Tuesday, September 27th, 2016
নাট্যোৎসবে ‘অরক্ষিতা’ এবং ‘সক্রেটিসের জবানবন্দি’
September 27th, 2016 at 10:44 am
নাট্যোৎসবে ‘অরক্ষিতা’ এবং ‘সক্রেটিসের জবানবন্দি’

ঢাকা: ‘এ মাটি নয় জঙ্গীবাদের, এ মাটি মানবতার’  এই স্লোগান নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে  জনসাধারণকে আরও দৃঢ়ভাবে সোচ্চার করার লক্ষ্যে এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে ১৮ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য নাট্যোৎসব।

উৎসবটি শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার হল ও স্টুডিও থিয়েটার হল এবং বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই নাট্যোৎসবে দেশের ৮টি বিভাগের ২৬টি এবং শিল্পকলা একাডেমিসহ ঢাকা মহানগরের ৩২টিসহ মোট ৫৮টি নাট্যদল অংশগ্রহণ করছে।

সোমবার ছিল এ উৎসবের তৃতীয় দিন। এদিন সন্ধ্যায় শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় রাজধানীর নাট্যদল ‘দেশ নাটক’ এর নাটক ‘অরক্ষিতা’ এবং  মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় ‘দৃশ্যপট’-এর ‘সক্রেটিসের জবানবন্দি’।

‘দুই পক্ষের বাহুতে সমান শক্তি না থাকলে শান্তিচুক্তি হয় না, হয় এক পক্ষের দাসত্বের দলিল’  এই প্রতিপাদ্যকে নিয়ে ‘দেশ নাটক’ মঞ্চে এনেছে ‘অরক্ষিতা’।

বঙ্গদ্বীপের শক্তি বহরে সংযোজিত হন আশ্চার্যশ্রেষ্ঠ শত্রু, যিনি মহামন্ত্র মৃত সঞ্জীবনীর জোরে নিহত সৈনিকদের আবার বাঁচিয়ে তোলার প্রচেষ্টা করেন। বঙ্গদ্বীপ আর শত্রুর শক্তি মিলে গড়ে উঠে অক্ষয় এক প্রতিরক্ষাবূ্যহ,  কিন্তু মাদকাসক্তি আর কন্যাস্নেহে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য সমরবিদ শুক্রাচার্য এক উন্নাসিক ব্রাক্ষ্মণ। শুক্রকন্যা দেবযানীর প্রেম আর শুক্রের প্রশয়ে একদিন বঙ্গদ্বীপের প্রতিরক্ষাসূত্রে চুরি করে নিয়ে যায় শত্রুসন্তান কচ। অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ করে শুক্রশিষ্য বৃত্ত; নিহত হয় জনযোদ্ধা জয়দীপ। অবশেষে নিজেদের অস্ত্র শত্রুর হাতে ব্যবহৃত হবার পথ রুদ্ধ করতে অরিক্ষত দেশের রাজকন্যা শর্মিষ্ঠাকে দিতে হয় প্রাণ। এভাবেই এগিয়ে গেছে নাটকের কাহিনী।

orokhita

নাটকটি রচনা করেছেন- মাহবুব লীলেন এবং নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন- ইশরাত নিশাত।

এদিকে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাট্যদল ‘দৃশ্যপট’ -এর নাটক ‘সক্রেটিসের জবানবন্দি’।  নাটকটি-সক্রেটিসকে নিয়ে প্লেটোর লেখা ‘আপোলোগিয়া সোক্রাতুস’  অবলম্বনে নাট্যকার ‘শিশিরকুমার দাশ’  রচনা করেছেন নাটক ‘সক্রেটিসের জবানবন্দি’। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন-আলী মাহমুদ।

খ্রিস্টের জন্মের চার’শ বছর আগের প্রেক্ষাপটে নাটকের কাহিনী সাজানো হয়েছে। পেলোপনেসিয় যুদ্ধে এথেন্স পরাজিত হলে রাজ্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। ফলে এথেন্সের শাসন ও রাজ্য পরিচালনার ভার নেয় ৩০ জন লোক। এই ৩০ জন লোক নিয়ে গড়া হয় স্বৈরতন্ত্র। তার থেকে ১১ জনকে নিয়ে গঠন করা হয় একাদশ পরিষদ। যাদের কাজ ছিল গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা আর গণতন্ত্র সমর্থকদের শাস্তি দেয়া। স্বৈরশাসকেরা তাদের সমর্থক হিসেবে সক্রেটিসকে চাইলে সক্রেটিস তাদের সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। শাসকগোষ্ঠী শুরু করে অত্যাচার নিপীড়ন।

প্রহরীরা সক্রেটিস ভেবে বিভিন্নজনকে ধরে আনতে শুরু করলে, একদিন সক্রেটিস নিজেই এসে উপস্থিত হলেন এই একাদশ চক্রের সামনে। বিভিন্ন বিচারকার্যের পর সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। সক্রেটিস দণ্ড মেনে নিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করেন এবং শেষ পর্যন্ত হেমলক বিষপাণ করেন। এভাবেই দৃশ্যায়িত হয় ‘সক্রেটিসের জবানবন্দি’।

মঙ্গলবার এ নাট্যোৎসবের চতুর্থ দিন। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে মঞ্চায়ন হবে নাট্যদল ‘প্রাচ্যনাট্য’-এর নাটক ‘এ ম্যান ফর অল সিজনস’ ও পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হবে ‘নাগরিক নাট্যদল অনাসম্বল’ -এর নাটক ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’  এবং বেইলি রোডের মহিলা সমিতির মিলনায়তনে ঢাকার নাট্যদল ‘নাট্যধারা’  মঞ্চায়ন করবে তাদের নাটক ‘অতীশ দিপঙ্কর সপর্যা’।

প্রতিবেদক: প্রতিনিধি, সম্পাদনা: শিপন আলী


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা

নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা


তূর্ণা নিশীথা

তূর্ণা নিশীথা