Thursday, December 29th, 2016
ট্রাইব্যুনাল সরালে প্রশ্নবিদ্ধ হবে সুপ্রিম কোর্ট
December 29th, 2016 at 7:51 pm
ট্রাইব্যুনাল সরালে প্রশ্নবিদ্ধ হবে সুপ্রিম কোর্ট

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুরাতন হাইকোর্ট ভবন থেকে স্থানান্তর না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগকে আবারো চিঠি দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

সরকারের আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, পুরাতন হাইকোর্ট ভবন থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে নিলে দেশবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে পুরাতন হাইকোর্ট ভবন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পুরাতন হাইকোর্ট ভবনটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা। এই ভবনে স্থাপিত ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ শুরুর পর কুখ্যাত অনেক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যে কারণে এ ভবণটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘বাংলাদেশের জনগণ ঐতিহাসিক এই ভবণটির মর্যাদা সমুন্নত রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকুক। অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই ভবণ থেকে সরালে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে এবং সর্বজন গ্রাহ্য হবে না, বরং বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট দেশবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

পুরাতন হাইকোর্ট ভবণটি পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের গর্ভণর এর সরকারী বাসভবন হিসেবে নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে এই ভবণটি পূর্ব পাকিস্তানের হাইাকোর্টে রুপান্তর করা হয়। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার সময় সংঘটিত অপরাধসমূহ যেমন- যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, ধর্ষণ, মানবাতাবিরোধী অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সহ অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারকার্য পরিচালনা করার জন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় অন্য কোথাও যৌক্তিক ও নিরাপদ স্থাপনা না পাওয়াই সরকার পুরাতন হাইকোর্ট ভবণে অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই ভবণের একটি অংশে আইন কমিশন ও অপর অংশে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অফিস হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। আইন কমিশন ও বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ১৫, কলেজ রোড, ঢাকা ঠিাকানায় স্থানান্তর করে উক্ত ভবণটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়।

উপরিউক্ত সকল বিষয় বিবেচনা পূর্বক পুরাতন হাইকোর্ট ভবণ হতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থানান্তর করে ভবণটি বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অনুকূলে দখল হস্তান্তর করা সমীচিন হবে না।

এর আগেও ৩০ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়, পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল না সরানোর জন্য। তখনো বলা হয়েছিল অনেক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হওয়ায় এই ভবনের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বাংলাদেশের জনগণ চায় না এ ভবন থেকে ট্রাইব্যুনাল সরানো হোক। এটা সরানো হলে জনগণের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এরও আগে ১৮ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়কে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল স্থানান্তরে পদক্ষেপ নিতে চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল স্থানান্তর না করায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল সরানোর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে আবারো চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) ফের সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে চিঠি দিল আইন মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরেই ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিষ্পত্তি খাতে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আদালতকক্ষ মেরামত, চুনকাম ও ফুলের বাগান তৈরি বাবত ব্যয় করা হয় ৫ কোটি টাকা। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রসিকিউশন গঠন করা হয়।

প্রতিবেদন: ফয়েজ, সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩

শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


সব মহাসড়কে টোল আদায়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সব মহাসড়কে টোল আদায়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


গ্রেপ্তারের ৫ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন রন হক সিকদার

গ্রেপ্তারের ৫ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন রন হক সিকদার


৪র্থ দিনে টিকা নিলেন দেড় লাখ, মোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৯ জন

৪র্থ দিনে টিকা নিলেন দেড় লাখ, মোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৯ জন


ভারতে হিমবাহ ধস: ১৪ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১৭০

ভারতে হিমবাহ ধস: ১৪ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১৭০


করোনা ভাইরাস রুখতে গণ টিকাদান শুরু

করোনা ভাইরাস রুখতে গণ টিকাদান শুরু