Thursday, January 5th, 2017
‘পাঁচ জানুয়ারি গণতন্ত্রের কবর হয়েছে’
January 5th, 2017 at 10:57 am
‘পাঁচ জানুয়ারি গণতন্ত্রের কবর হয়েছে’

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম: 

গণতন্ত্র, দেশের ইতিহাসে একই নামে দু’টি দিবস—একটি বিজয়, অন্যটি হত্যা। আজ সেই দিন যেদিন এককভাবে ক্ষমতায় আসে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আর সংসদ থেকে বিরোধী দলের আসনের পদ থেকে ছিটকে পরে বিএনপি। দেশের জনগণের অন্যতম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ অন্যতম। পাঁচ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সে অধিকার থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হন। সে সময়কার কিছু কথা, বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক পরিমন্ডল এবং গণতন্ত্র হত্যা দিবসে বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম কথা বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এর সাথে। সাক্ষাৎকারটি নেন শেখ রিয়েল।

গয়েশ্বর রায় বলেন, ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য একটি কলঙ্ক। নির্বাচন সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়ে যায়। এতেই তো সরকার গঠন হয়ে গেছে।

আন্দোলন করে বিএনপির যে আহ্বান ছিল নির্বাচনে অংশ না নেওয়া তার সাথে সারা দেশের মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করেছে, মানুষ সেদিন ভোট কেন্দ্রে যায়নি। টেলিভিশনের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্রের যে চিত্র দেখানো হয়েছে তাতে দুই ভাগ ভোটারও কোনো কেন্দ্রে উপস্থিত ছিল না। অথচ রকিব উদ্দিন সাহেব দেখিয়েছেন ৪২ ভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে।

পাঁচ জানুয়ারি গণতন্ত্রের কবর হয়েছে। সে জন্যই শুধু বিএনপির কাছে নয় সারা জাতির কাছে এই দিনটি কলঙ্কের এবং সে দিনই মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী সেদিন তিনিও নিজের ভোটটি দিতে টুঙ্গীপাড়া যাননি। একই সাথে আরো ১৫৩ জন নিজেদের ভোট দেননি। বাকী ১৪৭ টি আসনের এমপিরাও নিজের ভোট নিজে দেয়নি। সুতরাং এটি জাতির জন্য উল্লেখযোগ্য একটি কলঙ্কের দিন। সেই কারণে পাঁচ জানুয়ারি কলঙ্ক বা কালো দিবস হিসেবে পরিগণিত হয়। এই দিনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে সকলেই অনুভব করেন।

বিগত দিনের পাঁচ জানুয়ারি, বিএনপি এ দিনটিকে কালো দিন হিসেবে পালন করে। কিন্তু সরকার তার পেশি শক্তি, প্রশাসনিক শক্তি ‍দিয়ে অত্যাচার নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে আটক করে। আওয়ামী লীগ এই কলঙ্কের কথাটা সহজভাবে নেয় না। কারণ তারা তো মনে করে তারা যা করেছে এটিই সঠিক। জাতি যদি দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে তবে তাদের জন্য সেটি শুধু লজ্জাস্করই নয় অপমান জনকও। তাই আওয়ামী লীগ কখনই এই দিবসটি পালন করতে দেয়নি। এবারও দেবে আমি বিশ্বাস করি না। একটি স্বৈরাচারি সরকারের কাছ থেকে গণতন্ত্র তো আশা করা যায় না। তাদের এই যে বিতর্কিত এবং জনগণ দ্বারা সমর্থিত নয়, এমন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে। সরকারে থাকতে হলে তারা একই কায়দায় নির্বাচন অব্যহত রাখবে, হয়রানি অব্যহত রাখবে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ কখনোই সৃষ্টি করতে দেবে না, ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলগুলোকে তারা রাজনীতি করতে দিতে ইচ্ছুক না।

এবারের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি কতটা আশাবাদি?

আমরা কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদী না, কিন্তু আমরা পালন করবো। আমাদের ওপর নির্যাতন হবে, মামলা মোকদ্দমা হবে—সেটির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আর বিনা অনুমতিতে যখন সমাবেশ করা যায় না, সুতরাং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে দিবে এটা বিশ্বাসযোগ্য না। কারণ সাত নভেম্বরের মত দিসবটি আমাদের পালন করতে দেয়নি।

বিকল্প কোনো কিছু ভাবছেন কি না?

বিকল্প আমরা এখনো ভাবিনি। সরকার দেশটাকে অস্থির এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢেলে দিচ্ছে। যেমন পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া লাগে। তারা দেশের মধ্যে আর একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষণ করছে বলে মনে হয়।

সরকার দেশকে অনিশ্চিয়তার দিকে ঢেলে দিচ্ছে?

আমরা যখনই আন্দোলন সংগ্রামের দিকে যাব তখনই সরকার জনগণকে, দেশকে বিভ্রান্ত করবে। নিজেরাই রাস্তাঘাটে বোমা মেরে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করবে। অতীতে যা ঘটেছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের গাইবান্ধার সাঁওতাল বিদ্রোহ, নাসিরনগরের ঘটনা—সে ঘটনা আওয়ামী লীগের সাথে প্রশাসন জড়িত—এ কথাটাও স্বীকার না করে তারা বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সচেতন জনগণ এটাকে গ্রহণ করেনি। আমরা আন্দোলনে গেলে একই রকম নাশকতার দায় বিএনপির ওপর আনবে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে যাবে।

বিএনপির এই মুহূর্তে করণীয় কী?

কী করণীয় তা আমি একক ভাবে বলতে পারবো না। এটা নিয়ে আমাদের বসতে হবে, ভাবতে হবে—আমরা আমাদের কর্মসূচি কিভাবে পালন করবো। যেহেতু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি নিশ্চই আমরা অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করিনি আর করবোও না।

অপনাকে সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

নিউজনেক্সট ডটকমকেও ধন্যবাদ।

সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং

সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত


বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা

বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা


পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির

পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ  উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে

চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে