Tuesday, September 6th, 2016
দুদকের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী
September 6th, 2016 at 9:30 pm
দুদকের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী

ঢাকা: মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তা সর্বশেষ ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ কর্মকর্তার নানা পদক্ষেপ দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

সরকারের প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তা চট্টগ্রাম বন্দরের ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকাকালে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার অভিযানে নেমে সাহসী ভূমিকার মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

এরআগে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালেও সাহসী ভূমিকা রাখেন। এরপর একে একে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও পদের মধ্যে সমুদ্র পরিবহন অধিফতর, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট), সরকারি সমবায়ী প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার এমডি পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পোস্টিং হয় মুনীর চৌধুরীর। এর আগে পর্যন্ত বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট পদটি ক্ষমতাহীন হিসেবেই বিবেচিত ছিল। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানতেন না ম্যাজিস্ট্রেসির ন্যায়ানুগ ক্ষমতা দিয়ে একটি বন্দরে কী অভাবনীয় পরিবর্তন আনা যায়। মুনীর চৌধুরী একের পর এক সাহসী অভিযান চালিয়ে তা-ই প্রমাণ করেন। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার,  রক্ষা কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবসা নিতে প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসের পরিচয় দেন তিনি। এর মাধ্যমে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট।

২০০৩, একের পর এক লঞ্চডুবির ঘটনা তখন সবার মুখে মেুখে। এর কারণ ছিল অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্যবোঝাই। এর বিরুদ্ধে দাঁড়ান মুনীর। সদরঘাট থেকে টাগবোটে ধাওয়া করে মোবাইল কোর্ট মুন্সিগঞ্জের কাছে গিয়ে ধরে লঞ্চ কোকোকে। লঞ্চে ঢুকতে চাইলে বাধা পান। বলা হলো,  প্রধানমন্ত্রীর লঞ্চে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ঢুকতে পারে না। কোনো মোবাইল কোর্ট এখানে চলে না। সেই বাধা উপেক্ষা করে লঞ্চে ঢুকে যাত্রা বাতিল করা হলো। যাত্রীদের বুঝিয়ে বলা হলো লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অপরাধ। আটক করা হলো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী পুত্রের মালিকানাধীন লঞ্চটি। এমন বিরল সাহসিকতার পরিচয় দেন ম্যাজিস্ট্রেট মুনীর চৌধুরী।

এরপর মিল্কভিটায়ও তিনি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্ষম হন।

ক্যারিয়ারের ধারাবাহিক সাহসী ভূমিকার সাফল্যে মিল্কভিটা থেকে তাকে ডিপিডিসি’র সচিব পদে নিয়োগ দেয় সরকার। এর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে মুনীর চৌধুরী সেটিকে লাভবান করার উদ্যোগ নেন। রাজনীতিবিদ, এমপি, মন্ত্রী, আমলা কারো চাপ-ভীতি তাকে টলাতে পারেনি। তার এ কর্মদক্ষতায় লাভবান হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই স্পেশাল টাস্কফোর্স বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেড় বছরে অতিরিক্ত ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।

বিপুল রাজস্ব আদায়সহ দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানি বন্ধে অবদান রাখায় মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীকে দেয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা।

সম্পাদনা-ময়ূখ ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ


করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার