Friday, July 1st, 2022
তুই মরে গিয়ে বাঁচ
October 27th, 2016 at 5:30 pm
তুই মরে গিয়ে বাঁচ

কাজি ফৌজিয়া:

‘যে দেশ তোমার সম্মান করতে শিখেনি সেই দেশের কোনো অধিকার নেই তোমাকে বাঁচিয়ে রাখার, তুমি (কন্যাশিশু) মরে যাও।’


আমি বাংলাদেশের খবর পড়ি না বা পড়ার সময়ও পাই না। আজ শপিংমলে গিয়েছিলাম আমার এক ভাগনীর জন্য হ্যালোইনের পোশাক কিনতে, ট্রেনে বসে ফেসবুক দেখছিলাম, কয়েকটি পোস্টের উপর নজর পড়ল। শারমিন সামসের লেখাটি পড়লাম, আরেক উকিল ভদ্রলোকের একটি লেখা পড়লাম, যা বুঝলাম ৫ বছরের একটি মেয়েকে ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে দুই মনুষরূপী পিশাচ। আমার গা কাঁপছিল হাত থেকে উপহারের ব্যাগটি মনে হয় পড়ে যাবে।

আমি একটি বাচ্চার মুখে হাসি দেখব বলে জামা নিয়ে যখন তার বাসায় যাচ্ছি, সেই সময়ে বাংলাদেশে একই বয়সেরেআরেকটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। হাত পায়ে শক্তি নেই, কোনরকমে বাড়ি ফিরে এলাম।

সারাক্ষণ একটাই চিন্তা, মেয়েটির মা বাবা কি করছে? মেয়েটির শারীরিক যন্ত্রণা কমাতে ডাক্তার কি ঔষধ দিচ্ছে! ওই মানুষরূপী জানোয়ারদের কি সাজা হওয়া উচিৎ? জানোয়ারটা ধরা পড়বে তো? পুলিশ মহাশয়রা কি টাকা খেয়ে এদের ছেড়ে দিবে? পুলিশ যদি না-ও ছাড়ে- উকিল হয়তো কথার মারপ্যাচে জজের কাছ থেকে জামিন নিবেই, অবস্থা গরম তাই এখন যদি জামিন নাও হয়, পরে আমরা যখন ভুলে যাব তখন হয়তো এরা ছাড়া পেয়েই যাবে।

আমি নিজের কথা ভাবলাম আহা আমি কি ভাগ্যবান আমার মেয়ে নেই! মেয়ের নিরাপত্তাহীনতার চিন্তাও নেই! আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাব নইলে এমন করে ভাবছি কেন? না দেখা কন্যাশিশুটির জন্য আমার চোখে এত বর্ষণ কেন? মা তুই হিন্দু না মুসলিম আমার দেখার দরকার নেই, শুধু অনুরোধ করি মরে যা মা, এই ক্ষত বিক্ষত দেহ নিয়ে বেঁচে থেকে কি হবে, মরে যা মা! তুই (কন্যাশিশু) আবার আসিস এই ধরাতে মেয়ে হয়ে নয়, মা কালি হয়ে দুষ্টের বুকে খঞ্জর চালাতে! নইলে কুমারি মাতা মেরি হয়ে আসিস জগতের পূঁজা দিতে। মেয়ে হয়ে জন্মাস না মা- বড় কষ্ট এই জীবনে।

আমি ফৌজিয়া মানবাধিকার কর্মী হয়ে বড় বড় আদর্শের কথা বলি, অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে রেস্তোরেটিভ জাস্টিস এর কথা বলি, কিন্তু বিশ্বাস কর মা তোর সাথে যে অন্যায় করেছে তাকে পেলে আমি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারতে পারব, একবারও আমার হাত কাঁপবে না। আর কত আহাজারি হাহাকার করব আমরা! আর কতবার বিচার চাইব! আর কত কন্যাশিশু সমাজে হায়েনাদের শিকারে পরিণত হবে?

মেয়েরা সমাজে মানুষ হিসেবে কবে স্বীকৃতি পাবে যদি এমন একটা টাইম লাইন থাকত, তাহলে আমাদের মতো মেয়ে মানুষেরা অপেক্ষায় দিন গুনতাম। ঘুণে ধরা সমাজ তো মেয়ে বাচ্চার নিরপত্তা দিতে পারবে না, তাই মায়েদের বলছি আজই বাজার থেকে লম্বা একটা শিকল কিনে নিয়ে আসেন। শিকলের এক প্রান্ত মেয়েটার পায়ে লাগান, আর অন্য প্রান্তটি আপনার হাতে রাখেন! তখন হয়তো শিশু নির্যাতনের ধারায় পড়ে যাবেন অথবা আপনার সোনামণি নিরাপদ থাকবে!

আমি কন্যাশিশুটির জন্য সমাজপতি রাষ্ট্র কারো কাছে বিচার চাইব না। যে দেশের সরকার প্রধান মেয়ে মানুষ, সেই দেশে মেয়ে মানুষ সবচে বেশি ধর্ষিত হয়, নির্যাতিত হয়, রাস্তায় বখাটের কোপের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়। যে দেশে সরকারি বেসরকারি সব দলেই ধর্ষক বহাল তবিয়তে আছে, সেই দেশের কাছে বিচার চাই না। আমি শুধু উপরওয়ালাকে বলছি তুমি যেখানেই থাকো বা সত্যি যদি থেকে থাকো, এই মেয়ের বাবা-মা কে সহ্য করার শক্তি দাও, আর ধর্ষককে দাও মৃত্যুর চেয়েও কঠিনতর কোন শাস্তি।


সর্বশেষ

আরও খবর

বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?

বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?


রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!

রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!

ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!


সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত  বন্ধুত্ব

সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত বন্ধুত্ব


প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ

প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ


ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান

ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান


কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ


করোনাকালের খোলা চিঠি

করোনাকালের খোলা চিঠি


সিগেরেট স্মৃতি!

সিগেরেট স্মৃতি!