Sunday, September 11th, 2016
দেশি খামারীর মুখে হাসি
September 11th, 2016 at 9:46 pm
দেশি খামারীর মুখে হাসি

দেলোয়ার মহিন, ঢাকা: আর মাত্র একদিন বাকি পবিত্র ঈদুল আজাহার। আর এই ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পশুর হাট গুলোতে প্রচুর দেশি গরু আমদানি হয়েছে। ভারত সরকার গরু রফতানি ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ভারতীয় গরু তেমন আমদানি হয়নি। এতে দেশি গরুর বাজার রমরমা। দাম ও চাহিদা বেড়েছে। ফলে খামারীদের মুখে ফুটেছে হাসি।

এবার ঈদে গরু বিক্রি করে খামারি গত দুই বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

অস্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ানা ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড জাতের গরু বিক্রি হচ্ছে খুব কম। এই জাতের প্রতিটি গরু বিক্রি হয় এক থেকে তিন লাখ টাকায়। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ব্যাপারীরা এলে হাইব্রিড জাতের গরু বেশি বিক্রি হবে বলে ব্যবসায়ী ও খামারিরা জানান।

শনিবার ও রোববার রাজধানীর হাজারীবাগ, গাবতলী আফতাব নগর ও উত্তরা গরুর হাট ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

কয়েকজন গরু ব্যাবসায়ী জানান, পশুর হাট গুলোতে ভারতীয় গরু-মহিষের আমদানি নেই। নেপাল ও ভুটানের গরু-মহিষ আমদানি হচ্ছে, তবে পরিমানে খুবই কম। এ সুযোগে অতি মুনাফা লোভী এক শ্রেনির অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা স্থানীয় পশুর হাটগুলো থেকে গরু কিনে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে গরুর দাম বাড়িয়ে দিতে পারে বলে অনেকেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গরু ব্যাবসায়ীরা বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানির পশুর চাহিদার বড় অংশই অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে মেটানো হয়। বাকিটা আসে প্রধানত ভারত থেকে। তবে ভারতীয় গরু আমাদের দেশের বাজার নষ্ট করে, শিল্প-বাণিজ্য নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই বার ঠিক এমনটা হয়নি। বাজারের চাহিদার তুলনায় আমাদের দেশি গরুই বেশি আছে।’

খামারি, চামড়া ও মাংস ব্যবসায়ী সমিতি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে, গবাদিপশু পালন বৃদ্ধি পাওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি যোগ্য গরু আছে ৪৪ লাখ ২০ হাজার। ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৭০ লাখ ৫০ হাজার।

রাজশাহী, খুলনা ও লালমনিরহাটের কাস্টমস ও এক্সাইজ কার্যালয় এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সূত্র মতে, কাগজে-কলমে রফতানি বন্ধ থাকলেও ভারত ও মিয়ানমার থেকে অনেক গরু আসছে। গত এক বছরে ভারত থেকে গরু এসেছে প্রায় ১০ লাখ; যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি। আগের বছর সব মিলিয়ে ভারত থেকে দুই থেকে আড়াই লাখ গরু এসেছিল।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় বলেন, ‘গত বছর ভারত থেকে খুব অল্প গরু এসেছে। ফলে আমরা দেশি গরু দিয়েই কোরবানির চাহিদা মিটিয়েছি। আশা করি, এ বছরও গরু নিয়ে কোনো সংকট হবে না।’

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাবে, আগে দেশে সাধারণত প্রতিবছর গবাদিপশুর সংখ্যা দুই থেকে তিন লাখ করে বাড়ত। কিন্তু গত এক বছরে বেড়েছে পাঁচ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে গরু প্রায় দেড় লাখ। এর আগের বছর গবাদিপশু বেড়েছিল তিন লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে গরু ছিলো ৮০ হাজার। এ বছর গবাদিপশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকার একটি পূর্ণচক্রায়ণ তহবিল তৈরি করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে খামারিদের পাঁচ শতাংশ সুদে মোট ৬৫ কোটি টাকার গবাদিপশু ঋণ দেয়া হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে মোট গবাদিপশুর সংখ্যা চার কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে গরু-মহিষ দুই কোটি ৩৫ লাখ এবং ছাগল-ভেড়া দুই কোটি ৫৫ লাখ।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সূত্র বলেছে, আগে গবাদিপশুর ৭০ শতাংশই আসত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ আসত অন্যান্য এলাকা থেকে। গত দুই বছরে এসব অঞ্চলের পাশাপাশি টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদী ও মানিকগঞ্জের মতো জেলায়ও গবাদিপশু পালন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে দেশি গরুর সরবারহও বেড়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু-ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে এক কোটি নয় লাখ পশু প্রস্তুত ছিলো। এর মধ্যে কোরবানি দেয়া হয়েছে ৯৬ লাখ গরু-মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। অর্থাৎ গতবারও কোরবানির পশুর সংকট হয়নি।

এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাঁট বসেছে। যেখানে গত বছর এর সংখ্যা ছিলো ১৫টি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর পরিচালক (উৎপাদন) মোক্তার হোসেন বলেন, ‘সারাদেশে গরুর খামার রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। কোরবানিকে সামনে রেখে প্রতিটি জেলাতে মৌসুমী খামার গড়ে তোলা হয়। দেশে চলতি বছর ৭৫ থেকে ৮০ লাখ গরুর বাছুর রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩২ লাখ গরু কোরবানির জন্য বিক্রি হবে। এর চাহিদা বাড়লে এর পরমিাণ আরো বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘হিসাব মতে এবার কোরবানিতে মোট ৪০ লাখ গরুর চাহিদা হতে পারে। আমাদের হাতে ৩০/৩২ লাখ গরু প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, বাংলাদেশে ২৮ লাখ পরিবার সরাসরি গবাদি পশু পালনের সঙ্গে জড়িত। দেশে গরুর সংখ্যা দুই কোটি ৩৬ লাখ ও মহিষের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এর মধ্যে গাভি ও বকনা বাছুর রয়েছে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ। ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা দুই কোটি ৫৫ লাখ।

গাবতলী পশুরহাঁট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আসন্ন ঈদে কোরবানিযোগ্য দেশি পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই। এবার বাজারের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই দেশি গরু। অবশিষ্ঠ পশু ভারত, মিয়ানমার ও নেপাল থেকে আমদানি করা।’

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার


অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর

অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর