Saturday, September 3rd, 2016
দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক গ্রেফতার ও কিছু কথা
September 3rd, 2016 at 11:34 pm
দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক গ্রেফতার ও কিছু কথা

রহিম আব্দুর রহিম: আমরা জানি ‘কুকুর-পুলিশ-সাংবাদিক’ এরা সমাজের অতন্দ্র প্রহরী। অথচ এরাই সমাজে অবহেলিত এবং  নিন্দিত। সংবাদ, সংবাদপত্র সমাজের দর্পন, একজন সাংবাদিক ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের নিন্দুক আবার এরাই  সংশ্লিষ্ট অঙ্গনের পরম দরদী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তিনি তার কলমে ষ্পষ্ট করেছেন, ‘নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো, যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।’ অথচ আমরা সুনাম, সু-যশ শুনতে এবং প্রচার করতে ভালোবাসি, যখন আমাদের অনিয়ম, দুর্নীতি, অন্যায় অনাচার প্রকাশ পায় তখনই আমরা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠি।

সংবাদ, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকরা অন্যায়, অসত্য, অসুন্দরের বিরুদ্ধে ঢিল মারবে এটাই নিয়ম। ভুলে গেলে চলবে না, আমরা সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কতটুকু দায়িত্ব পালন করছি। অথচ একজন সাংবাদিক নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছে। দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক কার বিরুদ্ধে, কখন, কি রিপোর্ট করেছিল তা আমাদের ষ্পষ্ট নয়। তবে তাকে আইসিটি আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে যে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে, তা আমরা জানতে পেরেছি।

এখানেই শেষ নয়, পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, মহামান্য  আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। যে ব্যক্তি এই মামলার বাদী তিনি একসময় মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহা-পরিচালক ছিলেন। তার আমলে ওই দফতরের দুর্নীতি, অনিয়ম এতটাই প্রবল ছিল যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল আন্তরিকতার সাথে ওই ব্যক্তির কর্মকালীন ফিরিস্তি উৎঘাটন করেন, তবে তিনি সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন না। তবে প্রভাবশালী হলে তো কথাই নেই।

দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খান এই সরকারের শিক্ষা সংষ্কারে যে ভূমিকা রেখেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। মাঝে মাঝে এই সাংবাদিক ফোনে জানাতেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কিছু সৎ মানুষরা শিক্ষাবান্ধব। তাদের সহযোগিতার জন্য শিক্ষা সংক্রান্ত সকল দুর্নীতি অনাচারের বিরুদ্ধে লেখা পাঠান। অথচ সেই সাংবাদিককে সরকারের সুবিধাভোগী কোন মহলের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলো। এতে করে সরকারের ক্ষতি হবে না ঠিকই তবে শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সরকারের নিঃস্বার্থ একজন খাদেম কি দমে যেতে পারে না? আমি তাকে যতটুকু জানি এবং চিনি সাংবাদিক হিসেবে সিদ্দিকুর রহমান খান যথেষ্ট শক্তিশালী এবং সাহসী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বিনীত আরজ, সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাকে যেন অতি দ্রুত মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়; তার ব্যবস্থা করবেন। একই সাথে তথাকথিত প্রভাবশালীদের মুখে চুনকালি মেখে দেয়া এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খানের মামলার বাদী মাউশি’র সাবেক মহা-পরিচালক মহান শিক্ষক সমাজের কর্ণধার ছিলেন। তার অবশ্যই জানা আছে, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক বলেছেন, ‘আম গাছ আম ধরে বলেই লোকে ঢিল মারে, ফজলী আমগাছে আরো মারে, শেওড়া গাছে কেউ ঢিল মারে না, তুমি কোথাও ভালো করো তবেই লোকে তোমার বদনাম করবে।’ তিনি যদি অন্যায় না করে থাকেন তবে তার কোনো বদনাম হওয়ার কথা না। আর সম্মান, কোনো ঠুনকো মাটির পাতিল নয় যে হাত থেকে পড়ে গেলেই ভেঙ্গে যাবে, নষ্ট হবে। সত্যিকার সম্মানী ব্যক্তিদের সহজে সম্মানহানী ঘটে না। অথচ গুরুর গুরু, শিক্ষাগুরু তিনি তার সম্মানহানী হয়েছে বলে সমালোচক, সাংবাদিক কিংবা লেখকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিলেন!

লেখক, শিক্ষক ও কলামিস্ট


সর্বশেষ

আরও খবর

রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!

রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!

ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!


সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত  বন্ধুত্ব

সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত বন্ধুত্ব


প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ

প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ


ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান

ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান


কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ


করোনাকালের খোলা চিঠি

করোনাকালের খোলা চিঠি


সিগেরেট স্মৃতি!

সিগেরেট স্মৃতি!


পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট

পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট