Monday, October 17th, 2016
দেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংককে পাশে চান প্রধানমন্ত্রী
October 17th, 2016 at 8:07 pm
দেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংককে পাশে চান প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের উন্নয়ন প্রয়াসে আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হবে। বিশ্বব্যাংক আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। আমাদের এই প্রয়াসে বিশ্বব্যাংক আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে- এ প্রত্যাশা করছি।’

শেখ হাসিনা সোমবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমস্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা, ‘রূপকল্প ২০২১’এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্য-অশিক্ষা এবং বঞ্চনামুক্ত ‘সোনার বাংলাদে’ বিনির্মাণের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত।

বাংলাদেশকে অমিত সম্ভাবনার দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী, দৃঢ়চেতা এবং পরিশ্রমী। নিজেদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমরা দৃঢ়-প্রত্যয়ী।

তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে মানব-উন্নয়ন সূচকে মধ্যম ক্যাটাগরির দেশ এবং মাথাপিছু আয় বিবেচনায় নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা সহসাই স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে বেরিয়ে আসব এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সফররত বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানা ডিক্সন বক্তৃতা করেন। বিশ্ব ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট পল রোমার অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মেজবাহ উদ্দীন অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এগিয়ে যাওয়ার পথে আমাদের সামনে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করছেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের জনমিতিক সুবিধা’র (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সদ্ব্যবহার করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বেশ কিছু হাইটেক পার্ক, সফ্টওয়্যার টেকনোলজি পার্ক প্রতিষ্ঠাসহ বেসরকারি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্ধারিত সময় ২০৩০ সালের পূর্বেই এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদারকি টিম এসডিজি বাস্তবায়ন কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট বহুবিধ দুর্যোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সফলতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সময় দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশের উপরে, যা হ্রাস পেয়ে ১৯৯১ সালে দাঁড়ায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশে। আমরা বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। ২০২১ সাল নাগাদ এটি আমরা ৭ শতাংশ বা ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসমতা দূর করতে সামাজিক নিরাপত্তা, যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এজন্য সরকার মোট বাজেটের ১৩ শতাংশ এবং জিডিপি’র ২ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যয় করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি ব্যয়ের সুফল নিশ্চিত করতে আমরা জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্ব সম্প্রদায় কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই দেশ থেকে দারিদ্র্য এবং ক্ষুধা নির্মূল করা।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংস্থার অবদানের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে জাতীয় আয়ের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ০৫ শতাংশে, মূলত ৭ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ছিল ২৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন টাকা।

এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বলানি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৪ সালে ১৪২তম স্থানে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব আমাদের দেশের উন্নয়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ এখনও বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এরফলে, বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা আশা করি, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন পরিবেশ সংক্রান্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। জলবায়ু পরিবর্তনকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা জলবায়ু-সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি লাঘবে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করেছি।

অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ নিজস্ব সুর ও কথায় ‘এন্ড পোভার্টি’ শীর্ষক একটি ভিডিও সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নামে একটি তথ্য চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে

করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে


গণপরিবহন আরও কিছু দিন বন্ধ রাখার পক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গণপরিবহন আরও কিছু দিন বন্ধ রাখার পক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী


২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৩৬৩, মৃত্যু ২৫

২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৩৬৩, মৃত্যু ২৫


২৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

২৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি


গাজায় হামাস প্রধানের বাড়িতে ইসরায়েলের বোমা হামলা

গাজায় হামাস প্রধানের বাড়িতে ইসরায়েলের বোমা হামলা


ঈদের ছুটি শেষে করোনা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

ঈদের ছুটি শেষে করোনা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরছে মানুষ


সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন, করোনামুক্তিতে বিশেষ দোয়া

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন, করোনামুক্তিতে বিশেষ দোয়া


আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড