Tuesday, October 11th, 2016
ডিজিটাল নৌকায় আ’লীগের সম্মেলন
October 11th, 2016 at 3:58 pm
ডিজিটাল নৌকায় আ’লীগের সম্মেলন

ইয়াসিন রানা, ঢাকা: ডিজিটাল নৌকায় এবার সম্মেলন করতে যাচ্ছে উপ মহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তাই বেশ জোড়েসোরে চলছে সম্মেলনের প্রস্তুতির কাজ। আগামী ২২-২৩ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল হিসেবে তার ইতিহাস, গৌরব, ঐতিহ্য নতুনদের মাঝে উপস্থাপন করবে আওয়ামী লীগ।তেমনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে আওয়ামী লীগের মঞ্চও হবে ডিজিটাল।

জাকজমক পূর্ণভাবে সম্মেলন করার জন্য দিনে একাধিক সভা করছে দলটির সম্মেলনকে ঘিরে গঠিত উপ-কমিটিগুলো।এছাড়া চলছে সম্মেলনের স্থান ও নৌকা আকৃতির মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ।

al-8এবারের জাতীয় সম্মেলন করার মাধ্যমে ইতিহাস করতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই একটু ব্যতিক্রম ভাবেই তৈরি করা হচ্ছে সম্মেলনের মঞ্চ। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ। কাজ দেখেই বোঝা যায়, বেশ জাকজমক হবে এবারের সম্মেলন।

মঞ্চের উচ্চতা হবে ২৫ ফুট। মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা থাকবে। মঞ্চের সামনের দিকে ২৩০ ফুট/১২৫ ফুটের খুটি বিহীন কাচের মঞ্চ থাকবে।যেখানে ৭ হাজার অতিথির আসন থাকবে। প্যান্ডেল হবে ৪০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন।

প্রথম সাড়িতে থাকবে সোফা, দ্বিতীয় সাড়িতে থাকবে চায়না চেয়ার এবং সব শেষ তৃতীয় সাড়িতে থাকবে প্লাস্টিকের চেয়ার। প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা আসন থাকবে। থাকবে মেডিকেল ক্যাম্প ও ফুড কর্ণার।প্যান্ডেলে থাকবে তিনটি সাড়ি।

সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত সাজ-সজ্জা উপকমিটির সভাপতি ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, সম্মেলনে যে মঞ্চ প্রস্তুত করা হবে তা আওয়ামী লীগের রাজনীতির ঐতিহ্য বহন করবে। এবং তা হবে ব্যতিক্রম ও ইতিহাস সৃষ্টিকারী।

al-2
সম্মেলনের জন্য মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির জন্য মোট কত টাকা ব্যয় হবে এ বিষয়ে তিনি জানান, কত টাকা ব্যয় হবে এজন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজেট নেই। সুন্দর ও জাকজমকভাবে মঞ্চ তৈরিতে যত টাকা লাগে তা ব্যয় করা হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরিসহ সম্মেলনের মাঠে মোট দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে, সম্মেলনের জন্য নৌকা আকৃতির মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। প্রতিদিনই ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো শ্রমিক মাঠ তৈরির কাজ করছেন। সম্মেলনের স্থান প্রস্তুতির কাজ তদারকি করছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃ-প্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সম্মেলনে নেতাকর্মী ছাড়াও থাকবেন কাউন্সিলর, দেশি বিদেশী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশেষ ব্যক্তিবর্গ, বুদ্ধিজীবী, ডেলিগেটসসহ অনেক মেহমান। তাই সম্মেলন স্থান ও প্যান্ডেলের ভিতরে থাকছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। এছাড়া বিদেশি মেহমানদের জন্য থাকছে সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থা।

সম্মেলনের মূল ভেনুতে প্রবেশের জন্য দলীয় সভাপতিসহ সাতটি গেট। সভাপতির গেট, ভিআইপি গেট, ভিভিআইপি গেট, তিন নেতার মাজার গেট, মন্দিরের সামনে একটি গেট, বাংলা একাডেমির সামনে একটি গেট, টিএসসিতে একটি এবং চারুকলার সামনে একটি গেট থাকবে।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উদ্যানের চারপাশ পরিষ্কার করাসহ ঘাস কাটা হচ্ছে।উদ্দানের চারপাশে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, উদ্দানের চার পাশে সিসি ক্যামেরা থেকে শুরু করে নেয়া হয়েছে সব আধুনিক নিরাপত্তা।

মঞ্চ তৈরির দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মনিরুজ্জামান লিটন বলেন, চারুকলা অনুষদের ছাত্রলীগ এবং সাবেক ছাত্রলীগ সবাই মিলে এ কাজের দায়িত্ব নিয়েছি।গত ২৬ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু করি এবং আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে আমারা এ কাজ শেষ করব। এরই মধ্যে মঞ্চের ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু সেটিং এবং ফিনিসিংয়ের কাজ চলছে।

মঞ্চ সজ্জায় নিয়োজিত এক শ্রমিক জানান, তারা প্রায় ১০০ জন লোক এখানে কাজ করছেন।কাজ প্রায় শেষের দিকে।

al-13ডেকোরেটরের দায়িত্বে আছে পুরান ঢাকার হোসনে দালানের পিয়ারু ডেকোরেটর। ডেকোরেটর শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডেকোরেটরের জন্য কাজ করছে প্রায় ৮০ শ্রমিক। তাদের কাজও প্রায় শেষের দিকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

সম্মেলনে উপলক্ষে সারা দেশের মহাসড়কে সরকারের উন্নয়নচিত্র শোভা পাবে। আলোকচিত্রের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তদারকী করার জন্য ১৫টি টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো বিভিন্ন জেলা সফর করবে।

এছাড়া সম্মেলনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে স্যান্ড আর্ট বা বালি শিল্প।১৫ আগস্টের কালো রাত্রির হত্যাকাণ্ডের নির্মম ইতিহাসের প্রদর্শনি করা হবে স্যান্ড আর্টের মাধ্যমে।

এবারের ২০তম জাতীয় সম্মেলন নিয়ে নেতাকর্মীরা আশা করছেন এ সম্মেলন হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সব থেকে বড় এবং জাকজমকপূর্ণ সম্মেলন।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের ১৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর।এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসার ৬ মাস পর ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই ১৮তম জাতীয় সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ।

সম্পাদনা: জাহিদুল ইসলাম

 


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু

করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু


শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে যাত্রী ও গাড়ির প্রচণ্ড চাপ, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে যাত্রী ও গাড়ির প্রচণ্ড চাপ, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি


দাম বাড়ল মুরগি ও চিনির

দাম বাড়ল মুরগি ও চিনির


ভারতে আবার সংক্রমণের রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু প্রায় ৪০০০

ভারতে আবার সংক্রমণের রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু প্রায় ৪০০০


দেশে করোনায় আরও ৪১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮২২

দেশে করোনায় আরও ৪১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮২২


খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী


যে যেখানে আছেন সেখানেই সবাইকে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যে যেখানে আছেন সেখানেই সবাইকে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


করোনায় কমলো মৃত্যু ও শনাক্তের হার; মৃত্যু ৫০ আর শনাক্ত ১ হাজার ৭৪২

করোনায় কমলো মৃত্যু ও শনাক্তের হার; মৃত্যু ৫০ আর শনাক্ত ১ হাজার ৭৪২


১৬ মে পর্যন্ত লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি

১৬ মে পর্যন্ত লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি


২১ দিন পর বৃহস্পতিবার থেকে সড়কে গণপরিবহন

২১ দিন পর বৃহস্পতিবার থেকে সড়কে গণপরিবহন