Monday, February 20th, 2017
টার্গেট মিস, বিএনপিও মিস
February 20th, 2017 at 10:50 am
টার্গেট মিস, বিএনপিও মিস

শেখ রিয়াল: বিএনপির এবারের টার্গেট নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। তবে সহায়ক সরকারের এ টার্গেট মিস হলে আগামী ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় আসার টার্গেটও মিস হবে বলে ধারণা করছেন দলের একাধিক নেতা। তারা মনে করেন, শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে পাঁচ জানুয়ারির মত সাজানো নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ।

দীর্ঘ দশ বছর ক্ষমতায় নেই বিএনপি। এসময়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে পতন এবং চাপে রাখার জন্য বেশ কিছু টার্গেট বা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছিল বিএনপি। তবে কোনো টার্গেটকেই তেমন পাত্তা দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। বলা চলে বিএনপির সব টার্গেটই ব্যর্থ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি বর্তমানে দল হিসেবে বিএনপি তেমন শক্তিশালি নয়। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের উপযোগী নয় এ দলটি। ঘরের মধ্যে ব্রিফিং এবং নালিশ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আগামী নির্বাচনেও যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসতে না পারে তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান খুঁজে পাওয়া দুস্কর হবে বলে ধারণা করছে খোদ বিএনপির নেতারাই। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দশ বছরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ পর্যন্ত গুম হয়েছে ৪২২ জন, নিহতের সংখ্যা ৫০০’র ওপর, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি, মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে কারাগারে এবং আত্মগোপনে আছে হাজার-হাজার বিএনপি নেতাকর্মী।

২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আওয়ামী লীগকে এককভাবে ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দেয় বিএনপি। সংসদের বাইরে চলে আসে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এ দলটি। এরপর থেকেই শুরু হয় টার্গেট মিসের পালা। আওয়ামী লীগ সরকারকে ভোটার বিহীন অবৈধ সরকার দাবী করে পতনের চেষ্টার টার্গেট মিস। সভা-সমাবেশ করার অনুমতি পাওয়ার টার্গেটও মিস করে বিএনপি। সব শেষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সরকারের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়ার দেয়া ১৩ দফা প্রস্তাবনার টার্গেটও সম্পূর্ণভাবে মিস। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরকারের কাছে কোনো প্রকারের পাত্তা না পেয়ে দেশের অভিভাবক রাষ্ট্রপতির সরনাপন্ন হয় দলটি। তবে সে টার্গেট মিস করেন দলটি।

রাষ্ট্রপতির দ্বারা গঠিত সার্চ কমিটি এবং নির্বাচন কমিশন নিয়েও বিতর্ক তোলে বিএনপি। তবে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তেমন সংগ্রাম-আন্দোলন করেনি দলটি। বিএনপির নেতারা চার দেয়ালের মধ্যে ব্রিফিং এবং আলোচনা সভায় নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ ঘোষণা করে বলেন, এ নির্বাচন কমিশনের দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

সব শেষ টার্গেট নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে। তবে সে টার্গেট কতটুকু পুরণ হবে তা নিয়ে সন্দিহান বিএনপির একাধিক নেতা। তারা বলেন, “আওয়ামী লীগ জানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে তারা কখনোই ক্ষমতায় আসবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতেই নিজেদের অধীনেই আবারো পাচঁ জানুয়ারির মত সাজানো নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। তবে জনগণ তা মেনে নেবে না।”

দলীয় সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না বিএনপি। সরকারকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন করতে হবে। যে সরকার হবে নিরপেক্ষ এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির দেয়া প্রস্তাবনার মত আগামী মাসে খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবনা দেবেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই, কিন্তু আওয়ামী লীগ যে ফাঁদের নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি করেছে তার মধ্য দিয়ে নয়। জাতীয় নির্বাচনে আমরা অংশ নেব কিনা তা নির্ভর করবে সে সময় কোন ধরণের সরকার থাকবে এবং কেমন নির্বাচন কমিশনার থাকবে তার ওপর। লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি ও সহায়ক সরকার গঠন করা হলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি।”

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেলে ২০১৪ সালেই নির্বাচনে যেতাম, তাহলে আবার পাঁচ বছর পরে যাব কেন?”

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। এ নির্বাচন দেশের মানুষ হতে দে‘বে না।”

শেখ হাসিনাকে প্রধান করে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে সরকার হতে হবে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার। সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা থাকতে হবে।”

সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

নির্বাচনী সহিংসতায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

নির্বাচনী সহিংসতায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু


আবার রক্তক্ষরণ হলে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে

আবার রক্তক্ষরণ হলে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে


আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেন মেয়র জাহাঙ্গীর

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেন মেয়র জাহাঙ্গীর


জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল


বিএনপি যত খুশি গালি দিক, কিছু করার নেই: আইনমন্ত্রী

বিএনপি যত খুশি গালি দিক, কিছু করার নেই: আইনমন্ত্রী


সিসিইউতে খালেদা জিয়া

সিসিইউতে খালেদা জিয়া


রিজভী-দুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

রিজভী-দুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি


অপারেশনের পর সুস্থ আছেন খালেদা জিয়া: ফখরুল

অপারেশনের পর সুস্থ আছেন খালেদা জিয়া: ফখরুল


হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া

হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া


খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদনে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়

খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদনে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়