Thursday, August 25th, 2016
তসলিমা’র ৫৪
August 25th, 2016 at 2:37 pm
তসলিমা’র ৫৪

বিধুনন জাঁ সিপাই:

 

ওই দেখ বেশ্যা যায়,

বেশ্যার শরীর অবিকল মানুষের মতো,

মানুষের মতো নাক, চোখ, ঠোঁট, মানুষের মত হাত, হাতের আঙুল

মানুষের মত তার হাঁটা, পোষাক-আশাক;

মানুষের মতো হাসে, কাঁদে, কথা বলে-

তবু মানুষ না বলে তাকে বেশ্যা বলা হয়।

বেশ্যারা সকলে নারী, কখনো পুরুষ নয়।

যে কারনে নারী বেশ্যা হয়, যে সংসর্গে,

একই সংসর্গে অভ্যস্ত হয়ে পুরুষ পুরুষই থাকে।

বেশ্যারা পুরুষ নয়, মানুষের মতো অথচ মানুষ নয়

তারা নারী।

ওই দেখ বেশ্যা যায়- বলে নারীকে আঙুল তুলে

মানুষেরা দেখে ও দেখায়।

(কবিতাঃ বেশ্যা যায়)

 

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী পন্য হিসেবে বিবেচিত। নারীকে মানুষ হিসেবে নয়, স্রেফ যৌন উপকরন হিসেবেই বিবেচনা করে এই সমাজ। সে নারী যেই হোক না কেন- জায়া, জননী, প্রেমিকা রুপী নারী ভোগবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বেশ্যা খেতাব নিয়েই বাঁচে। তসলিমা নাসরিন কিন্তু সেই প্রশ্নই আমাদের জন্য রেখেছেন- নারী তো বেশ্যা হল পুরুষ ছিল বলে। পুরুষ যায় বলেই পতিতালয় টিকে থাকে। পুরুষ বাধ্য  করে  নারীকে নির্মমভাবে ভোগ করতে। এত সব পুরুষ করে কিন্তু সেই পুরুষ মাথা উঁচু করে চলে পুরুষ শিরোনামে কিন্তু নারী পায় বেশ্যা খেতাব। সেই খেতাব তাকে দেয় পুরুষ। পুরুষই প্রচার করে বেশ্যারা অস্পৃশ্য। কেন?

স্বাধীন বাংলাদেশে যাদের নাম সর্বাধিক বার উচ্চারিত হয়েছে, তসলিমা নাসরিন সম্ভবত তাদের অন্যতম। আলোচিত, সমালোচিত, বিতর্কিত এবং নির্বাসিত এই চার বিশেষন তসলিমা’র সঙ্গ ছাড়েনি কখনো। সম্ভবত এতে অস্বস্তিও নেই নারীবাদী এই লেখিকার। কবিতা দিয়েই লেখালেখির জীবন শুরু, সেই কবিতাই যখন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের গায়ে ফোস্কা পড়ালো, রাষ্ট্রের কর্তারা যখন তাকে কবিতা ছাড়তে আদেশ দিলেন, তিনি তখন চাকরিই ছেড়ে দিলেন।

তসলিমা জাহান নাসরিন ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ২৫শে আগস্ট ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহন করেন। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার পিতা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন এবং মা ইদুল আরা সাধারণ ধর্মভীরু বাঙ্গালী গৃহিনী, তসলিমার পিতার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৮ সালে ‘সেঁজুতি’ নামে সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে সাহিত্যাঙ্গনে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা। পত্রিকা সূত্রেই পরিচয় ঘটে কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র সাথে। ১৯৮২ সালে পরিবার কাউকে না জানিয়েই সংসার গড়েন রুদ্র ও তসলিমা। ১৯৮৬ সালে তাদের এই কাব্যিক সংসারের ইতি ঘটে। পরে সাংবাদিক ও সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়। তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তা’র সম্পাদক মিনার মনসুরকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি আর বিয়ে করেন নি।

ইসলামি ধর্মীয় আইন (শরিয়াহ) অবলুপ্তির মাধ্যমে কুরআন সংশোধনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তসলিমা, তাও আজ থেকে ২২ বছর আগে, ১৯৯৪ সালের মে মাসে ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে। এর ফলে ইসলামি শরিয়তপন্থি মৌলবাদীরা তার ফাঁসির দাবী জানান। তিন লাখ মৌলবাদী একটি জমায়েতে তাকে ইসলামের অবমাননাকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল রূপে অভিহিত করে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গ্রেপ্তারী এড়াতে পরবর্তী দুই মাসে লুকিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তার জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তসলিমা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন ১৯৯৪ সালে।

নির্বাসিত তসলিমা নাসরিন গোটা জীবন নারীদের লড়াই সংগ্রামে নিজেকে হাজির রাখতে চেয়েছেন সর্বদা। এই লড়াইকেই জীবনের ধর্ম বলে গ্রহন করেছেন তিনি। নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে পরদেশে নির্বাসিত তসলিমা’র আজ চুয়ান্ন তম জন্মদিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জন্মদিন উপলক্ষ্যে নিজের চুয়ান্নতম বছরের দু’টি ছবি প্রকাশ করেছেন আর লিখেছেন, ‘সুপ্রভাত। বারান্দায় দাঁড়িয়ে সারি সারি সবুজ দেখতে দেখতে এক পেয়ালা দার্জিলিং চা পান করছি। আজ সকালটা অন্যদিনের মতোই কিন্তু আবার অন্যদিনের মতোও নয়। আজ যে কোনও দিন, জানি। কিন্তু আজ থেকে আমার বয়স ৫৪ বলবো। সংখ্যাটা অচেনা, বিদঘুটে। কিন্তু করার কিছু নেই। আমি না চাইলেও আজ আমি মৃত্যুর দিকে একটি বছর এগিয়ে গেলাম। জন্মদিনের উৎসব আমি করতে পছন্দ করি না। এটি আমার কাছে যে কোনও দিনের মতো দিন অথবা একটুখানি দুঃখের দিন। সারা বছর বয়স ভুলে থাকি। এই দিনটা এসে বয়সটা মনে করিয়ে দেয়’।

সম্পাদনা- এস. কে. সিদ্দিকী


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা

নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা


তূর্ণা নিশীথা

তূর্ণা নিশীথা