Friday, June 10th, 2016
নিত্যরঞ্জন পান্ডের বাড়িতে শোকের মাতম
June 10th, 2016 at 6:44 pm
নিত্যরঞ্জন পান্ডের বাড়িতে শোকের মাতম

গোপালগঞ্জ: পাবনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পুরোহিত নিত্যরঞ্জন পান্ডের জন্মভিটা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আড়ুয়াকংশুর গ্রামে চলছে শোকের মাতম।

স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার সকালে নিহতের গ্রামের বাড়ি আড়ুয়াকংশুরে গিয়ে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আড়ুয়াকংশুর গ্রামের রসিক লাল পান্ডের সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে চতুর্থ পাবনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নিত্যরঞ্জন পান্ডে। ৩০/৩৫ বছর ধরে তিনি পাবনায় শ্রী শ্রী অনুকুল চন্দ্র সৎ সংঘ আশ্রমে ধর্ম প্রচার করে আসছিলেন।

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘ সময় তিনি সেখানে থেকেছেন। এ ধর্ম প্রচারকের সাথে শুধু পাবনাতেই নয়, গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জেও কারো সাথে কখনো বিবাদ হয়নি। অত্যন্ত সাধাসিধে এ লোকটি তার সারাটা জীবন মানুষের জন্য, ধর্মের জন্য আত্মনিয়োগ করে গেছেন।

পাবনায় নিহত এ পুরোহিতের স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে তার চাকরির সুবাদে গোপালগঞ্জেই থাকে। ছোট মেয়ে পাবনা থেকে ডিগ্রি পাস করে এখন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে এমএ করছে।

হঠাৎ করে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হবার খবর গ্রামের বাড়িতে আসার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। স্বামী, পিতা আর ভাই হারানোর সংবাদে বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছে স্ত্রী, সন্তান আর সহদ্বররা। এলাকাবাসী খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো স্বান্তনাই যেন তাদের আহাজাড়ি থামাতে পারছে না। এ ধর্মযাজক নিহত হবার পর পুরো পরিবার এখন নিমজ্জিত হলো অন্ধকারে।

কি কারণে তাকে সন্ত্রাসীদের হাতে এভাবে প্রাণ দিতে হলো, পরিবার ও এলাকাবাসীর এখন এ একটাই প্রশ্ন? এ হত্যাকাণ্ড যেমন মেনে নিতে পারছেন না পরিবার, তেমনি এলাকাবাসীও।

এলাকাবাসী জানান, নিহত নিত্যরঞ্জন পান্ডে ছিল একজন ভালো মানুষ। তিনি ধর্মকথা প্রচার করতেন। এটাই কি তার অপরাধ? আমরা কোনোভাবেই এ হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছিনা। দ্রুত এ হত্যার বিচারের দাবি জানান তারা।

নিহতের বড় ভাই সত্যরঞ্জন পান্ডে, ছোট ভাই সুরঞ্জিত পান্ডে ও ছোট বোন পদ্মবল জানান, তাদের ভাই ছিলেন খুবই ভদ্র। কারো সঙ্গে তার কোনো বিবাদ ছিল না। জীবনের বেশীর ভাগ সময়েই তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে পাবনায় বসবাস করতেন। ৮/১০ দিন আগে একবার তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। স্ত্রী আর ছোট মেয়েকে রেখে তিনি একা চলে যান পাবনায় তার কর্মস্থলে।

স্ত্রী দুলু রানী পান্ডে কান্না জড়িত কন্ঠে আহাজারি করতে করতে বলেন, কি কারণে আমার স্বামীকে মেরে ফেলা হলো? এখন আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে কি করে থাকব? তার সাথে কারো কোনো বিবাদ ছিল না। তাহলে কেন তাকে মেরে ফেলা হল?

নিহতের বড় ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শিক্ষক নন্দ দুলাল পান্ডে জানান, সাম্প্রতিককালে সারাদেশে সাধু বা ধর্ম যাজকদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে। তিনিও চেয়েছিলেন বাবাকে সতর্ক করতে। কিন্তু তার আগেই সন্ত্রাসী হামলায় তার বাবাকেও মারা যেতে হলো। তিনি এ হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, বাবার মৃতদেহ গোপালগঞ্জ নিয়ে আসা হবে। এরপর ধর্মীয় রীতি মেনে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তার সৎকার করা হবে।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

শিল্প কারখানা খুলছে ১ আগস্ট থেকে

শিল্প কারখানা খুলছে ১ আগস্ট থেকে


করোনায় আরও ২১২ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ২১২ জনের মৃত্যু


সংসদ সদস্য আলী আশরাফ মারা গেছেন

সংসদ সদস্য আলী আশরাফ মারা গেছেন


সিনোফার্মের ৩০ লাখ টিকা ঢাকায় এলো

সিনোফার্মের ৩০ লাখ টিকা ঢাকায় এলো


একদিনে রেকর্ড ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৯৪ জন হাসপাতালে ভর্তি

একদিনে রেকর্ড ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৯৪ জন হাসপাতালে ভর্তি


টিকা নেয়ার বয়সসীমা ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে সরকার

টিকা নেয়ার বয়সসীমা ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে সরকার


ভারত থেকে এলো আরও ২০০ টন অক্সিজেন

ভারত থেকে এলো আরও ২০০ টন অক্সিজেন


এবার এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হবে ৩ বিষয়ে

এবার এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হবে ৩ বিষয়ে


‘বিধিনিষেধে শিল্পকারখানাসহ কোনো প্রতিষ্ঠান খুললেই ব্যবস্থা’

‘বিধিনিষেধে শিল্পকারখানাসহ কোনো প্রতিষ্ঠান খুললেই ব্যবস্থা’


দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড

দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড