Sunday, July 31st, 2016
পাপ
July 31st, 2016 at 7:35 pm
পাপ

তাইমুর মাহমুদ শমীক: একটা খুনের ঘটনায় ফেঁসে গিয়েছি। পুলিশ সন্দেহ করছে খুনটা আমি করেছি। পুলিশের কাজ সন্দেহ করা। আমি তেমন পাত্তা দিচ্ছিনা। মদ, নারীসঙ্গ আমার প্রিয়। এটা দোষের কিছু না। ঘরে বউ আছে, নাম অর্পা। সে আহামরিটাইপ সুন্দরী না তবে চেহারায় চটক আছে। কেমন একটা বউ বউ ভাব চেহারা, শরীরে, অস্তিত্বে। লজ্জা বেশি। আমি স্লিভলেস ব্লাউজ পড়তে বলেছি দেখে সে জেদ করেই বোধহয় ফুলহাতা ব্লাউজ পড়ে। ঘরোয়া মদের আড্ডায় সে অ্যালকোহলে ঠোঁট ছোঁয়াবেনা। মুখ গোমড়া করে তখন শোবার ঘরে মৃদু কণ্ঠের রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনে। অসহ্য !

একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে হেড অফ এইচ.আর. হিসেবে আছি। মোটা অঙ্কের বেতন পাই। নিজের সুদর্শন আউটলুকটাকে ওয়ার্কআউট, সুইমিং আর মেনজ পার্লারের চাতুরতায় বেশ টিপটপ করে রাখি। সময়টা নিজেকে প্রদর্শন করবার। অফিসে মধ্যবয়স্কা রমণীদের ছেনালিপনা দেখতে ভালো লাগে। তারা কাজে, অকাজে আমার ডেস্কে এসে ঢুঁ মেরে যায়। দেশটা সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছে। ক্লিভেজ প্রদর্শনের অতো যে নান্দনিক মাধ্যম আছে, এলিট পিপলদের নানা জমকালো পার্টিতে নিয়মিত অ্যাটেন্ড না করলে জানতে পারতাম না।

অদিতি ডিভোর্সি। বয়স তিরিশের নিচে। রূপের কথা না বলি। ভয়াবহধরণের কামুক। ওর খাই খাই স্বভাবটার জন্য ওকে এতো আমার ভালো লাগে। ওর আরো বয়ফ্রেন্ড আছে। কারো যোগ্যতা আমার চেয়ে বেশি। কারো কম। এসব ভাবতে আমার বয়েই গেছে। একা একটা ফ্ল্যাট নিয়ে জিগাতলায় থাকে। আমি সপ্তাহে অন্তত একবার যাই। পানাসক্তি আছে দুজনের। বোতল যদি নেই বার থেকে, শখ করে। জলপানি ওর বাসাতে আছে অঢেল। জানে শিফনের শাড়িতে রূপ আরো ভালো করে ফোটে। আমাকে তাড়াতাড়ি মুডে আনা যায়। নিজেকে মেলে ধরতে জানে মেয়েটা। মধ্যরাতের ওসব বেঈমান সময়গুলোকে ফেলে আমার কি আর নিজের বাসায় ফিরতে মন চায় !

নীরা চুমুকে বলে চুমি। সে কিছুটা ভারতের মেয়ে, কিছুটা পাকিস্তানের। জন্মস্থান কাশ্মীর। সেদিন মুরগির একটা আইটেম খাইয়েছে আমাকে নিজ হাতে রান্না করে। আঙ্গুরের রস দিয়েছিলো আইটেমের প্রতি ভাঁজে। কিভাবে কি করে অতো সুস্বাদু বানিয়েছিলো তাকে কে জানে ! আমি খেয়ে বেকুবের মতো ইয়া হাবিবি বলেছি। ভালো খাবারের পর রাশিয়ান পাস্তুরিত তরল বেশি পেটে পরবার কারণেই কিনা ওর নৃত্যকলাকে আমি স্বর্গের নৃত্যপটিয়সীদের সাথে তুলনা করে ফেলেছিলাম ! নীরার মা আজমেরি কাশ্মীর থেকে দিল্লীতে গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষা নিতে। বাবা জাভেদ তখন এসছিলেন বিবাহের পাত্রী সন্ধানে ইউএসএ থেকে ভারতে। মার্জিত মিলন হয় তাদের। জন্ম নেয় নীরা।

নীরার নাভিকে শান্তিনিকেতনি ভাষায় বলে পদ্মনাভি। সে আর মাত্র ছয়মাস বাংলাদেশে থাকবে। তারপর প্রজেক্টের কাজ বুঝিয়ে দিতে উড়াল দিবে সিডনির হেডঅফিসে। আমি পদ্মনাভির মালেকীনকে মিস করবো। রমেশের সেগুনবাগিচার ফ্ল্যাটের চাবি আমার কাছে। বন্ধু আমার ইউকেতে গেছে পিএইচডির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে। দেশে ফিরলে ড. রমেশকে বুঝিয়ে দিতে হবে তার আমানতের বাসস্থান। তার আগে আমি নীরাকে নিয়ে যতোটা পারা যায় ফ্ল্যাটের পরিবেশ নষ্ট করছি।

জীবন রঙ্গময়। ভালোই তো কাটছিলো সব। এর মাঝে একদিন খালি একটা কাঁচের বোতল দিয়ে বাড়ি মেরে অর্পার মাথা ফাটিয়ে ফেলি। কতো বড় বেয়াদব, আমাকে বলে কিনা আমি সারারাত নীরার কথা বলে চুমি খেতে বলছিলাম। অস্বীকার করবোনা সেদিন নিজের ঘরে ফিরবার আগে শক্ত তরল একটু বেশিই পড়েছিলো পেটে। ব্ল্যাকআউটের মতো হয়েছিলো কিছুটা। নীরার সাথে অর্পাকে গুলিয়ে ফেলছিলাম। সেই থেকে কথা কাটাকাটি, খুনোখুনির আঠারোকলা। অ্যালকোহলজনিত সাময়িক স্মৃতিবিভ্রাটই আমার কাল হলো। ফোন দিয়ে নীরাকে, আরো কিছু অঙ্কশায়িনীদের আপাতত আমার সাথে যোগাযোগ করতে না করে দিই।

আমাকে ঠান্ডা মাথার পুরুষ বলতে হবে। কি সুনিপুণভাবেই না বোকা রমনী অর্পার লাশ এনে ফেলেছি রমেশের খালি ফ্ল্যাটে বিশাল নীল রঙের ডিপফ্রিজের ভেতরে। সেখান থেকে অশ্রুসজল নয়নে থানায় গিয়ে বঁধুয়া মিসিং এর জিডি করে আসি। তারপর তিনদিন কেটে যায়। পুলিশ, সিআইডি অর্পার কোন অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে না পেরে দাড়ি চুলকাতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে। আমি তৃতীয়দিন গভীর রাতে উপলব্ধি করি কাকে হারিয়েছি। দিনের পর দিন যে নারী আমার মানসিক অত্যাচার সহ্য করেছে নীরব কবিতায়, কষ্টে। যার চোখের জলকে মনে হতো ভাড়াটে উপদ্রব। কতোদিন ভালোবেসে চুমু খাইনি। মমতাহীন শরীরের চাহিদা মিটিয়েছি বহু।

বুকে চাপ চাপ কষ্ট হতে থাকে আমার। বাসায় ফিরবার পর টলতে থাকতাম। অর্পা দীর্ঘশ্বাস চেপে আমাকে শোবার ড্রেস পড়িয়ে ভদ্রস্থ করেছে দিনের পর দিন। পরদিন সন্ধ্যায় যেই কি সেই মেতে উঠতাম আঙ্গুরলতাদের নিয়ে। একটা ভালো জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাইনি তাকে। মায়ের বাসায় যেতে দিতাম না। ঘরে সারাদিন কি করতো প্রকৃতি জানে। বিছানার যে পাশটায় ও শুতো, সেখানে তালগোল পাকিয়ে নিজেকে ফেলে রাখি কিছুক্ষণ। কিছু মহৎ কষ্ট বোধহয় অমানুষের ভেতরেও আছে। তার খানিকবাদে অপ্রকৃ্তস্থ ছন্নছাড়ার মতো থানায় ছুটে গিয়ে নিজের কান্ডকীর্তি ওসি সাহেবকে খুলে বলি। তিনি কোন দয়ামায়া ছাড়া কোমরে রশি বেঁধে আমাকে হাজতে ঢোকাবার আদেশ দেন। পোস্টমর্টেমের রিপোর্টে জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা ছিলো। আমাকে বলেনি অথচ ব্যক্তিগত ডায়রিতে লিখে গিয়েছিলো, ‘ঠিক করেছি ছেলে হলে তার নাম রাখবো গল্প।’

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা

নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা


তূর্ণা নিশীথা

তূর্ণা নিশীথা