Monday, July 4th, 2022
দুর্বিষহ জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন আহতরা
August 20th, 2016 at 9:43 pm
দুর্বিষহ জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন আহতরা

ঢাকা: আজও মনে পরলে গুমড়ে গুমড়ে কেঁদে উঠেন ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আহত নেতা কর্মীরা। এদের অনেকেই বেঁচে আছেন পরিবারের বোঝা হয়ে।

ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী নাসিমা ফেরদৌসীর সারা শরীরে এখনো দেড় হাজারের মতো স্প্লিন্টার রয়েছে। ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতাল ও দেশের ট্রমা সেন্টারে ১৮টি অপারেশন করা হয়েছে।

গ্রেনেড হামলায় তার ডান পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। দেশের ডাক্তাররা তার ওই পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত দিলেও পরিবারের বাধার মুখে তা হয়নি। পরে ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসকরা পা না কেটেই কতগুলো অপারেশনের মাধ্যমে তাকে আপাতত সারিয়ে তোলেন। দু’মাস হাসপাতালে থাকতে হয় তাকে। এখন হুইল চেয়ারই সর্বক্ষণের সঙ্গী। তবে লাঠিতে ভর করে দাঁড়াতে পারেন, হাঁটতে পারেন এক-আধটু।

দিনটির কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে তিনি বলেন, ‘সে দিন ট্রাকের খুব কাছাকাছিই দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ, মুহূর্তেই দেখি চারিদিকে রক্তাক্ত মানুষদের হাহাকার। সেদিন আমার বুকে বাঁধা ছোট্ট ব্যাগে মোবাইল আর চাবির জন্য স্প্লিন্টার ফুসফুসে লাগতে পারেনি। আর অল্পের জন্য একটি স্প্লিন্টার স্পর্শ করেনি মস্তিষ্ক। তবে এখনো আমি এই অসুস্থ শরীর নিয়েই হাজির হই সব মিটিং-মিছিলে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদা তারেক দীপ্তি  সেদিন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানের হাত ধরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সমাবেশে। তারপর কী হয়েছে তার মনে নেই। গ্রেনেড কেড়ে নিয়েছে আইভি রহমানের প্রাণ। কিন্তু এখনো শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন দীপ্তি।

21th-august-2

নিজের শরীরের অসহনীয় যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বললেন, ‘এখনো শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টারের দুঃসহ যন্ত্রণাবয়ে বেড়াতে হচ্ছে। কী দোষে আমাদের জীবন এমন হলো? কী অপরাধে আমাদের এ জীবনযাপন করতে হবে? হাঁটতে পারি না, ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। সব সময় দু’জন সঙ্গী রাখতে হয়। ঢাকার শমরিতা হাসপাতাল, মিরপুরের সেলিনা হাসপাতাল ও ভারতের কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালসহ ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরে অসংখ্যবার অস্ত্রোপচার করে দু’শতাধিক স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব হয়েছে শরীর থেকে। কিন্তু এখনো সারা শরীরে বিঁধে রয়েছে পাঁচ শতাধিক স্প্লিন্টার।’

সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নির্মিত মঞ্চের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার মোছলেমহাটি এলাকার আব্দুল বেপারী। হঠাৎ বিকট শব্দে গ্রেনেডের বিস্ফোরণ। তারপর আর কিছুই তার মনে নেই। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বেডে। শরীরে তখন স্পিন্টারের অসহ্য জ্বালা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলার পর তাকে উদ্ধার করে কে যে হসাপাতালে নিয়ে গিয়েছিল তাও সে জানে না।

দোহারের প্রবীণ এ আওয়ামী লীগ নেতা ২১ আগস্ট কেন্দ্রীয় নেতাদের ডাকে জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন। সভার প্রথম সারিতেই ছিলেন তিনি। হঠাৎ গ্রেনেড হামলায় মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সভাস্থল। তারপর ঢাকা মেডিকেল হাসপালের বেডে। উদ্ধারকর্মীরা মৃত ঘোষণা করলেও এখনো বেঁচে আছেন তিনি। শরীরে অসংখ্য স্পিন্টারের ক্ষত নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। এখন তিনি সম্পূর্ণ অক্ষম।

সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলার কথা জিজ্ঞেস করতেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন তিনি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘সেই ভয়াবহ দিনটি মনে করতে চাই না। ওই দিনটির জন্য আজ আমার শরীরের বেশিরভাগ অংশই অচল হয়ে গেছে। এখনো অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। মাঝে মাঝেই বিভিন্ন স্থানে ব্যথার যন্ত্রণায় অচেতন হয়ে পড়ি আমি। বর্তমানে আমার পরিবারের বোঝা হয়ে বেঁচে আছি। পরিবারের কোনো কাজেই আমি আর তাদের সাহায্য করতে পারি না বরং তারাই আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকেন।’

প্রতিবেদন: প্রীতম সাহা সুদীপ, সম্পাদনা: সজিব ঘোষ

 


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার