Saturday, June 25th, 2016
দান উৎসাহিত করিনে
June 25th, 2016 at 9:56 pm
দান উৎসাহিত করিনে

মনোরোমা বিশ্বাস: লিখতে ইচ্ছে করে, ব্যস্ততায় লেখা হয়ে ওঠে না। লিখতে গেলে মনোসংযোগ লাগে, লাগে পড়াশুনা।

শাশুড়ির অসুখ আমাকে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ করে ফেলেছে। এর সাথে পারিবারিক ঝামেলা এবংকাজের জায়গার ঝামেলা তো আছেই। সেই ঝামেলার কথাই বলছি।

গত সোমবার রাতে ভালো ঘুম হয়নি, কারণ আমার এক শত্রু ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে। শত্রু এক সময় বন্ধু ছিলো,তাই বিরক্তিটা একটু বেশি। এরপর শাশুড়ির কাতরানোতে রাত চারটার আগেই জেগে গেলাম, উনার কেমো দেওয়ার পরশারীরিক কিছু যন্ত্রনা বেড়ে গেছে। সারা শরীরে ব্যথা, ঘুম নেই, খেতে পারেন না। ক্যানসারের রোগী নিয়ে আমার আগেকোনো ধারণা ছিলো না, তাই আমিও কিছুটা ক্যাবলা হয়ে গেছি। অগত্যা, আমিও আর না ঘুমিয়ে রান্না ঘরে ঢুকে চিকেনকারি আর পোলাও রান্না করে ফেললাম।  আমার ডেন্টাল ক্লিনিক ৮ টায় শুরু, দুই কিলোমিটার হেঁটে ক্লিনিকে যাই, পাব্যথা, তাই এক ঘন্টা আগেই বের হই। ক্রমাগত রোগী দেখে ৫ টায় ছুটির পর ছুটি বাংলা দোকানে।  এক গাদা বাজার,যেমন, দুধ, আম, লেবু, কচু, কলা ইত্যাদি বাজার করে হেঁটে বাড়ি এলাম। বাসায় এসে ক্লিনিকের ড্রেস বদল করেই রান্না ঘরেঢুকে রাতের খাবার রেডি করলাম। উল্লেখ্য, রবিবারে দুপুরে খেয়েছিলাম, তার পর আর ভাত খাওয়া হয়নি। সোমবারেসারাদিন খিদে লাগেনি, তাই খাইনি।

বুধবার সকাল পাঁচটার আগেই ঘুম ভেঙে যায়, তারপর রান্না ঘরে ঢুকে সেই রান্না। ছেলেরা বাড়িতে থাকার জন্যে রান্না বেশিকরা লাগে। ডিমের তরকারি রান্না করেই তড়িঘড়ি করে কাজে ছুটলাম, এইদিনে সকাল সাড়ে সাতটায় রোগী দেখা শুরুকরি। আজ রোগি একজন ক্যান্সেল হওয়ার জন্যে একটা স্ট্যাটাস দেই। নিউইয়র্কের নামযজ্ঞ নিয়ে। এতে রিতা রায় মিঠুনামে একজন বিরুপ মন্তব্য করে যা সে সব সময় আমার স্ট্যাটাসে করে। আমি কিছু মনে করিনে। কিন্তু সে আমারইনবক্সে এসে হাজির হয়।

সেঁজুতি আমার ফেসবুক বন্ধু, তার ছেলে আর্য ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করছে। সব খবর আমি ফেসবুক থেকে পাই। তারচিকিৎসার জন্যে অনেক টাকা দরকার। অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, দিচ্ছে। ঐ সময় আমার আরেক বন্ধুশাহনাজ পারভিন রুমা ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করতেছিলো। আমি নিজে কিছু টাকা দেই এবং মানুষের কাছ থেকে কিছু টাকাসংগ্রহ করে দেই।  আর্যের জন্যে রিতাদি, সুপ্রীতি, অঞ্জন রায়সহ অনেক নাম করা লোক ফান্ড রেইজ করতেছিলো। আমিএসব ফেসবুক থেকেই দেখেছি। আর্যের জন্যে একটা পেইজ ওপেন করা ছিলো, সুপ্রীতি দির ওয়াল থেকে সেটা আমি পাই।সেখানে একটা একাউন্ট নাম্বার ছিলো, সেই একাউন্টে আমি ৫০ ডলার পাঠাই।

আজ ক্লিনিক চলাকালীন রিতা রায় আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি আর্যের জন্যে কিছু ডোনেট করবো কিনা এবং কিছু ফান্ডরেইজ করবো কিনা। আমি জানালাম, ঝামেলায় আছি, কষ্টে আছি এ জন্যে ফান্ড রেইজ করতে পারবো না। এতে সে রেগেগিয়ে বলে তাহলে আমি যেনো ওই রকম স্ট্যাটাস না দেই। আমি বললাম, স্ট্যাটাস আমি কি দেবো আর কি দেবো না, তাআমার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। এরপর সে সেঁজুতিকে ডেকে নিয়ে আসে আমার ইনবক্সে। সেঁজুতি এসেই বলে আমারটাকা তারা পায়নি, অর্থাৎ অস্বীকার করে আমি টাকা দেইনি। আমি তো দান করেও মহাফাঁপড়ে পড়ে গেলাম। আমার কথাতারা বিশ্বাস করছে না। আমি বললাম, আমার কাছে প্রমাণ আছে, গত বছর টাকা পাঠিয়েছি। সেঁজুতি সে প্রমাণ দেখতেচায়। আমি যে এতো ব্যস্ত একটা মানুষ,  প্রমাণ দেখানোর জন্যে সময় আমার হাতে নেই, তবুও এরা আমাকে রেহাই দেবেনা। শাশুড়ি কিছু খেতে পারেন না, ক্লিনিক শেষ করে চাইনিজ সুপার মার্কেটে গেলাম তাজা মাছ কিনতে যা শাশুড়িভালোবাসে। এরপর আরো কিছু বাজার করে দৌড়াতে দৌড়াতে ‘ম্যানি এক্সচেঞ্জ ‘ এ গেলাম প্রমাণ সংগ্রহ করতে।কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট আউট নিয়ে, সেই দোকানে দাঁড়িয়েই ছবি তুলে সেটা ইনবক্সে পাঠালাম।

সেঁজুতি সেটা পেয়ে আমাকে জানিয়েছে, আমার নাম না থাকার জন্যে সে বুঝতে পারেনি টাকা কে পাঠিয়েছে। আমার কথাহলো, আমি যখন বলছি, টাকা পাঠিয়েছি, সেই কথাটা কি যথেষ্ঠ ছিল না? আমাকে প্রমাণ দিতেই হবে?  এ প্রমাণ দিতেআমার যে ভোগান্তি হলো, তার ভাগ কে নেবে?  ( আমি প্রচুর দান করি, মানে করতে বাধ্য হই। যদিও দান করা কেউৎসাহিত করিনে। এখন থেকে আর দান করবো না।)

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চিকিৎসক


সর্বশেষ

আরও খবর

রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!

রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!

ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!


সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত  বন্ধুত্ব

সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত বন্ধুত্ব


প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ

প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ


ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান

ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান


কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ


করোনাকালের খোলা চিঠি

করোনাকালের খোলা চিঠি


সিগেরেট স্মৃতি!

সিগেরেট স্মৃতি!


পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট

পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট