Wednesday, September 28th, 2016
ঢাকা বনাম টরন্টো!!
September 28th, 2016 at 11:09 am
ঢাকা বনাম টরন্টো!!

জসিম মল্লিক,টরন্টো থেকে :

১. প্রকৃতি মানুষের মনের উপর দারুন প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির সাথে মানব মনের সম্পর্ক খুউবই গভীর। প্রকৃতির রুপ বৈচিত্র্য মানুষের মনকে উন্মনা করে, উদাস করে। এখন যেমনরূপ বৈচিত্র্যে ভরে উঠছে চারিদিক। সবুজের সমারোহ বিস্তৃত হচ্ছে। পুরো উত্তর আমেরিকা জুড়ে ছিল সামার। এখন ফল শুরু হয়েছে। আনন্দের মহোৎসব গেছে। লংউইকেন্ড বা উইকেন্ডে হলেই লোকজন দল বেধে ঘর থেকে বেড় হয়ে যায়। শহর শূন্য হয়ে পড়ে। লীকার স্টোরগুলোতে লাইন লেগে যায়। কটেজ গুলোতে জায়গা পাওয়া যায়না। কানাডাতে রয়েছে অসংখ্য ট্যুরিষ্ট স্পট। অনেক দেশ ঘুরলাম কিন্তু এত সুন্দর দেশ আরহয়না। দু’চোখভরে এই সৌন্দর্য্য দেখে শেষ করা যায়না। এখানকার মানুষজনও খুউব অমায়িক এবং হাস্যরস প্রিয়। এত হিউমার আর কোনো জাতি করতে পারে বলে আমার মনে হয়না। স্বল্পবসনাদের জন্য দারুন একটা সময়এ খন। বিচগুলোতে প্রায় বস্ত্রহীন নারীদের ভীর লেগে যায়।

কানাডা প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য সব কিছুই করে। একটা পাতাও ছিঁড়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। এত বিশাল দেশ। মানুষ মাত্র ৩৪ মিলিয়ন! আর টরন্টো খুবই পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল এবং খোলামেলা একটি সিটি। এই শহরের রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এত আপন মনে হয়। ৫০ লাখ জনঅধ্যুষিত নগরীর ১৮ শতাংশ এলাকা হচ্ছে পার্ক যা এধরনের সিটির ক্ষেত্রে বিস্ময়কর। টরন্টোকে বলা হয় সিটি অবপার্ক। জনবৈচিত্র্যের দিক থেকে সমগ্র বিশ্বকেই পাওয়া যাবে টরন্টোতে। কানাডায় প্রায় ১০০ ভাষায় মানুষজন কথা বলে তার মধ্যে ৮০টি ভাষা ব্যবহৃত হয় টরন্টোতে।

রাজধানী না হলেও গুরুত্ব বিবেচনায় কানাডার মধ্যে টরন্টোর অবস্থান অনেক উপরে। এখানে প্রতিবছর পর্যটক আগমনের হারও বেশী। টরন্টোর মানুষের আচরনও একটু অদ্ভুত। তারা দিনের আবহাওয়া নিয়ে সব সময় উদগ্রিব থাকে। বলা হয়ে থাকে টরন্টোর মানুষজন দিনের আবহাওয়া জানতে জড়ো হয় কানাডা লাইফইন্স্যুরন্স ভবনে যা ইউনিভার্সিটি এভিনিউ এবং কুইন্সস্ট্রিট ওয়েষ্টের কর্ণারে। সেখানে তারা বিশেষ একটি স্থানে তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। ওই ভবনের শীর্ষদেশে রয়েছে কিউব আকারের একটি বিকন। তাতে যদি দেখা যায় সবুজ আলো তবে বুঝতে হবে দিনটি হবে রৌদ্রকরোজ্জল, আর যদি সেখানে জ্বলতে থাকে লাল আলো তাহলে বুঝে নিতে হবে আজ ছাতানিয়ে বের হতে হবে। আরশীত মৌসুমে সাদা আলো দেখা গেলে বুঝে নিতে হবে নির্ঘাত তুষারপাত। এছাড়াও একটি প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট রয়েছে তাহলো এই আকাশস্পর্শী ভবন থেকে এমন একটি আলোকরস্মি বিচ্ছুরিত হয় যা থেকে সবাই বুঝতে পারে সিটি কর্মমুখর, জেগে আছে, তা সে রোদ বৃষ্টি আর তুষার যাই থাক।

২. অন্যদিকে টরন্টোকে বলা হয় কানাডার অর্থনীতির ইঞ্জিন। তাইতো এখানকার মানুষজন মেনে চলেন সেই প্রবচন, ‘ আর্লি টু বেড আর্লি টু রাইজ’। এছাড়া টরন্টো কখনও নিজেকে মন্ট্রিয়লের প্রতিদ্বন্দ্বি ভাবেনা। তারা বিশ্বরাজধানী নিউইয়র্কের সমকক্ষ ভাবে নিজেকে। যারা টরন্টোর সমালোচক তারা টরন্টোকে সিরিয়াস বেনিয়ানগরী মনে করে এবং সুইস পরিচালিত নিউইয়র্ক বলে অভিহিত করে। টরন্টোর অধিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় টরন্টোর অর্থ হচ্ছেমিলন কেন্দ্র। প্রথম নিজবাস ভূমির মানুষের সঙ্গে যে ইউরোপিয়ান মিলিত হন তিনি ছিলেন ফরাসী আবিষ্কারক ইটনিব্রল। সেটা ১৬১৫ খৃষ্টাব্দের কথা। এরপর দেড়শ বছর তার অনুগামী ছিল কেবল পশু চামড়া ব্যবসায়ীরা। টরন্টো বানিজ্যিক সিটি হলেও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও পিছিয়ে নেই। এখানেও নিউইয়র্কের মতো যেমন রয়েছে আকাশচুম্বি ভবনরাজি, তেমনি রয়েছে বিনোদন আর শরীরচর্চা কেন্দ্র। রয়েছে মসজিদ, গীর্জা, খেলা ধুলার আয়োজন। সিটির স্পোর্টস হিরো হচ্ছে এখানকার আইস হকি টীম।

