Wednesday, July 6th, 2022
পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড চারকোল উৎপাদনের সম্ভাবনা
July 31st, 2016 at 8:30 pm
পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড চারকোল উৎপাদনের সম্ভাবনা

ঢাকা:পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড চারকোল বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে । এতে কৃষকরা পাট উৎপাদনে আরো বেশি আগ্রহী হবে । যাতে করে সোনালী আশেঁর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এ কথা বলেন। রোববার চারকোল উৎপাদন বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ কাদের সরকার, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মতিউর রহমান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চারকোলের বিষয়ে জানানো হয়, দেশে  প্রথম ২০১২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড চারকোল উৎপাদন শুরু হয়। ওই বছরই সর্বপ্রথম চীনে এ পণ্য রফতানি করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকোলের চাহিদা রয়েছে। দেশে এ পণ্য উৎপাদনের ব্যাপতি বাড়লে আগামীতে জাপান, ব্রাজিল, তুর্কিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, দঃ কোরিয়া, তাইওয়ান, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকোল রফতানি সম্ভব  হবে।

বর্তমানে বিদেশে চারকোল দিয়ে তৈরি হচ্ছে- ফেস ওয়াস, ফটোকপিয়ারের কালি, পানির ফিল্টার, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ, জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ, দাতঁ পরিষ্কার করার ঔষধ। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে এ কার্বন ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০-১২টি  চারকোল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সানবিম কর্পোরেশন, মাহফুজা এন্ড আহান এন্টারপ্রাইজ, জামালপুর চারকোল লিমিটেড ও রিগারো প্রাইভেট লিমিটেড।

বর্তমানে জামালপুর, নারায়নগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে বাণিজ্যিকভাবে চারকোল উৎপাদন শুরু হয়েছে ।

আজ চারকোল মালিকদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সভায় চারকোলের এ অবারিত সম্ভাবনার কথা উপস্থাপন করা হয় ।  এ সভায় আরো জানানো হয়, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ টন পাটকাঠি উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে যদি ৫০ ভাগ পাটকাঠি চারকোল উৎপাদনে সঠিক ভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টন  চারকল উৎপাদন সম্ভব হবে। যা বিদেশে রফতানি করে প্রতি বছর প্রায়  ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে ।

চারকোল মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চারকোল শিল্পকে একটি উদীয়মান শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও পাটজাত পণ্য হিসেবে ২০ ভাগ ক্যাশ ইনসেনন্টিভ পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ শিল্প বিকাশে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অর্ন্তভূক্ত বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সুযোগ দিতে হবে। এ শিল্পের জন্য দ্রুত পৃথক নীতিমালা তৈরি করতে হবে। এছাড়া এ শিল্পের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা ও ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী এ সকল প্রস্তাব ও পরামর্শ সম্পর্কে বলেন, নতুন এ খাততে যে সকল সমস্যা রয়েছে তা সরকার অবগত আছে। এ সমস্যা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে খুব শিগরিই আর একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।  চারকোল শিল্পের বিকাশের জন্য সকল পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা চান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/ডিএম/জাই

 


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার


বাংলাদেশে তেল বেঁচতে চায় রাশিয়া

বাংলাদেশে তেল বেঁচতে চায় রাশিয়া


বাংলাদেশ মডেল অনুসরনের পরামর্শ শ্রীলঙ্কাকে

বাংলাদেশ মডেল অনুসরনের পরামর্শ শ্রীলঙ্কাকে


কমলো এলপিজির দাম

কমলো এলপিজির দাম


ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ

ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ


পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড


ই-কমার্সে প্রতারণার শাস্তি অবশ্যই হবে; হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

ই-কমার্সে প্রতারণার শাস্তি অবশ্যই হবে; হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর