Sunday, November 6th, 2016
তিস্তার হিস্যা বণ্টনে দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
November 6th, 2016 at 9:51 pm
তিস্তার হিস্যা বণ্টনে দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে জোর কুটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে ঢাকা। মূলত এই পানি নিশ্চিত করতেই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সফরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ বলা হলেও সফরের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষন এখনো ঠিক হয়নি।

তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগামী তিন/চার ডিসেম্বর প্রস্তাব করা হয়েছে। নয়াদিল্লি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে তিস্তা চুক্তি সই হয়ে যেতেও পারে। চুক্তির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশ সেই খসড়া চুক্তিতেই রাজি আছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে বাংলাদেশকে কম পানি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বেশি পানি রাখা যায়। তবে হাসিনা-মোদি বৈঠকেই আসলে পানির ভাগাভাগির বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আলোচ্যসূচি ঠিক করছে। সূচিতে থাকছে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, যৌথ সন্ত্রাস দমন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে দু’দেশের ভূমিকা প্রসঙ্গ। এছাড়া বৈঠকে আলোচনা হবে গত বছর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকালে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে।

তিস্তা চুক্তি হবে কিনা জানতে চাইলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান জানান, এ ব্যাপারে অনেক আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ২০১১ সালে সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে তিস্তার পানি বণ্টনের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেই সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশ সম্মত আছে। ওই সময় চুক্তিটি হয়নি পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আাপত্তির কারণে। এমনকি ওই সময় মমতার ঢাকা সফরে আসার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তিনি বেকে বসেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, গতবছর জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর দু’দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা এনেছে। ওই সফরের কারণেই দু’দেশের ৬৮ বছরের পুরানা সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। ছিটমহল বিনিময় হয়েছে। এবার তাই নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। ৬৮ বছরের পুরানা সমস্যার সমাধান হয়েছে। একারণে তিস্তা চুক্তির মতো অমীমাংসিত বিষয়ও সমাধান হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টদের। কারণ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এখন সবচেয়ে বড় ইস্যুই হলো তিস্তা চুক্তি না হওয়া। এই চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে ভারতের অঙ্গীকারও রয়েছে।

প্রতিবেদন: খান, সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই


করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু

করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু


করোনায় আক্রান্ত শচীন

করোনায় আক্রান্ত শচীন


নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান

নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান


শুক্র ও শনিবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে

শুক্র ও শনিবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে


মতিঝিলে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, শিশুবক্তা রফিকুলসহ অন্তত ১০ জন আটক

মতিঝিলে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, শিশুবক্তা রফিকুলসহ অন্তত ১০ জন আটক


ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর


৮ মাস পর দেশে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৫৫৪ শনাক্ত

৮ মাস পর দেশে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৫৫৪ শনাক্ত