Wednesday, August 17th, 2016
তাকে চাকরি দেয় না কেউ
August 17th, 2016 at 6:43 pm
তাকে চাকরি দেয় না কেউ

অজিত সরকার, ঢাকা: স্বপ্ন দেখেন, রঙিন স্বপ্ন। ইচ্ছে ছিলো আকাশ ছোঁয়ার, অনেক বড় হওয়ার। এখনো ওই স্বপ্নকে বুকে আঁকড়ে রেখেছেন ফিলিপ মর্মু। তবে আজ যে থমকে গেছে সব কিছু। জীবন চলার বাধা হয়েছেন নিজেই। কেননা পোলিওকে সঙ্গী করেই পৃথিবীতে এসেছেন তিনি।

উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেও চাকরি না পেয়ে পেটের তাড়নায় ভিক্ষাবৃত্তিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ফিলিপ। তার ভাষ্য মতে, অনেকেই তাকে সাহায্য সহযোগিতার কথা বলে, তবে কেউই এগিয়ে আসেনি। এমনকি চাকরির জন্য প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর দরখাস্ত করেও কোন লাভ হয়নি তার।

তিনি বলেন, ‘পরিশ্রমের কাজ করার শক্তি নেই আমার। ভিক্ষা করতে আর মন চায় না। তবুও বাধ্য হয়েই ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েছি। তবে ছোটখাটো একটা কাজ পেলে ভিক্ষা করা ছেড়ে দিবো।’

সমানতালে বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলায়ও পারদর্শী ফিলিপ। গ্রেজ্যুয়েশন সম্পূর্ণ করার প্রবল ইচ্ছে ছিল ফিলিপের কিন্তু সংসারের অভাবের কারণে পড়াশুনাটা আর বেশিদূর করা হয়নি।

ছোটবেলা থেকেই কখনো হামাগুড়ি দিয়ে কখনো হাতে কিংবা পায়ে ভর করেই চলাফেরা করতেন তিনি। স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে। অনেক টাকাও ব্যয় করেছেন এই মারফতে।

অভাব আর অনটনের কারনে অবশেষে পোলিওমুক্ত হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে বেঁচে থাকার আশাই ছুটে চলছেন। এখন বসুন্ধরা সিটি এলাকার পান্থপথ সিগনালের পাশেই ফিলিপের ঠিকানা। সারাদিন ভিক্ষাবৃত্তির পর রাতে এখানেই শায়িত হন ফিলিপ।

Philip newsnextbd

ফিলিপ মর্মুর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে। বাবা প্রাণতোষ মর্মু। আর মা মান্ডী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে ফিলিপ সবার বড়। ফিলিপ ১৯৯৫ সালে গোমস্তাপুরের রহনপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৮ সালে রহনপুর ইউসুফ আলী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। আর ছোট ভাই সুব্রত মর্মু এখন উচ্চ মাধ্যমিকে আর ছোট বোন রেখা নবম শ্রেণিতে পড়ছে। অনেক অভাব অনটনের সংসার ফিলিপদের। বাবা প্রাণতোষ মর্মুই পরিবারটির ভরন পোষণের একমাত্র ভরসা।

ফিলিপ ১৯৮৯ সালে উন্নত চিকিৎসার আশা নিয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা নেন টানা চার বছর। এরপর কোন উন্নতি না দেখে ফিরে যান নিজ গ্রামে। অভাবের সংসারে চিকিৎসা তো দূরের কথা দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন শুধুমাত্র টিকে থাকার জন্য।

অবশেষে প্রায় দুই বছর আগে ঢাকায় আসেন কাজের সন্ধানে। দীর্ঘদিন খুঁজে বেড়িয়েছেন কাজও। কোন কাজ না পেয়ে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। এখন ওয়ার্কার দিয়ে চলাফেরা করে ভিক্ষাবৃত্তি করেন ফিলিপ।

রাজধানীর ফার্মগেইট, কারওয়ান বাজার ও পান্থপথ এলাকায় ভিক্ষা করে বেড়ান। প্রতিদিন ভিক্ষা করে প্রায় ৬০০/৭০০ টাকা পান। আর এই টাকা দিয়েই নিজের চলাফেরা ও ভাই-বোনদের পড়াশুনার খরচ যোগান।

অনেকদিন থেকে একটা হুইল চেয়ার কেনার খুব শখ তার। তিনি বলেন, ‘দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছি না। ইতিমধ্যে হুইল চেয়ার কেনার আশায় প্রায় ১০ হাজার টাকা জমিয়েছি। আর ১০ হাজার টাকা হলে একটা কিনতে পারবো।’

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

মহামারিতেও থেমে নেই সংখ্যালঘু পীড়ন

মহামারিতেও থেমে নেই সংখ্যালঘু পীড়ন


বরিশালে সংকটের নেপথ্যে ক্ষমতার সংঘাত

বরিশালে সংকটের নেপথ্যে ক্ষমতার সংঘাত


বঙ্গবন্ধুকে দাফনের আগেই দুই রাষ্ট্রপতি,স্পীকারসহ ২১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়ে যান খুনী মোশতাকের!

বঙ্গবন্ধুকে দাফনের আগেই দুই রাষ্ট্রপতি,স্পীকারসহ ২১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়ে যান খুনী মোশতাকের!


দ. আফ্রিকা: গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দোকানি, সর্বহারা দেড় শতাধিক

দ. আফ্রিকা: গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দোকানি, সর্বহারা দেড় শতাধিক


শিয়াল ও জোনাকি যুগ

শিয়াল ও জোনাকি যুগ


আইসক্রিম সেলার

আইসক্রিম সেলার


গার্ডিয়ান এঞ্জেল সরিয়ে জেমস বন্ডের কুরুস্থাপন

গার্ডিয়ান এঞ্জেল সরিয়ে জেমস বন্ডের কুরুস্থাপন


দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস


প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার