Sunday, September 25th, 2016
টাইগারদের রুদ্ধশ্বাস জয়
September 25th, 2016 at 10:52 pm
টাইগারদের রুদ্ধশ্বাস জয়

ঢাকা: আফগানিস্তানকে ২৫৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ওয়ানডেতে ৭  রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মাশরাফি-তামিমরা।

আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে পুরো ৫০ ওভার খেলে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করেছিল টাইগাররা। তামিম ইকবাল ৮০, সাকিব ৪৮ আর ইমরুল কায়েস করেছেন ৩৭ রান। তবে স্বাগতিকদের স্কোরটা তিনশ ছুঁতে পারতো। কিন্তু মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারনে সেটা আর সম্ভব হয়নি। আফগান পেসার দৌলত জাদরান তুলে নিয়েছেন চার উইকেট।

২৬৬ রানের লক্ষ্যে মাঠে নেমে স্বাগতিক শিবিরকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে তারা। পুরো ৫০ ওভার খেলে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান সংগ্রহ করে দলটি। ম্যাচটি আরো সহজ করে জিততে পারতো স্বাগতিকরা। কিন্তু ইমরুল কায়েস-সাব্বিরদের ক্যাচ মিসের মহড়ার কারনে সহজ ম্যাচটি কষ্ট করে জিততে হয়েছে টাইগারদের। এ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-০ তে এগিয়ে গেল মাশরাফি বাহিনী।

mahmud-ullah-bangladesh-cricket

দিবা-রাত্রির এ ম্যাচে টস জিতে স্বাগতিক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শুরুতেই সৌম্য সরকারের উইকেট হারিয়ে দারুণ চাপে পড়ে গিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু ওপেনার তামিম ইকবাল আর ওয়ান ডাউনে নামা ইমরুল কায়েসের ব্যাটে সে চাপ কিছুটা সময় পড়েই উবে যায়। নিজেদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে আফগান বোলারদের উল্টো চাপে ফেলে দেন এ দুই ব্যাটসম্যান। ইমরুল কায়েসের ব্যাট কিছুটা ধীর গতিতে চললেও তামিম ছিলেন পুরোপুরি ছন্দে। কখনো মারমুখী আবার কখনো আক্রমণাত্মক, দূর্দান্ত সব শট খেলে রানের গতি ধরে রেখেছিলেন খান পরিবারের এ ব্যাটসম্যান। এ দু’জনের ব্যাটে চড়েই বাংলাদেশ বড় পুঁজির ভিত পেয়েছিল। কিন্তু সে ধারা আর শেষের দিকে ধরে রাখতে পারেননি মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা।

দ্বিতীয় উইকেট জুঁটিতে দলীয় স্কোর বোর্ডে ৮৩ রান জমা করার পর বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত হেনেছিলেন মোহাম্মদ নবী। এ স্পিনারের বলে সামনের দিকে এগিয়ে মারতে গিয়ে বিপদে পড়েন ইমরুল কায়েস। ষ্ট্যাম্প উড়ে যায় তার। ফলে নামের পাশে ৩৭ রান নিয়ে সন্তুষ্ঠ থাকতে হয় তাকে। ৫৩ বলে ৬ বাউন্ডারি দিয়ে নিজের ইনিংস সাজিয়েছিলেন কায়েস। এরপর মাহমুদুল্লাহকে সাথে নিয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের চাপ ঠিকই প্রয়োগ করে রেখেছিলেন তামিম। এর মধ্যে ক্যারিয়ারের ৩৩ তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন এ ওপেনার। ইনিংসের ২২তম ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তামিম। ৬৩ বলে করা অর্ধশত রানের ইনিংস সাজাতে সাতটি বাউন্ডারি হাঁকালেও কোন ছক্কা হাঁকাতে পারেননি তিনি। রশীদ খানের করা ঐ ওভারের পঞ্চম বলে আরও একটি বাউন্ডারি দিয়ে দলীয় শত রানও পূর্ণ করেন তামিম।

তৃতীয় উইকেট জুঁটিতে রিয়াদও নিজেকে সেট করে নিয়েছিলেন উইকেটে। ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরির পথেও ছিলেন তামিম। ৮০ রান নিজের নামের পাশে জমা করে ফেলেছিলেন এ ওপেনার। তিনি নিজেও চাচ্ছিলেন নিজের ইনিংটাকে সেঞ্চুরি পর্যন্ত নিয়ে যেতে। কিন্তু ইনিংসের ৩৬তম ওভারেই ঘটে যায় বিপত্তি। আশরাফের করা ঐ ওভারের প্রথম বলেই পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন। নাভিন উল হক তামিমের মূল্যবান ক্যাচটি লুফে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেন। ৮০ রানের ইনিংসটি সাজাতে তামিম বল খরচ করেছেন ৯৮টি, বাউন্ডারি ছিল ৯টি।

এ নিয়ে তামিম পঞ্চমবারের মতো ৮০ রানের ঘরে গিয়ে আউট হলেন। এ ম্যাচের মধ্য দিয়েই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সব ফর্ম্যাটের ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন খান পরিবারের এ ক্রিকেটার।

tamim

তামিম সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পরও রানের চাকায় মরচে ধরতে দেননি রিয়াদ ও সাকিব। আফগান বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলেন দু’জনেই। তবে ধ্বংসাত্মক ছিল রিয়াদের ব্যাট। খুব দ্রুতই নিজের নামের পাশে আরও একটি অর্ধশত রান জমা করে ফেলেন। ক্যারিয়ারে এটা তার ১৫তম হাফ সেঞ্চুরি। একই সাথে ব্যাক টু ব্যাক হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। সর্বশেষ গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরেই অর্ধশত রান সংগ্রহ করেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। শেষ দিকে মোহাম্মদ নবীকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে আশরাফের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মি: কুল খ্যাত রিয়াদ। ৭৪ বলে পাঁচটি চার ও দু’টি ছয়ে নিজের নামের পাশে ৬২ রান জমা করেছিলেন তিনি।

মাহমুদুল্লাহ যখন বিদায় নেন দলের স্কোর বোর্ডে তখন জমা ৪০ দশমিক ৪ ওভারে ২০৩ রান। ৩০০ রান পাড় করা তখনো সাধ্যের মধ্যেই ছিল। কিন্তু এরপরই যেনো খেঁই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। ৫১ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের ভিত নড়বরে করে ফেলেন মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। মুশফিক (৬), সাব্বির (২), ও মাশরাফি ফিরে গেছেন (৪) রানে। তবে সাকিব আল হাসান নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন আজ। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে উজ্জ্বল ছিল সাকিবের ব্যাট। মাত্র ৪০ বল খেলে করেছেন ৪৮ রান। শেষ দিকে তাইজুলের করা ১১ রানের কল্যানেই ২৬০ রানের ঘর পাড় করে স্বাগতিক শিবির।

জয়ের জন্য ২৬৬ রানের লক্ষ্যে মাঠে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল সফরকারীরা। স্বাগতিক বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করেন দুই ওপেনার সাবির নূরি ও মোহাম্মদ শাহাজাদ। তবে পাওয়ার প্লে’র সপ্তম ওভারের শেষ বলে মাশরাফি বিন মর্তুজা বিধ্বংসী হয়ে উঠা ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকে ফিরিয়ে রানের লাগাম কিছুটা টেনে ধরেছিলেন। শাহজাদ ২১ বলে ৩১ রান জমা করেছিলেন নিজের নামের পাশে। বল ও রানের ফারাকটা দেখলেই বুঝা যায় কতোটা আক্রমণাত্মক হয়ে খেলেছেন এ ওপেনার।

পরের ওভারেই সাকিব আল হাসান সাবির নূরিকে সাজঘরে পাঠিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনেন। এ উইকেটের মধ্য দিয়ে সাকিব আল হাসান একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় আব্দুর রাজ্জাকের সাথে ভাগ বসান। দলীয় ৪৬ রানের মধ্যে টানা দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় আফগানরা। তবে সেই চাপ কিছু সময় পর প্রতিপক্ষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন এ দুই ব্যাটসম্যান। স্বাগতিক বোলারদের দেখে-শুনে খেলে রানের চাকা সচল রাখেন।

একের পর এক বোলার পরিবর্তন করেও কোন সুফলতা পাচ্ছিলেন না মাশরাফি। কখনো সাকিবের হাতে আবার কখনো তাইজুলের হাতে বল দিচ্ছিলেন। কখনো বা পেস আক্রমণে কোন ঠাঁসা করতে চাইছিলেন প্রতিপক্ষ শিবিরকে। কিন্তু রহমত শাহ আর হাসমতউল্লাহ শাহিদী নিজেদেরকে উইকেটে সেট করে নিয়ে উল্টো টাইগার বোলারদের শাষাতে শুরু করেন। দু’জনেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশত। বিসিবি একাদশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে সুবিধা করতে না পারলেও রহমত শাহ এ ম্যাচে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। তুলে নিয়েছেন ৭১ রান। ক্যারিয়ারে এটা তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এর আগে চলতি বছর জুলাই মাসেই শত রানের হার না মানা ইনিংসটি খেলেছিলেন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

sahzad

আর প্রস্তুতি ম্যাচে ৬৯ রানের দূর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেয়া হাসমতউল্লাহ আজ মিরপুরেও নিজের ব্যাটের ধার দেখিয়েছেন। মাশরাফি-তাসকিনদের বলে সাবলীলভাবে খেলে তুলে নিয়েছেন ৭২ রান। ক্যারিয়ারে এটাই তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ১৪৪ রানের পার্টনারশিপ উপহার দেয়ার পর এ জুটিতে ফাঁটল ধরান সাকিব আল হাসান। এ উইকেটের মধ্য দিয়েই বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে তিন ফর্ম্যাটের ক্রিকেটেই সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকার শীর্ষ স্থানটি দখল করে নেন এ অলরাউন্ডার।

রহমত শাহ বিদায় নেয়ার ২০ রান পরেই আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান হাসমতউল্লাহও বিদায় নেন। তাকে প্যালিয়নের পথ ধরান তাইজুল ইসলাম। খুব দ্রুত নাজিবুল্লাহ জাদরান ফিরে গেলেও ম্যাচ তখনও আফগানদের হাতের মুঠোয়। তবে ৩০ রান করা মোহাম্মদ নবী ও দশ রান করা আসগরকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন টাইগার পেসার তাসকিন আহম্মেদ।

শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য আফগানদের প্রয়োজন ছিল ২১ রানের। ব্যাট হাতে উইকেটে রশীদ ও আশরাফ। মাশরাফি বল তুলে দেন পেসার রুবেল হোসেনের হাতে। ঐ ওভারের প্রথম পাঁচ বলে ৮ রান দিলেও শেষ বলে রশীদের উইকেট তুলে নিয়ে ১৬ কোটি বাংলাদেশিকে আনন্দে মাতিয়ে তুলেন রুবেল। শেষ ওভারে তাসকিন আহম্মেদ ৫ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। টাইগারদের পক্ষে তাসকিন তিনটি, সাকিব ও মাশরাফি দু’টি করে উইকেট নেন।

প্রতিবেদন: কবির, তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর

অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর


থাইল্যান্ডে সেলিম প্রধানের ৭টি কোম্পানির খোঁজ পেয়েছে দুদক

থাইল্যান্ডে সেলিম প্রধানের ৭টি কোম্পানির খোঁজ পেয়েছে দুদক


মসজিদ-মন্দিরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলো সরকার

মসজিদ-মন্দিরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলো সরকার


করোনায় একদিনে আরও ১৮ প্রাণহানি

করোনায় একদিনে আরও ১৮ প্রাণহানি