Tuesday, April 21st, 2020
দাদন ব্যাবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী ঠেকাও
April 21st, 2020 at 1:29 pm
দাদন ব্যাবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী ঠেকাও

রুহুল আমিন;

আমরা প্রায়শ:ই খবরে দেখি বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে জানতে পাই কৃষকের উৎপাদিত পন্য কখনো পানির দামে বিক্রি করে, কখনো ক্ষেতেই নষ্ট করে মজুর দিয়ে তুললে লোকশান হওয়ার কারনে আবার কখনো পশুকে খাওয়ায়, কখনো আগুন দিয়ে ক্ষেতেই পুড়ে ফেলে।
আবার এমনও অফার দেয় ক্ষেত পরিষ্কারের জন্য বিনা মুল্যে যে যতখানি পারো তুলে নাও। এছাড়াও সাধারনত কৃষক যে পন্য দাদন সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে ৫ টাকা কেজি, সেই পন্যই আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কিনি ৬০/৭০/১০০ টাকা কেজি। কারন কি?

কারনটা হচ্ছে সরকার। সরকারের নিয়ন্ত্রনহীনতা এবং সরকার কৃষক বাঁচাতে উৎসাহ দেয় না। এক শ্রেনীর সরকারী কর্মকর্তা ও দাদন সিন্ডিকেট সরকার ও কৃষককে জিম্মি করে। এই দাদন সিন্ডিকেট কৃষকের অভাবের সময় বিশেষ করে ফসল বোনার সময় কৃষককে আগাম টাকা দিয়ে রাখে। যে কারনে ঐ ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে তাদের বেধে দেয়া দামে কৃষক পন্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

দাদন ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেট আবার অধিক মুনাফা রেখে পাইকারের কাছ বিক্রি করে। পাইকার আর এক ধাপ মুনাফা বাড়িয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগে, জেলায় পাঠায়। সেখান থেকে আর এক ধাপ মুনাফা রেখে খুচরা কারবারীদের কাছে পৌঁছে। খুচরা কারবারীরা এই সকল সিন্ডিকেটের নির্দেশ মোতাবেক তাদের বেধে দেয়া চড়া মুল্যে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়। যার দরুন দেখা যায় সকল পন্যের দাম সব এলাকায় প্রায় সমান।

সরকার যদি ফসল বোনার সময় কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী ঋন দিত তাহলে অন্তত দাদন সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যেত। দাদন সিন্ডিকেট যদি টাকা আগাম দিয়ে সেই টাকা তুলে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারে তাহলে সরকার ঋন দিয়ে কেন তুলতে পারবে না! কেন কৃষককে ঋন দিতে ভয় পায়! কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচে। এটা তো চিরন্তন সত্য কথা। তাহলে কি সরকার দেশ বাঁচাতে চায় না! কৃষি বিভাগগুলো যদি কৃষির উপর সঠিক নজর দিত তাহলে কৃষক প্রতি বছরই বাম্পার ফসল ফলাত। প্রতি উপজেলায় যে কৃষি ও পশু দপ্তর আছে এটা কৃষকসহ সাধারন জনগন অনেকেই জানে না। তাদেরকে জানানোর জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিটি কৃষকের কাছে যেতে হবে। কৃষি ও পশু দপ্তরগুলোকে সব সময় কৃষকদের প্রতি নজর রেখে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু আদৌ তা করা হয় না।

কৃষক কষ্ট করে বাম্পার ফসল ফলালে মিডিয়ার সামনে কর্মকর্তারা হাজির হয়, ক্রেডিট নেয়। আর যখন ফলন খারাপ হয় তখন কর্মকর্তারা চুপষে যায়। সরকার যদি নিজ উদ্যেগে কৃষকদের সিজনাল ঋন দিয়ে এবং কৃষক সমিতি করে ফসল বিভিন্ন বিভাগে বিভাগে জেলায় জেলায় পৌঁছানোর একটু দায়িত্ব নিত তাহলে কৃষক সঠিক মুল্য পেত এবং খুশী হয়ে আরও বেশী ফসল ফলাতে মনোযোগী হোত। যা ব্যাপকভাবে রপ্তানীও করা যেত।


সর্বশেষ

আরও খবর

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ


করোনাকালের খোলা চিঠি

করোনাকালের খোলা চিঠি


সিগেরেট স্মৃতি!

সিগেরেট স্মৃতি!


পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট

পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট


করোনায় ফসল কাটতে খেমজুরের সংকট নিরসনে করনীয়

করোনায় ফসল কাটতে খেমজুরের সংকট নিরসনে করনীয়


করোনায় যা যা করা যেতে পারে

করোনায় যা যা করা যেতে পারে


প্রানের জন্য ত্রান

প্রানের জন্য ত্রান


খালিদী এবং তার আন্তর্জাল সাংবাদিকতা

খালিদী এবং তার আন্তর্জাল সাংবাদিকতা


বিদায় মুক্তিযোদ্ধা খোকা

বিদায় মুক্তিযোদ্ধা খোকা


আমারে নিবা মাঝি!

আমারে নিবা মাঝি!