Tuesday, October 18th, 2016
নাচোলের রানী-মা কিংবদন্তি ইলামিত্রের জন্মদিন
October 18th, 2016 at 2:03 pm
নাচোলের রানী-মা কিংবদন্তি ইলামিত্রের জন্মদিন

ডেস্ক: নাচোলের রানী-মা, তেভাগা অন্দোলনের অন্যতম কিংবদন্তী ইলামিত্রের জন্মদিন মঙ্গলবার। ১৯২৫ সালের (১৮অক্টোবর) এই দিনে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

১৯৪৫ সালে ইলামিত্রের বিয়ে হয় চাপাই নবাবগঞ্জের রানিহাটি ইউনিয়নের জমিদার মহিমচন্দ্র ও বিশ্বমায়া মিত্রের ছোট ছেলে রমেন মিত্রের সাথে।

কলকাতার বেথুন কলেজের বাংলা বিভাগের  ছাত্রী ছিলেন  ইলামিত্র। সেসময়েই তিনি বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনিই একমাত্র বাঙালী মেয়ে যিনি ১৯৪০ সালে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধের কারণে সেই অলিম্পিক গেইম অনুষ্ঠিত হয় নাই।

জমিদার-জোতদারদের হাত থেক বাঁচতে ১৯৩৬ সালে প্রথম গঠিত হয় সর্বভারতীয় কৃষক সমিতি। তারপর ১৯৪০ সালে ফজলুল হক মন্ত্রী সভার উদ্যোগে ফাউন্ড কমিশন গঠিত হয়। ফাউন্ড কমিশনের সুপারিশ ছিল জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ করে ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ চাষীদের দেয়া। এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষে কৃষকসমাজ আস্তে আস্তে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। তখনই ইলামিত্র এই আন্দোলনে শরিক হোন। এবং অল্প দিনেই তিনি আন্দোলনের নেতৃত্বে চলে আসেন।

১৯৪৬-৪৭ সালে তেভাগা আন্দোলন যখন তীব্র আকার ধারণ করে তখন পুলিশ ঠাঁকুরগাঁয়ে তেভাগা আন্দোলনের নেতা ডোমা সিংকে গ্রেফতার করতে গেলে শত-শত কৃষক তা প্রতিরোধ করে। এসময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সফুর চাঁদ, মুকুট সিংক ও নেনদেনি সিংহ।

এদিকে দিনাজপুরেও পুলিশের গুলিতে ২২জন কৃষক প্রাণ হারায়। ক্রমান্বয়ে এ আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের নির্যাতন-নিপীড়নে আন্দোলন যখন কিছুটা ভাটা পড়ে যায় তখনই এগিয়ে আসে নাচোলের রাণী ইলামিত্র। ইলামিত্রের স্বামী রমেন মিত্রের উপর হুলিয়া জারি হওয়াতে এ আন্দোলনের হাল ধরেন ইলামিত্র। তিনি অল্প দিনেই সবার কাছে রাণীমা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার পর কৃষক বিদ্রোহ যখন চরম আকার ধারণ করে তখন রানী ইলামিত্র ১৯৫০ সালে ৭ জানুয়ারী গ্রেফতার হোন। গ্রেফতার হওয়ার পর তার উপর যে অমানুষিক পুলিশি নির্যাতন হয়েছে রাজশাহী কোর্টে মামলা চলাকালীন সময়ে তার দেয়া ঐতিহাসিক জবানবন্দী থেকে যতটুকু জানা যায় তা শুনলে আজো গাঁ শিহরিয়ে উঠে।

ইলামিত্র কোর্টকে জানালেন কেসের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। ০৭/০১১৯৫০ তারিখে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে নাচোলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং যাওয়ার পথে তাকে প্রচন্ড মারধোর করা হয়। নাচোলের সেলে বন্দী রেখে বলা হয় হত্যার ব্যাপারে মুখ না খুললে তাকে উলঙ্গ করা হবে। সেদিন সন্ধ্যায় একজন এসআইএর উপস্থিতিতে চার-পাঁচজন সিপাহী তাকে বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে এসআই এর নির্দেশে একজন সিপাহী এক হালি সিদ্ধ ডিম নিয়ে আসে। তারপর চারজন সিপাহী তাকে উলঙ্গ করে চিত করে শুইয়ে দিয়ে তার যৌনাঙ্গে একটা গরম সিদ্ধ ডিম ঢুকিয়ে দেয় তখন তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরদিন ৯ জানুয়ারী যখন তার জ্ঞান ফিরে তখন শুনতে পায় ঐ নরাধম এসআই বললো এখনও যদি মুখ না খুল তবে এবার এসে তোকে ধর্ষণ করা হবে। এই বলে তার ডান পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে দেয়া হলো। এমতাবস্থায় সে আর্ধচেতন অবস্থায় পড়ে রইলো। গভীর রাতে আবার তারা এসে একজন তাকে ধর্ষণ করলো। আবার সে অজ্ঞান হয়ে গেলো। ১০ জানুয়ারী যখন তার জ্ঞান ফিরলো তখন তার সারা শরীর রক্তে ভেজা। এমতাবস্থায় তাকে নবাবগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হলো । সেখান থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতালে পাঠানো হলো।

দীর্ঘ কারাভোগের পর ১৯৫৪ সালে প্যারোলে তাকে মুক্তি দেয়া হলো। মুক্তির পর তিনি কলকাতায় চলে যান। এই মহিয়ষী নারী এতো নির্যাতনের পরও তার মুখ থেকে মানুষরূপি হায়ানেরা কোন কথা বের করতে পারেনি। পরে তিনি কলকাতায় বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হোনএবং পেশা হিসাবে কলকাতার একটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন ।

২০০২ সালে ১৩ অক্টোবর এই মহিয়ষী নারী মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু ইতিহাসে তিনি চির অমর ও আন্দোলনের আদর্শ হিসাবে থাকবেন অবহেলিত মানুষের হৃদয়ে।

সম্পাদনা: শিপন আলী


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