Sunday, January 10th, 2021
জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
January 10th, 2021 at 12:17 pm
এবার এ দিনটি ফিরে এসেছে এমন এক সময়ে যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার টানা এক যুগের নেতৃত্বে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে দেশ।
জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আজ ১০ জানুয়ারি, ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। এর আগে পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি লন্ডনে যান। তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকা ফেরেন। এবার এ দিনটি ফিরে এসেছে এমন এক সময়ে যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার টানা এক যুগের নেতৃত্বে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে দেশ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চেও প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তার সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাঁকে গ্রেফতার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। পরে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্র্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে।

জাতির জনক পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোর রাতে ইংরেজি হিসাবে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনকে বিমানে তুলে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে।

ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন।


১০ তারিখ সকালে দিল্লিতে নামেন সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, প্রধান নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন অতিথি ও দেশটি জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে তিনি আখ্যায়িত করেছিলেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা হিসেবে।’

অবশেষে বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছালেন। এ সময় আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। পরের দিন দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা হয়- স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হলেন। আনন্দ-বেদনার অশ্রুধারা নামলো তার দু’চোখ বেয়ে। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ বাতাস।

জনগণ-মন-নন্দিত শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে ৭ মার্চের মতোই আরেক ঐতিহাসিক ধ্রুপদী বক্তৃতায় বলেন, ‘যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কি-না। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’ সশ্রদ্ধচিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।

রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী হকার্স লীগ আয়োজিত সভায় তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ শনিবার বলেন, ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পায় আমাদের রক্তার্জিত স্বাধীনতা।

দিবসটি স্মরণে মন্ত্রী ড. হাছান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। সেই প্রচন্ড উচ্ছ্বাসের মধ্যেও বাঙালির মনের গভীরে একটি কালো দাগ ছিলো- বঙ্গবন্ধু কখন আসবেন। আমাদের রক্তার্জিত স্বাধীনতা সেদিনই পূর্ণতা পেয়েছিলো, যেদিন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ই জানুয়ারি বাংলাদেশে পদার্পণ করেন।’

‘বঙ্গবন্ধু মুজিব হাজার বছরের ঘুমন্ত বাঙালিকে স্লোগান শিখিয়েছিলেন- বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো, তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ; আর সেই স্লোগানে উদ্দীপ্ত লাখ লাখ বাঙালি বুকের তাজা রক্ত ঢেলে সেই রক্তিম স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলো,’ বলেন হাছান মাহমুদ।


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু


৭ ফেব্রুয়ারি থেকে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


জয়ে শুরু বাংলাদেশের ক্রিকেট, প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

জয়ে শুরু বাংলাদেশের ক্রিকেট, প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন


বৃষ্টি কমলে শীত বাড়বে

বৃষ্টি কমলে শীত বাড়বে


টিকা দিতে রাজধানীতে ৩০০ কেন্দ্র করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকা দিতে রাজধানীতে ৩০০ কেন্দ্র করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


১২ মাসের বেতন না দিলে পরিষদ বাতিল: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

১২ মাসের বেতন না দিলে পরিষদ বাতিল: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী


নতুন ভোটার ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬; খসড়া প্রকাশ

নতুন ভোটার ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬; খসড়া প্রকাশ


বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজঃ ওয়ানডের দল ঘোষণা বিসিবির

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজঃ ওয়ানডের দল ঘোষণা বিসিবির


করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সুনাম বেড়েছে, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সুনাম বেড়েছে, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর