Tuesday, February 21st, 2017
পশ্চিমবঙ্গে কেন নেই একুশের আবেগ?
February 21st, 2017 at 8:49 pm
পশ্চিমবঙ্গে কেন নেই একুশের আবেগ?

কলকাতা: জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও আনুষ্ঠানিকভাবে মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে আবেগ কাজ করে একই ভাষার মানুষ হয়েও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেরকম আবেগ দেখতে পাওয়া যায় না। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদকের কাছে পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

কলকাতার সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত একাডেমি-নন্দন-রবীন্দ্র সদন চত্বরের কাছে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান হচ্ছে প্রায় কয়েক দশক ধরে। সেখানে রাতভর গান হয়, কবিতার আসর বসে আর সেটা শেষ হয় প্রভাতফেরীর মধ্য দিয়ে। সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি স্কুল কলেজে কিছুদিন ধরে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন শুরু হয়েছে।তবে সেখানকার সাধারণ মানুষের মনে যে দিনটি নিয়ে কোনো ভাবনা কাজ করে না সেকথাও অকপটে স্বীকার করেন অনেকে।

ভাষা ও চেতনা  সমিতি উপরোক্ত এলাকায় ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে থাকে।এটির প্রধান এমানুল হক বলেন,‘এপারের বাঙালি মধ্যবিত্তের মধ্যে একটা ভাবনা কাজ করে যে আমরা ভাল করে ইংরেজি শিখতে পারিনি বলে জাতি হিসেবে উন্নতি করতে পারিনি। তাই সকলেই সেদিকে ছুটেছে,নিজের ভাষার প্রতি খুব একটা খেয়াল কখনোই করিনি আমরা। বাংলা ভাষাটা এখন আর আবেগ নয় , একটা অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা একাই একুশের অনুষ্ঠান করে আসছেন, তবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে অনুষ্ঠানের সংখ্যা এখন অনেক বেড়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে বহু স্কুল, কলেজ বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে এখন একুশের অনুষ্ঠান হয়।

চলতি বছর বেলঘরিয়া হাইস্কুল প্রথমবারের মত ভাষা দিবসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেখানকার প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার সিং নিজে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাই কয়েক মাস আগে স্কুলের দায়িত্ব পেয়েই নিজের আবেগের দিনটা পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন ।

তিনি বলেন, ‘আমার নিজের ভালো লাগাটা চেষ্টা করছি ছাত্রদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে, সেজন্যই একুশের অনুষ্ঠান শুরু করলাম।’ তবে তিনি স্বীকার করেন ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে দিবসটি নিয়ে খুব বেশি আবেগ কাজ করে না। এই বিষয়ে মনোজ কুমার সিং বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ভাষা আন্দোলন নিয়ে যে আবেগ নেই, সেটার জন্য ওদের খুব একটা দোষ নেই। সবাই তো ইঁদুর দৌড়ে নেমে পড়তে বাধ্য হয়েছে। সেই দৌঁড়ে জিততে হলে ইংরেজি বা হিন্দির গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।’

যদিও পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট  ক্ষমতায় এসে  ইংরেজি তুলে দিয়ে মাতৃভাষা বাংলায় শিক্ষার প্রচলন ঘটিয়েছিল। তারপরেও সেখানে কেন নিজের ভাষা নিয়ে আবেগ তৈরি হলো না?

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সেইসব ভাষা শহীদদের, যারা ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। শ্রদ্ধা আর ভালবাসা জানিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন লাখ মানুষ। ছবি-নিউজনেক্সবিডি ডটকম

সাহিত্যিক দিব্যেন্দু পালিত এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অন্য ভাষা চাপিয়ে দেয়ার যে কষ্টটা ওপার বাংলার মানুষ বা আসামের বরাক উপত্যকার মানুষ পেয়েছেন, সেটা তো পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে পেতে হয়নি।নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারার মতো কোনো অবস্থা আমাদের কখনো হয়নি, সেজন্যই ওখানে যে আবেগ রয়েছে ভাষা নিয়ে বা একুশে নিয়ে, সেটা যে আমাদের মধ্যে থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক।’

তবে পশ্চিমবঙ্গে যে একুশে উদযাপনের সংখ্যাটা বাড়ছে, সেটা একদিকে যেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, একই সঙ্গে সেটা কিছুটা প্রথামাফিক দিবস উদযাপনের মতো হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর স্বয়ং একুশের সরকারি অনুষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদ নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী। তার মতে, স্কুল-কলেজগুলোতেও আজকাল ভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। তবে তার মধ্যে আবেগের চেয়ে আনুষ্ঠানিকতার প্রাবল্যই যেন বেশি। বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন তিনি।

বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষদের নিজেদের ভাষার জন্য যে লড়াই করতে হয়েছে, আমাদের তো সেটা করতে হয়নি। বড়জোড় সেই লড়াইয়ের সহমর্মী বা সমব্যথী হয়ে থেকেছি।’

তবে ভাষা শহীদ দিবস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেরকম আবেগ না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটির উদযাপনে কিন্তু পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গবাসী। তাইতো ২১ ফেব্রুয়ারির দিনে অনেকেই ভাষা দিবস নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, দিবসটি উদযাপনের ছবি দিচ্ছেন।

গ্রন্থনা: ফারহানা করিম, সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন


আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২০০ ঘর

আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২০০ ঘর


এবারের বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

এবারের বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী


কমলো এলপিজির দাম

কমলো এলপিজির দাম


উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে খুশি না হয়ে, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে খুশি না হয়ে, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন


ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


ওমিক্রন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ওমিক্রন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার


নির্বাচনী সহিংসতায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

নির্বাচনী সহিংসতায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু


আবার রক্তক্ষরণ হলে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে

আবার রক্তক্ষরণ হলে খালেদা জিয়ার মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে