Tuesday, January 9th, 2018
তীব্র শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগ
January 9th, 2018 at 1:41 pm
তীব্র শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগ

এম কে রায়হা: শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন বাড়ছে শীতজনিত রোগ। ইতিমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বেড়েছে। যাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধই বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে শীতকালীন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি দেখা দেয়। এর মধ্যে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, টনসিলাটাইসিস, ব্রংকিওলাইটিস, সাইনোসাইটিস, বাত, আর্থ্রাইটিস, চামড়ার শুষ্কতা অন্যতম।

এ প্রসঙ্গে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ আহসানুল্লাহ নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমনিতেই মানুষের শরীরের তাপ উৎপাদন ক্ষমতা কমতে থাকে। তীব্র শীতে বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীর শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয়ে আসে। শরীরে তাপ উৎপাদন কম হওয়ায় হাত-পা কুঁকড়ে যায়। এমনকি শরীর অবশ হয়ে আসতে থাকে। এছাড়া হাঁপানি, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য রোগ তো আছেই। এসব রোগ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই শীত এড়িয়ে চলতে হবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এখন সবসময় শরীর গরম রাখতে গরম পোশাক পরতে হবে, গরম পানি খেতে হবে। এমনকি গোসলের ক্ষেত্রে গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু এসব রোগে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে তাই তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।’’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের তথ্যমতে, শীতের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ নভেম্বর ২০১৭ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত শীতজনিত রোগে সারাদেশে ৫২ হাজার ৩১২ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে এআরআই (অ্যাবস্ট্রাক্টিভ রিসপারেটরি ইনফেকশন) এ আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ১৩৮ জন। জাদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৭৩৬ জন। এছাড়া অন্যান্য রোগ যেমন নিউমোনিয়া, আমাশয়, জ্বর, কাশি ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৩৮ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৬০৬ জন। এর মধ্যে এআরআইয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন, ডায়রিয়ায় ৩৫৮ জন ও অন্যান্য রোগে ১৫৬ জন। অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশের হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

শীতজনিত রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় অ্যাবস্ট্রাক্টিভ রিসপারেটরি ইনফেকশন বা শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যায়। এ প্রসঙ্গে ডাঃ আহসানুল্লাহ বলেন, ‘‘বৃদ্ধ ও শিশু উভয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। কারণ এ দু’বয়সে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ইতিমধ্যে আমার হাসপাতালেও এ ধরনের রোগী আগের তুলনায় দ্বিগুণ আসতে শুরু করেছে।’’

পৌষের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে তীব্র শীতে বেশি কাবু হয়ে পড়েছে শিশুরা।

এ কারণে তারা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শীতকালে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে বড়দের মতো শিশুরাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে তাদের সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ার প্রকোপ রয়েছে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ইসমাত আরা নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘‘শীত মৌসুমে শিশুর শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, রেস্পিরেটরি অসুখ বেড়ে যায়। অন্যান্য সমস্যাও বাড়ে। আমরা মা-বাবাদের এই সময়ে শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার কথা বলি যেন তাদের ঠাণ্ডা-সর্দি না লাগে। কারণ একবার ঠাণ্ডা লাগলে কমপেক্ষ ১৪ দিনের আগে সুস্থ হয় না। আর এতদিন হাসপাতালে রাখাও যায় না। কারণ এখানে অনেক রোগীর জন্য অনেক ঝুঁকি থাকে। রোগীর সুস্থতার জন্যই তখন ছুটি দিয়ে দিতে হয়।’’

ঢাকা শিশু হাসপাতালে এখন প্রচুর এখন প্রচুর ডায়রিয়ার শিশুরোগী ভর্তি হচ্ছে বলে জানা গেছে। ডাক্তাররা জানান, যেসব শিশুর ডায়রিয়া হালকা তাদের স্যালাইন দিতে হবে। আর জরুরি চিকিৎসার দরকার হলে শিশুদের তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

এ বিষয়ে ডাঃ ইসমাত আরা বলেন, ‘‘শীতকালে নবজাতক শিশুর জন্য সবচেয়ে আরামের জায়গা হলো মায়ের কোল। মায়ের বুকেই শিশু সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকে। এক্ষেত্রে যেসব মায়েরা গৃহিণী তাদের সন্তানরা বেশি সুবিধা পায়। তবে যারা কর্মজীবী তাদেরকে শিশুদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয় সবসময়।’’


সর্বশেষ

আরও খবর

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আকাশবীণা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


জেনে নিন কলার গুণাগুণ

জেনে নিন কলার গুণাগুণ


দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা

দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন রেহাই পাবেন না: শেখ হাসিনা


যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া

যা ইচ্ছে সাজা দেন, বারবার আদালতে আসতে পারব না: খালেদা জিয়া


পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি

পাকিস্তানের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন আরিফুর রেহমান আলভি


ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের

ভুটানকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের


ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও ১১ মামলা


ওয়েডিং ফটোগ্রাফার এলেন খান, যার শিডিউল পাবার পর ঠিক হয় বিয়ের তারিখ

ওয়েডিং ফটোগ্রাফার এলেন খান, যার শিডিউল পাবার পর ঠিক হয় বিয়ের তারিখ


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু


কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি

কারাগারেই হবে খালেদার দুর্নীতি মামলার শুনানি