Monday, July 4th, 2022
দুই মাস্টার মাইন্ড দেশেই রয়েছেন
August 6th, 2016 at 10:11 pm
দুই মাস্টার মাইন্ড দেশেই রয়েছেন

ঢাকা: গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার মাস্টার মাইন্ড সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরী দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারেননি। তারা দুজনে বাংলাদেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিয়া ও তামিম বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের হোতা ও মাস্টারমাইন্ড। তাদের সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারা এ সমাজেই বসবাস করে, বাংলাদেশেই থাকে।’

আইজিপি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই তাদের ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যেকে যদি সচেতন হন এবং তারা যদি জানান যে এরা আমাদের বাড়িতে বা এলাকায় আছে তাহলে জাতি উপকৃত হবে। আমরা তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখবো।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে জানান, ‘আমরা ধারণা করছি তামিম ও জিয়া দেশেই রয়েছেন। তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে অবশ্যই আমরা তথ্য পেতাম। তেমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ ও গোয়েন্দারা কাজ করছে।’

সম্প্রতি জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরীর সম্ভাব্য নতুন চেহারার ৫টি ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে জিয়া-তামিম নিজেদের চেহারা পাল্টে ফেললেও তাদের সম্ভাব্য চেহারা কেমন হতে পারে সে বিষয়ে জনসাধারণকে ধারণা দিতেই ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

Zia-00-newsnextbd-
মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক

সেনাবাহিনীতে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান-চেষ্টার পরই ২০১২ সালে প্রথম আলোচনায় আসেন মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অভ্যুত্থান-চেষ্টা ব্যর্থ হবার পর থেকেই জিয়ার আর কোনো সন্ধান মেলেনি। জিয়াকে ধরতে ওই সময় পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকায় তার শ্বশুর মোখলেছুর রহমানের বাসায় দফায় দফায় অভিযান চালায় পুলিশ। রাজধানীর কয়েকটি স্থানেও জিয়ার খোঁজে চলে অভিযান। কিন্তু আজও জিয়া রয়েছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। মেজর জিয়ার শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা হামিদা বেগম।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ জিয়াউলের পরিকল্পনায় একাধিক ব্লগার, লেখক, ভিন্ন মতাবলম্বী ও ধর্মাবলম্বী খুন হন। সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থাতেই জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সৈয়দ জিয়াউল। ২০১১ সালে কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন তিনি। ওই বছর ১১ ডিসেম্বর এ ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হয়। ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা তার অভ্যুত্থান চেষ্টা ভেস্তে দেন। এর পর ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সেনাসদর থেকে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সে সময় জিয়ার ছুটি ও বদলি আদেশ বাতিল করে তাকে শিগগিরই ঢাকার লগ এরিয়া সদর দপ্তরে যোগ দিতে বলা হয়। বিষয়টি টেলিফোনে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর তাকে জানানো হলেও তিনি পলাতক থাকেন।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, আত্মগোপনে থেকে জিয়াউল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) আধ্যাত্মিক নেতা শাইখ জসিমউদ্দিন রাহমানীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ধীরে ধীরে এবিটির শীর্ষপর্যায়ের একজন নেতা হয়ে ওঠেন। জিয়াউল হক ছিলেন সেনাবাহিনীরও একজন চৌকস অফিসার। কমান্ডো ট্রেনিং রয়েছে তার।

অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী মেজর জিয়াউল হক তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়েও বেশ পারদর্শী ছিলেন। তাই সবার সঙ্গে মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগ করতে তাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমনকি বিদেশে যেসব প্রবাসী এ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ করতেন জিয়াউল। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিরা জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের অনেকের সঙ্গে মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের যোগাযোগ ছিল।

মেজর জিয়াউল হকের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নে। মেজর জিয়া এক সময় বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ৯ নম্বর সড়কের ৫১২ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকতেন। তার বাবার নাম সৈয়দ জিল্লুর হক। তিনি সত্তরের দশকে চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে যান। তার বাবা দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি আরবে অবস্থান করেন। জিয়া দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। তার পাসপোর্ট নম্বর— এক্স-০৬১৪৯২৩।

জিয়াউল হক প্রথমে বিয়ে করেন তার মামা বিচারপতি মইনুল হকের মেয়ে লিপিকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০০৭ সালে প্রথম স্ত্রী মারা গেলে তিনি পটুয়াখালীর মোখলেছুর রহমানের ছোট মেয়ে সাফা জোহরাকে বিয়ে করেন। তার শ্বশুর পটুয়াখালী শহরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। শাশুড়ি হামিদা বেগম পটুয়াখালী শহরের শেরেবাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা।

Tamim-00-newsnextbd-
তামিম আহমেদ চৌধুরী

তামিম আহমেদ চৌধুরীর বাবার নাম শফিক আহমেদ চৌধুরী এবং মা খালেদা শফি চৌধুরী। তার স্থায়ী ঠিকানা সিলেটের বিয়ানি বাজার থানার দোবাক ইউনিয়নের বড়গ্রাম সাদিমাপুর। তামিমের বর্তমান পাসপোর্ট নম্বর এএফ-২৮৩৭০৭৬ ও পুরান পাসপোর্ট নম্বর এল-০৬৩৩৪৭৮। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর- ১৯৮৬০০৯১২৪১০০১৩৪২। ১৯৮৬ সালের ২৫ জুলাই তার জন্ম। তামিম সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর দুবাই থেকে ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/পিএসএস


সর্বশেষ

আরও খবর

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


নতুন ডিআইজিদের যা বললেন আইজিপি

নতুন ডিআইজিদের যা বললেন আইজিপি


পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় হচ্ছে আর্মড পুলিশ

পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় হচ্ছে আর্মড পুলিশ


দুর্নীতির দায়ে শ্রীঘরে সরকার দলীয় এমপি

দুর্নীতির দায়ে শ্রীঘরে সরকার দলীয় এমপি


আলোচনায় কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

আলোচনায় কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা


বিএনপি নেতা ইশরাক গ্রেফতার

বিএনপি নেতা ইশরাক গ্রেফতার


এনামুল বাছিরের ৮ আর ডিআইজি মিজানের ৩ বছর কারাদণ্ড

এনামুল বাছিরের ৮ আর ডিআইজি মিজানের ৩ বছর কারাদণ্ড


চাঁদপুরে পুকুরে প্রাইভেটকার, নিহত ৫

চাঁদপুরে পুকুরে প্রাইভেটকার, নিহত ৫


লাইফসাপোর্টে কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর

লাইফসাপোর্টে কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর


নির্বাচন কমিশন গঠনে ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি

নির্বাচন কমিশন গঠনে ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি