Sunday, September 11th, 2016
পাঁচ বছরেও স্থায়ী নিয়োগ পাননি ১৫ হাজার পুল শিক্ষক
September 11th, 2016 at 11:31 am
পাঁচ বছরেও স্থায়ী নিয়োগ পাননি ১৫ হাজার পুল শিক্ষক

ঢাকা: পাঁচ বছরেও স্থায়ী নিয়োগ পাননি ১৫ হাজার পুল শিক্ষক। এমনকি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের কাজও দেওয়া হচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিলো। অন্যদিকে যারা মাঝে মধ্যে কাজ পান তাদের আবার ৬ মাস পর পর চাকরির রিনিউ, স্কুল পরিবর্তনসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। সবমিলিয়ে গত ৪ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুল শিক্ষকদের।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া পুল শিক্ষক চট্টগ্রামের শিরিন আক্তার জানান, ২০১২ সালে পরীক্ষা দিলেও তিনি এখনো স্থায়ী চাকুরী পাননি। ২০১৪ সালে পুল গঠন করা হয় তবে তার স্থায়ী নিয়োগ এখনো ঝুলে আছে।

school_bograsangbad-com_ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে এক লিখিত আবেদনে তাদের মানবেতর অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর ২০১১ সালের ৪ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি দেয়। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৭ হাজার ৭২০ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্য থেকে ১২ হাজার ৭০১ জনকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১৫ হাজার ১৯ জনকে রাখা হয় পুলভুক্ত হিসেবে।’

এরপর শিক্ষক পুল গঠনের জন্য ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে পরিপত্র জারি করে এবং দুই বছর পর ‘শিক্ষক পুল’ নীতিমালা প্রণয়ন করে। ওই নীতিমালায় ছয় মাসের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রার্থীদের সইও নেওয়া হয়। কিন্তু উত্তীর্ণ প্রার্থীদের স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আবারও বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ৫২ জন আবেদনকারী ওই বছর রিট আবেদন করেন।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে পুল শিক্ষকদের স্থায়ী নিয়োগের নির্দেশ দেন। এরপর সরকার পক্ষ আপিল করলেও হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকে। একই বিষয়ে আরো একাধিক রিট মামলাও একই রায় দিয়েছেন আদালত।’

পুল শিক্ষক সুরভী পারভীন স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বলা হয়, ‘আদালতের নির্দেশের পর সরকারের পক্ষ থেকে তাদের স্থায়ী নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়। গত সংসদ অধিবেশনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী প্যানেল শিক্ষকদের পাশাপাশি পুল শিক্ষকদের স্থায়ী নিয়োগের কথা জানিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।’

তিনি জানান, বিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক স্বল্পতার জন্য যে সাময়িক শূন্য পদ সৃষ্টি হয় (যেমন মাতৃকালীন, প্রশিক্ষণজনিত, শিক্ষালাভজনিত ও অন্যান্য ছুটি) তার বিপরীতে পুল শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। আর পুল শিক্ষকরা অন্য সহকারী শিক্ষকদের মতো সমান দায়িত্ব পালন করলেও তাদের দপ্তরির থেকেও কম বেতন দেওয়া হচ্ছে। ফলে তারা ভবিষ্যতের কথা ভেবে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।’

সুরভী পারভীন বলেন, ‘গত ৮ মাস বেতন পাই না। উপজেলা শিক্ষা অফিসে বেতনের বিষয়ে বললে উনারা বলেন, আপনাদের জন্য বরাদ্দ আসেনি। সরকারি চাকরি পেয়ে বেতন পাই না, কথাটি কেউ বিশ্বাস করে না। বেতন না পাইলে চলবো কি করে? এভাবে আর কতদিন চলবে জীবন?’

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, পুল শিক্ষকদের মাসিক সম্মানী হবে সর্বসাকল্যে ৬ হাজার টাকা, সরকারি ছুটি ছাড়া অন্য কোনো প্রকার ছুটি দাবি করতে পারবেন না তারা, কর্তব্যস্থলে অনুপস্থিত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ২০০ হারে কর্তন হবে, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে সর্বোচ্চ ৭ দিনের বিনা বেতনে ছুটি নিতে পারবেন এবং প্রতিবার নিয়োগের সময় ১৫০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রণীত মুচলেকার স্বাক্ষর দিয়ে যোগদান করতে হবে।

এই শর্তে রাজি থাকার পরও তাদের কেন বেকার রাখা হচ্ছে তা নিয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পুল শিক্ষকরা। তারা এই সমস্যা সমাধানে সংসদীয় কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে পুল শিক্ষক সুরভী পারভীন বলেন, ‘৫ বছরে বিভিন্ন আশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছি। আইনের জটিলতা দেখিয়ে আমাদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। একই প্রতিষ্ঠানে সমান কাজ করে আমরা পাই ৬০০০ টাকা আর অন্যরা পান ১৮০০০ টাকা.’

সম্প্রতি কুড়িগ্রামের চিলমারীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন আবদুর রহিমের নেতৃত্বে কুড়িগ্রাম জেলার পুল শিক্ষকরা। এসময় প্রধানমন্ত্রী স্মারকলিপিটি সাদরে গ্রহণ করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘গত ৪ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো পুল শিক্ষক স্থায়ী নিয়োগ পাননি। অনেক বড় আশা নিয়ে অপেক্ষা করছি কবে আমরা স্থায়ী নিয়োগপত্র পাব। আমরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চাই।’

পুলদের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে জানান, সরকার কোনো নতুন নিয়োগ দিচ্ছে না, তবে নতুন করে ২৬১৯৩টি স্কুল জাতীয়করণ করা হয়েছে। সেসব স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে শুধু প্রাক-প্রাথমিক স্কুলগুলো রয়েছে, সেখানে ৩৭০০০ শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে। তবে পূর্বে জাতীয়করণ করা কোনো স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘পুল শিক্ষকদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। খুব  দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে। উচ্চ আদালত যেহেতু তাদের  পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেহেতু বিষয়টি আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। আর যদি উচ্চ আদালত পুল শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে রায় দেন, তখন সরকার তাদের নিয়োগ প্রদান করবে। তখন তাদের নিয়োগ দিতে আর বাধা থাকবে না।’

প্রতিবেদন: মাহতাব শফি, সম্পাদনা: ময়ূখ ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার


অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর

অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর