Tuesday, May 31st, 2016
পাহাড়ের শাসক
May 31st, 2016 at 9:56 pm
পাহাড়ের শাসক

ইমতিয়াজ মাহমুদ:

আপনি কী পানছড়ি জায়গাটার নাম জানেন? সেটি খাগড়াছড়ি জেলায়। আপনি যদি বাংলাদেশের মানচিত্র খোলেন, দেখবেন কুমিল্লার ওপর হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উপর দিয়ে কর্কট ক্রান্তি রেখাটা খাগড়াছড়ির ওপর দিকে স্পর্শ করেছে। যেখানে কর্কট ক্রান্তি রেখাটা খাগড়াছড়িকে স্পর্শ করেছে, ঠিক সেখান থেকে সমান্য একটু নিচে নামলে দেখবেন একটা সরু পাহাড়ি নদী বয়ে গেছে নীচের দিকে। এটা হচ্ছে চেঙ্গি নদীর উপরের অংশ। এই নদীটা ধরে নীচের দিকে নামতে থাকলে একটু পরে পাবেন লোগাং নদী। আপনি যদি আমাদের পাহাড়ের ইতিহাসের কোন খোঁজ-খবর রাখেন, তাইলে নিশ্চয়ই লোগাং-এর নাম শুনেছেন। এই হচ্ছে লোগাং গণহত্যার জায়গাটি- লোগাং।

লোগাং থেকে আরেকটু নিচে নামলে দেখবেন চেঙ্গি নদীটি সামান্য একটু স্ফিতকায়া হয়েছে। এখান থেকে শুরু হয়েছে পানছড়ি। আঁকাবাঁকা হয়ে পানছড়ির মাঝখান দিয়ে লাস্যময়ী চালে চলতে চলতে রূপসী চেঙ্গি খাগড়াছড়ি শহরের দিকে চলে গেছে। এই যে চেঙ্গির দুই পারে পানছড়ি, এই পুরো জায়গাটাই পাহাড় আর এখানে একসময় বাস করতো কেবল আমাদের আদিবাসী পাহাড়িরা। এই পুরো পাহাড় আর অরণ্য নিয়ে আদিবাসীরা বাস করতেন তাদের নিজেদের মতো। এখন আর সে অবস্থা নেই। এখন সেখানে সেটেলাররা ঢুকেছে। ওরা সেখানকার পরিবেশ নষ্ট করছে, আর আদিবাসী মানুষজনকে অত্যাচার করছে।

এই সেটেলাররা আদিবাসীদের ওপর যে অত্যাচার করছে, সেটা তো পুরো পাহাড় জুড়েই করছে। তাইলে আজকে শুধু পানছড়ির কথা কেনো বলছি? সেটেলাররা কোথায় নেই? পাহাড়ের সর্বত্রই তারা আছে পাক সামরিক জান্তার সহযোগি হানাদার বাহিনীর মতো। আজকে বিশেষভাবে শুধু পানছড়ির কথাটাই বলছি, তার কারণ হচ্ছে কয়েকদিন আগে এই পানছড়িতে আরেক সেটেলার তস্কর আমার আরেক পাহাড়ি শিশুকে ধর্ষণ করেছে, এরমধ্যে অভিযুক্ত সেই সেটেলার ধর্ষক ধরাও পরেছে পুলিশের হাতে। এসব খবর দেখে আমি গুগল আর্থে পানছড়ির সবুজ দেখছিলাম, আর বিষণ্ণ হচ্ছিলাম।

(২) পানছড়িতে একটি শিশু, ক্লাস সিক্সে পড়ে একটা বাচ্চা মেয়ে, গিয়েছিল বাড়ির পাশে বাঁশ-কোড়ল (কচি বাঁশ, সব্জি হিসেবে খাওয়া হয়) সংগ্রহে। সেখানে এই শিশুটিকে ধর্ষণ করে এক বাঙালি মুসলমান সেটেলার। আহত রক্তাক্ত মৃতপ্রায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে সেখানকার ছাত্র, যুবক ও রাজনৈতিক কর্মীরা রাস্তায় নামে প্রতিবাদে। প্রতিবাদের মুখে পুলিশ মোহাম্মদ আবদুল খালেক নামের ধর্ষকটিকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে মোহাম্মদ আবদুল খালেক তার কুকর্মের কথা স্বীকারও করেছেন।

ধর্ষণ তো এমনিতেই একটা ঘৃণ্য অপরাধ। আর শিশু ধর্ষণ? আপনি ভেবে দেখেছেন কখনো? কী করে পারে লোকে?

ধর্ষণ তো সর্বত্রই হয়। সমতলেও হয়, পাহাড়েও হয়। এই তো কয়েকদিন আগে একটা খবর ঘুরে বেড়াচ্ছিল অন্তর্জালে—এক মসজিদের হুজুর ছোট একটি শিশুকে মেরে ফেলেছে ধর্ষণ করতে গিয়ে। হুজুরটি নাকি নিজেই স্বীকার করেছে যে, সে যখন দেখল যে মেয়েটি বেশী ছোট, ধর্ষণের লায়েক না, তখন মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। মসজিদের বা মাদ্রাসার হুজুরদের এইসব খবর মাঝে মাঝেই আসে। হুজুররা ছাড়াও, এমনিও সবখানেই ধর্ষণের খবর আপনি পাবেন মাঝে মাঝেই। যতদিন পর্যন্ত আমাদের সমাজ, আমাদের ধর্ম, নারীকে মানুষের মর্যাদা না দেবে, ততদিন পর্যন্ত ধর্ষণ থাকবেই। ধর্ষণ তো আর মানুষ শারীরিক চাহিদার জন্যে করে না!

কিন্তু আমাদের পাহাড়ে এসব ঘটনা ভিন্ন। কেনো ভিন্ন? কারণ সেখানে নারীর ওপর নির্যাতনের সাথে আদিবাসীর ওপর দখলদার জনগোষ্ঠীর নির্যাতনও জড়িত। এই কারণে সমতলের একটি ধর্ষণের চেয়ে পাহাড়ে আদিবাসী নারীর ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচারটি আরও ঘৃণ্য এবং আরও নিন্দনীয় অপরাধ। আমি যেহেতু একজন বাঙালি- এই অপরাধগুলোর দায় বহন করাটা আমারো নৈতিক দায়িত্ব হয়ে পড়ে।

(৩) আপনি হয়তো বলবেন যে, না ভাই, অপরাধ তো অপরাধই, একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের অপরাধ। এখানে কেনো আপনি আদিবাসী আর বাঙালি এই বিভেদ করছেন? কারণ এখানে ধর্ষণটিকে ব্যাবহার করা হচ্ছে জাতিগত সন্ত্রাস ও দখদারিত্বের প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে। অনেকটা যুদ্ধের সময় ধর্ষণ যে রকম একটা হাতিয়ার বা যুদ্ধকৌশল হিসাবে ব্যবহার হয়, তারই মতো।

বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে? আপনার কী মনে হচ্ছে যে, ইমতিয়াজ মাহমুদ শুধু শুধু ছোট একটি ব্যক্তিগত অপরাধকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাগাড়ম্বর করছে? তাহলে একটু ভেবে দেখুন। প্রথমে দেখুন, কারা এই সেটেলার? আর তারপর দেখুন, আদিবাসীদের সাথে তাদের সম্পর্কটা কী?

এই সেটেলাররা কারা? সমতল থেকে এরা পাহাড়ে গিয়ে বসবাস করছেন। অবশ্য এইটুকু বললে বিষয়টা খুবই সরল আর নিষ্পাপ মনে হয়। একই দেশের মধ্যে সমতল থেকে একটি লোক ভাগ্যের অন্বেষণে বা অন্য কোনো কারণে দেশেরই ভেতরেই পাহাড়ে গিয়ে বসবাস করতে কেন পারবেন না? কুমিল্লা থেকে একজন যদি গিয়ে রংপুরে বসবাস করতে পারেন, তাহলে ময়মনসিংহ থেকে কেনো একজন গিয়ে পানছড়ি বসবাস করতে পারবেন না, বা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন। ব্যাপারটা যদি এরকম সরলভাবে হতো তাহলে কারো কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু এই সেটেলাররা তো এই প্রক্রিয়ায় পাহাড়ে আসেননি।

জিয়াউর রহমানের সময় সরকারি ভাবে সরকারি খরচে এসব সেটেলারদেরকে ঝাঁকে ঝাঁকে নিয়ে গিয়ে পাহাড়িদের জায়গা ওদের নামে বরাদ্দ দিয়ে সেখানে সেটল করা হয়েছে। কেবল তাই নয়, এসব সেটেলারদেরকে নিয়ম করে রেশন দেয়া হয়েছে (সম্ভবত এখনো ওদেরকে রেশন দেয়া হয়), যেন তারা সেখানে থেকে খেতে-পরতে পারেন, আর সেখান থেকে চলে না আসেন। আর সেই সাথে যুক্ত হয়েছে পাহাড়ের বেসামরিক প্রশাসন আর সামরিক বাহিনীর লোকেদের সেটেলারদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ। এটি হচ্ছে কৃত্রিমভাবে একটি এলাকার ডেমোগ্রাফি পাল্টে দেয়া।

ফলাফল কী হয়েছে? আদিবাসী আর সেটেলারদের আপনি মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলেন। এখন সেটেলাররা হয়ে গেলেন শাসক সম্প্রদায়, আর আদিবাসীরা শাসিত। আদিবাসীদের চিরায়ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধরন ভেঙে পড়লো। দূর পাহাড়ে যেসব আদিবাসী তাদের নিজেদের মত প্রথাগত পন্থায় ভূমি ব্যবহার করতেন, সে পন্থায় বিঘ্ন হলো। একবার জুম চাষের (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ চাষাবাদ) পর একটা পাহাড়ে যে কিছুদিনের বিরতি দেওয়া হতো সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। প্রাকৃতিক ভারসাম্য গেল নষ্ট হয়ে। আর কিছুদিনের মধ্যেই পাহাড়ের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ চলে গেল মূলত সেইসব সেটেলারদের হাতে।

(৪) হ্যাঁ, পাহাড়ে অশান্তি হয়েছে। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সশস্ত্র আন্দোলনের লাইন নিয়েছিলেন। সে লাইন সঠিক ছিল কি না এটা এখন একটা ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের ব্যাপার। কিন্তু দুটি জিনিস ভুললে চলবে না।

প্রথমত, এই সশস্ত্র সংগ্রামটা শুরু হলো কেন? কাপ্তাই বাঁধ নিয়ে আদিবাসীদের বঞ্চনার কথা আপনারা জানেন। স্বাধীনতার পর যুক্ত হলো জাতিগত স্বতন্ত্র পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না পাওয়া। কিন্তু সেটা তো রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল। সেই সমস্যার রাজনৈতিক মীমাংসা সম্ভব ছিল। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটা সমতাভিত্তিক অভিন্ন জাতিসত্ত্বা তৈরি করতে। সেখানে আদবাসিদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের স্বীকৃতি না দেয়া অবশ্যই ভুল ছিল। সেটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই শুধরানো যেতো। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর যখন আদিবাসিদেরকেই ওদের নিজভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত করার স্কিম নিলো আমাদের সে সময়ের সরকার, তখন কী আর ইস্যুটা সরল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে?

দ্বিতীয়ত, সে সময়ে, অর্থাৎ সত্তরের দশকে সশস্ত্র সংগ্রামের লাইনটা সারা দুনিয়াতেই একটা প্রায় স্বীকৃত রাজনৈতিক পন্থা ছিল। আমাদের দেশেই সমতলে মাওবাদীরা সশস্ত্র সংগ্রামের লাইন নিয়েছিল। ভারতে নকশাল ছিল। আমদের দেশ ছাড়াও, আফ্রিকায় ও ল্যাটিন আমেরিকায়ও সে সময় জাতীয় মুক্তির সংগ্রামগুলো সশস্ত্র লাইনেই ছিল।

