেভাবে বলা আছে যে উনি মিরপুরে গিয়েছেন ওনার বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে। সেখানে তাকে কিছু বিহারীরা গুলি করেছে বা গোলাগুলির মধ্যে তিনি মারা গেছেন। পরবর্তীতে তার লাশটা আর পাওয়া যায়নি। আমার কাছে কেন যেনো মনে হয় ঘটনার আড়ালে আরো কিছু ঘটনা আছে। ওই ঘটনাটা কি তা এখনো আমরা কোনো বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাইনি। কিন্তু কোথায় যেন মনে হয় কিছু ঘাপলা আছে, কোথায় যেন মনে হয় কিছু সত্য গোপন আছে। আমরা চেষ্টা করবো এটা নিয়ে ডিপলি রিসার্চ করার।

নতুনত্ব কিছু না দিলে তো হবে না। আমি তো চাইনা যে মানুষ হলে এসে আমার ছবি দেখে বোরিং ফিল করুক। এটা কোনো ফিল্মমেকার চায়? তাই চেষ্টা তো থাকবেই কিছু জিনিস দেয়ার যেটা হয়তো মানুষ জানে না বা জেনেও না জানার ভান করে। তবে সত্যিটাই তুলে ধরা হবে, কোনো ধরণের ফিকশন করা হবেনা।

আপনি বার বার জহির রায়হানের মৃত্যুর উপর জোর দিচ্ছেন, তাহলে সিনেমাতে কি তার মৃত্যুর দৃশ্য আমরা দেখতে পাবো?

আমি জানি না, এখনো চিত্রনাট্য করিনি। রিসার্চ শুরু করিনি। তবে সত্যি যেটা সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করবো। তার জন্মটা যদি আমি তুলে আনি, তার বেড়ে উঠাটা যদি তুলে ধরি তাহলে তার মৃত্যুটাও তো আমাকে দেখাতে হবে। আমরা তো ইতিহাস থেকে জেনেছি যে তিনি ৩০ জানুয়ারি মিরপুরে কিছু পাকিস্তানি এবং বিহারীদের গুলিতে মারা গেছেন। সো গুলিটাতো তিনি খেয়েছেন। হ্যা এখন তার লাশটা কি ওই বধ্যভূমিতে ফেলে দেয়া হয়েছে কিনা সেটা কিন্তু আমরা জানিনা। বাট ইটস এ আর্ট অব ফিকশন, সো অ্যাজ এ ডিরেক্টর আই হ্যাভ দ্য লিবার্টি টু ইমপ্রোভাইজ। আরো কোনো তথ্য পাওয়া যায় কিনা সেটা দেখতে উনার পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করবো। প্রয়োজনবোধে সরকার অথবা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাছেও যাবো। তবে দিন শেষে আমি আর আমার টিম যেটা মনে করি,যেভাবে আমরা গল্পটা বলতে চাই সেভাবেই বলবো।

সিনেমার নাম কি হতে পারে চিন্তা করেছেন কি?

আমি আসলে যেভাবে চিন্তা করেছি, প্রাথমিকভাবে একটি ওয়ার্কিং টাইটেল আমার মাথায় রয়েছে। ‘লেট দেয়ার বি লাইট’এই সিনেমাটা তিনি শেষ করতে পারেননি। এই লোকটা মারা গেছেন আমার সবচেয়ে পছন্দের একজন ট্যালেন্টেড ডিরেক্টর এবং তার মাধ্যমেই আমি কিছু খোঁজার চেষ্টা করছি। সো ‘লেট দেয়ার বি লাইট’। তার অসমাপ্ত ওই সিনেমার নামেই আমি আমার ফিল্মের ট্যাগলাইন রাখতে চাই ‘জহির-লেট দেয়ার বি লাইট’।

দর্শকরা কেন দেখবেন এই সিনেমা?

কে কি কারণে সিনেমা দেখেন তা তো আমি বলতে পারবো না। তবে আমার চেষ্টা থাকবে একজন ফিল্মমেকারের জীবন কাহিনীর মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটগুলোকে দেখানো।এবং আমার মনে হয় না এভাবে আমাদের দেশে কোনো ফিল্ম হয়েছে। যারা আমাদের দেশের ইতিহাসকে ধারণ করে,যেসব বুদ্ধিজীবীরা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি যাদের সম্মান রয়েছে আমরা মনে হয় সেইসব দর্শককে টাচ করতে পারবো। সিনেমা তো আর সবার জন্য হয়না,অবশ্যই জহিরও সবার জন্য হবে না। তবে আমার বিশ্বার যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এখনো কোনো না কোনো ভাবে লালন করেন তাদের টাচ করতে পারবো।

অনেক ভালো থাকবেন। সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনিও ভালো থাকবেন। নিউজনেক্সটবিডি ডটকম ও এর পাঠকদের জন্য রইলো অনেক ভালোবাসা।

সম্পাদনা: প্রীতম সাহা সুদীপ


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার