Saturday, December 24th, 2016
ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চা বিক্রেতা
December 24th, 2016 at 9:23 pm
ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চা বিক্রেতা

ঝিনাইদহ: জেলার মহেশপুর উপজেলা ৫ ডিসেম্বর শত্রু মুক্ত হয়, তার আগের দিন রাতে ৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তি বাহনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধের নায়ক মাহাতাব উদ্দিন এখন এখন চা-বিক্রেতা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মহেশপুর থানায় একাধিক সম্মুখ যুদ্ধের অগ্রণী নায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন। পিতা মৃত্যু পাচু মন্ডল, মাতা-শহর বানু ৪ ডিসেম্বর রাতে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ করে মহেশপুরকে শত্রুমুক্ত করে এবং ৫ ডিসেম্বর বিজয়ের পতাকা ওড়ায় তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ ফয়জুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে।

সেই সময় মাহাতাব উদ্দিনের বয়স ছিল ৩৫/৩৬ বছর। সব সময় সে এসএমজি চালাতো। আগে থেকেই মুজাহিদ বাহিনীর অভিজ্ঞতা থাকায় ভারতের ট্রেনিং এ তার দক্ষতার পরিচয় ঘটে। মাহাতাব উদ্দিন মহেশপুর পুরাতন সোনালী ব্যাংকের মধ্যে ছোট একটি দোকান দিয়ে এখন চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। এর আগে ভ্যান চালিয়েছে দীর্ঘ কয়েক বছর। মহেশপুর ৭/৮টি সম্মুখ যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। সবকটি যুদ্ধে মাহাতাব উদ্দিন অসীম সাহসিকতার কারণে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়।

২০ নভেম্বর ১৯৭১ সালে দত্তনগর যুদ্ধে তার স্ত্রী জাহানারা বেগম সন্তান প্রসবকালে মৃত্যু বরন করেন। কিন্তু তুমুল যুদ্ধ চলায় সেদিন মাহাতাব উদ্দিন স্ত্রীকে শেষ বারের মতো দেখতে আসতে পারেনি। কারণ যেভাবেই হোক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করতে হবে এটাই ছিল তার মুল লক্ষ্য। তার সেই ইচ্ছে পূরন হয়েছিল কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে শেষ দেখা হয়নি। বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন দুঃখের সাথে এসব কথা বলেন, দত্তনগর এলাকায় একাধারে কয়েক দিন যুদ্ধ চলেছিল।

এ সময় তার হাতে গুলি লেগেছিল এবং পায়ে সেলের স্পিলিন্ডার লেগে সে আহত হয়। এখনও তার কোনো ভালো ঘর বাড়ি নেই, একটু বৃষ্টি হলেই আগে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে সেই অবস্থায় বসবাস করছে। সরকারের দেয়া ভাতা ছাড়া তারা আর কিছুই পায় না। বর্তমানে তার ৪ ছেলে ১ মেয়ে। চা বিক্রি করে বর্তমান যুগে এত বড় সংসার চালানো খুবই কষ্টকর।

মাহতাব উদ্দিন বলেন, সেই সময় শান্তি বাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর অনেকেই আজো বীরদর্পে ঘোরা-ফেরা করে এটাই তার কাছে কষ্টদায়ক। তিনি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, কিন্তু তার কথা এখন কেউ স্মরণ করে না।

প্রতিনিধি, সম্পাদনা: জাহিদ

 


সর্বশেষ

আরও খবর

হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের জামাত আদায়

হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের জামাত আদায়


রডবোঝাই ট্রাকে বাড়ি ফেরার পথে গাইবান্ধায় প্রাণ গেল ১৩ জনের

রডবোঝাই ট্রাকে বাড়ি ফেরার পথে গাইবান্ধায় প্রাণ গেল ১৩ জনের


ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে স্ট্রোক করে বাবার মৃত্যু

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে স্ট্রোক করে বাবার মৃত্যু


বিষ মিশিয়ে বানর হত্যা মামলায় নারীকে কারাগারে প্রেরণ

বিষ মিশিয়ে বানর হত্যা মামলায় নারীকে কারাগারে প্রেরণ


অঘোষিত লকডাউনের মাসেও সড়কে গেছে ২১১ প্রাণ

অঘোষিত লকডাউনের মাসেও সড়কে গেছে ২১১ প্রাণ


মারা গেলেন দেশের দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলী

মারা গেলেন দেশের দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলী


নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সরকারী ত্রাণ পেলো ৩৩,০৮২টি পরিবার

নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সরকারী ত্রাণ পেলো ৩৩,০৮২টি পরিবার


করোনা ভাইরাসে নারায়নগঞ্জে মোট আক্রান্ত ৬,২৫জন, মৃত্য ৩৯

করোনা ভাইরাসে নারায়নগঞ্জে মোট আক্রান্ত ৬,২৫জন, মৃত্য ৩৯


গাজীপুরে এক পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুরে এক পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা


লকডাউন জেলায় জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

লকডাউন জেলায় জানাজায় লাখো মানুষের ঢল