জনসংহতি সমিতির কি বিশ্লেষণ আমি জানি না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, এসব ব্যাপার মিলিয়ে জনসংহতি সমিতি সে সময় কেনো সশস্ত্র সংগ্রামের লাইন নিয়েছিল, সেটা আমি বুঝতে পারি। আপনি যদি সে সময়ের প্রেক্ষাপটে ব্যাপারটা দেখেন- সমর্থন করবেন কি না, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ, কিন্তু পাহাড়ে ওরা কেনো সশস্ত্র সংগ্রামে গেল সেটা আপনিও বুঝতে পারবেন। চূড়ান্ত বিচারে সশস্ত্র সংগ্রামে যাওয়াটা ভুল ছিল কি সঠিক ছিল, সেটা ভিন্ন আলোচনা যদিও।

এখন জিয়াউর রহমান যখন সেটেলারদেরকে সেখানে ঢুকিয়ে পাহাড়িদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলেন, তখন পুরো সমস্যা যেটি ছিল, একটা নীতিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার, সেটি আর কেবল রাজনৈতিক সমস্যা থাকলো না।

(৫) এই সবকিছুরই নিট ফলাফল দাঁড়ালো– সেটেলাররা এখন দখলদার মনোবৃত্তি নিয়ে সেখানে বসবাস করেন। তারা ভাবেন, আমরা শাসক জাতী, পাহাড়িদের চেয়ে উন্নত ও সভ্য। এইসব নাকবোচা জংলিদেরকে এতো গুরুত্ব দেয়ার কী আছে? আমরা পাহাড়কে ‘উন্নত’ করবো, এখানে রাস্তা বানাবো, পর্যটন কেন্দ্র বানাবো। পাহাড়িরা সেখানে পর্যটকদের জন্য নাচবে গাইবে, ব্যাস। ওরা যদি বাংলাদেশে বাস করতে চায়, তাহলে আমাদের কথা মেনেই বাস করতে হবে।

এই যে আধিপত্য দেখানোর মনোবৃত্তি- এটিই সেটেলার মনোবৃত্তি। এই আধিপত্য দেখানোর মনোবৃত্তি থেকেই পাহাড়ে আমার মেয়েদেরকে ওরা ‘পাহাইড়া মাল’ মনে করে। আর এ রকম দু-চারটা ‘পাহাইড়া মাল’  খেয়ে দিতে না পারলে আর কিসের শাসক গোষ্ঠী হলাম? এইটাই হচ্ছে পাহাড়ে বাঙালি সেটেলারদের ধর্ষণের মনোস্তত্ব। আর এই মনোস্তত্বটা নিয়ত প্রশ্রয় পায়, কারণ পাহাড়ি মেয়েদেরকে ধর্ষণ করলে শেষ পর্যন্ত শাস্তি হয় না। আমার জানা মতে, আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতন করে কোনো বাঙালি শাস্তি পেয়েছেন, এ রকম ঘটনা আমি দেখি নি। আমার জ্ঞানের বাইরে দু-একটা শাস্তি হলেও হতে পারে—কিন্তু অপরাধের সংখ্যার অনুপাতে সেগুলি অনুল্যেখযোগ্য।

আর পাহাড়ে গণহত্যা করলেও শাস্তি হয় না, ধর্ষণ তো মামুলি ব্যাপার। পাহাড়ের সেটেলারদের সাথে আপনি কথা বলে দেখতে পারেন, পাহাড়ি মেয়েদের ধর্ষণ করাটাকে ওরা নৈতিকভাবে মুরগি চুরির চেয়ে বড় কোনো অপরাধ মনে করেন না!

এসব কারণেই পানছড়িতে একজন বাঙালি মুসলমান সেটেলার যখন আদিবাসী শিশুর ওপর নির্যাতন করে সেটাকে আপনি একটা সাধারণ আরেকটা ধর্ষণের সাথে মেলাতে পারবেন না। এখানে ভিক্টিম আর ধর্ষকের পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ; এই অপরাধটি ধর্ষকের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ভিক্টিমের জনগোষ্ঠীর ওপর হতে থাকা ক্রমাগত অপরাধেরই একটা অংশ মাত্র।

(৬) আমি পাহাড় খুবই পছন্দ করি। পাহাড়ে ক্লাইম্বিং ট্র্যাকিং বা সে রকম কোনো অ্যাডভেঞ্চার আমার দরকার হয় না, পর্বতের হাই আল্টিচ্যুডে গিয়ে বসে থাকতেই আমার ভাল লাগে। ট্যুরিস্ট জর্জরিত হিল স্টেশন ততোটা না, ছোট্ট একটা পার্বত্য শহরে গিয়ে চুপচাপ থাকবো, ঘুমাবো, খাবো তাতেই আমার বিশাল আনন্দ। আর এখন তো ছবি তুলতে চাই,  একটু ঘুরে ফিরে ফটো তুলতে পারলে তো ভালোই।

কিন্তু পাহাড়ে আমার যেতে ইচ্ছা করে না। লজ্জা লাগে। চলাফেরা করতে গেলেই দেখা যায়, ভয়ংকর এক বিশেষ মহল সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে দেখলে দম বন্ধ হয়ে আসে।

আর মন জুড়ে থাকে তীব্র অপরাধবোধ। পাহাড়ে ঘটে যাওয়া সকল অপরাধের গ্লানি যেনো আমার কাঁধে এসে ভর করে। আমি মাথা সোজা করে সকলের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারিনা। পানছড়ির ওই ছোট্ট শিশুটির কথা ভাবুন তো! ওর জায়গায় নিজেকে চিন্তা করুন। ওর চোখে একজন বাঙালিকে দেখতে চেষ্টা করুন তো!

ভেবেছিলাম সামনের শরৎ কালে ওদিকে যাবো; চেঙ্গি-মাইনি-কাসালং ঘুরে বেড়াবো, আর মেঘের ছবি তুলবো। বিন্তু সেই পুরনো লজ্জা এসে গলা চেপে ধরে। কী করে যাবো? একটি নিষ্পাপ পাহাড়ি শিশু আমাকে দেখে ধর্ষক ভেবে আতঙ্কে হিম হয়ে যাবে। এই লজ্জার কথা আমি কাকে বোঝাবো? আপনি ভেবে দেখেছেন? এসব সেটেলারদের কুকীর্তির দায় আমাদের সকলের মুখে কালি লাগাচ্ছে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত।

লেখক: আইনজীবী ও লেখক।


সর্বশেষ

আরও খবর

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?


মুছে ফেলো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের বিভাজন রেখা

মুছে ফেলো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের বিভাজন রেখা


করোনার ক্রান্তিলগ্নে দাড়িয়ে বিশ্ব, আসলে দায় কার?

করোনার ক্রান্তিলগ্নে দাড়িয়ে বিশ্ব, আসলে দায় কার?


“যে যার জায়গা থেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই বেঁচে আছি”

“যে যার জায়গা থেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই বেঁচে আছি”


স্বৈরফইন্নিবাদ যখন জনমতের টুটি চেপে ধরে

স্বৈরফইন্নিবাদ যখন জনমতের টুটি চেপে ধরে


সবকিছুর সঙ্গে ‘রাজনীতি’ মেশানোর ঘৃণাজীবীরা

সবকিছুর সঙ্গে ‘রাজনীতি’ মেশানোর ঘৃণাজীবীরা


রাঙ্গা-ভাষার পাতকূয়া প্রদাহ

রাঙ্গা-ভাষার পাতকূয়া প্রদাহ


মুক্তচিন্তা প্রকাশের ভীতি কাটাবে লিট ফেস্ট!

মুক্তচিন্তা প্রকাশের ভীতি কাটাবে লিট ফেস্ট!


মুক্তিযোদ্ধা বাদল-খোকার চলে যাওয়াঃ মিলনই মৌলিক

মুক্তিযোদ্ধা বাদল-খোকার চলে যাওয়াঃ মিলনই মৌলিক


ঠগীদের সাথে বসবাস

ঠগীদের সাথে বসবাস