অন্যদিকে বাংলাদেশে বনভূমি কেটে উজার করা হচ্ছে। সুন্দরবন ধ্বংস করে তৈরী করবে বিদ্যুৎকেন্দ্র। যে যেভাবে পারছে প্রকৃতিকে ধ্বংস করার মহোৎসবে লিপ্ত আছে। সাময়িক লাভের জন্য ভবিষ্যত প্রজন্মকে যে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে সে কথা মনে থাকেনা। বনভূমি অঞ্চল থেকে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার গাছ চুরি হয় বলে জানা যায়। আজকে ঢাকা শহর একটি ইট কাঠের নগরীতে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত ছোট্ট এই নগরীতে শুধু স্কাইস্ক্রাপার আর গাড়ী ছাড়া কিছু নেই। গাড়ী আর কলকারখানার চিমনির ধোঁয়ায় নগরীতে নিঃশ্বাস নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। একক বাড়ি ভেঙ্গে ক্রমাগত গড়ে উঠছে হাইরাইজ। ঢেকে যাচ্ছে ঢাকার আকাশ।

toronto1

৩. আমি একবার দেশে গিয়ে কিছুদিন ধানমন্ডিতে ছিলাম। সকালে যখন জগিং করতে বের হতাম তখন দেখেছি একটি বাড়িও আর অবশিষ্ট নেই যেটা ডেভলপারের খপ্পরে পড়েনি। জমির মালিকরাও কোনো কিছু চিন্তা না করে লাভের আশায় জমি দিয়ে দিচ্ছে। যাদের ধানমন্ডি, গুলশানবা যেখানেই একটু করো জমি আছে তাদের ভূমিদস্যরা হুমকি ধমকি দিয়ে জমি কেড়ে নিচ্ছে। জমি দিতে রাজী না হলে মামালা মোকদ্দমা ঠুকে দিচ্ছে। আর এই সব রাঘব বোয়ালদের সঙ্গে পেরে উঠছে না সাধারন জমির মালিকরা। অনেক প্রবাসীরাও এদের প্রতারনার শিকার হচ্ছেন। শোনা যায় বাংলাদেশের ধনকুবের জহিরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর বায়তুল মোকারর মমসজিদে জানাজা শেষে যখন কফিন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন একজন গরীব লোক তার কফিন টেনে ধরে বলেছিল’ আমার জমির টাকা দিয়ে তারপর যাও’..।

ডেভলপারের ব্যবসায় জড়িত আছে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে অনেকে হোমরা চোমরা। রাজউক হচ্ছে দূর্নীতির সুতিকাগার। সেখানকার ইটপাথরও ঘুষ খায়। ঢাকায় এখন ৫০০ ডেভলপার আছে। তাদের সংগঠন রিহাব আছে। রিহাব হচ্ছে একটি ঠুটো জগন্নাথ। তাদের বস্তুতঃ কোনো কাজ নেই। একবার রিহাব নির্বাচনের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে শেরাটনে গিয়েছিলাম। তখন জেনেছি নির্বাচনে যারা অংশগ্রহন করেছে তাদের কাছ থেকে ২০/২৫ লাখ করে টাকা নেয়া হয়েছে।

আমাদের প্রিয় ঢাকা শহরকে বাঁচাতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগী করে  তুলতে হবে। অনেক স্থাপনা সরিয়ে ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে ভবন নয় গড়ে তুলতে হবে পার্ক, খেলার মাঠ। ঢাকা শহরে শিশুদের জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই, পার্ক নেই। যাও আছে তাও দখলে চলে গেছে হয় ফেরিওয়ালা না হয় প্রোষ্টিটিউটদের। লেক গুলো দখল করে সেখানে বাড়ি তৈরী হয়েছে। নদী দখল করে কলকার খানা তৈরী হচ্ছে। অথচ এইসব দেশে প্রতিটি স্কুলে খেলার মাঠ রয়েছে। লেক, পার্ক স্বপ্নের মতো সুন্দর করে সাজানো। আর এজন্য দরকার  সচেতনতা। বর্তমান সরকার যথেষ্ট পরিবেশ সচেতন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ রক্ষায় অনেক কাজ করছেন। এজন্য তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য সুন্দর প্রকৃতি তৈরীর কোন বিকল্প নেই।

লেখক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

jasim


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


সামার অফ সানশাইন

সামার অফ সানশাইন


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত


বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা

বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা


পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির

পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির


২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ  ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা

করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা