Friday, September 15th, 2017
পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি
September 15th, 2017 at 9:19 am
পাহাড়-বনাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি

এম কে রায়হান: নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন বন ও পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তাদের কেউ কেউ পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে বাঁশ এনে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করছেন টং ঘর। বনবিভাগের যেসব জায়গায় স্থানীয়দের তেমন যাতায়াত নেই, সেসব জায়গাতেই তারা গড়ে তুলছেন এসব বসতি।

১১ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ঢালার মুখ, তাজনিরমারছড়া, শফিউল্লাহ কাটা, হাকিমপাড়া, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পুটিবনিয়া, রইক্ষ্যং ও নাইক্ষ্যংছড়ি বাঁশবাগান এলাকায় বনাঞ্চল সাবাড় করে গত কয়েকদিনে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বসতি গড়ে তুলছেন।

এক রাতের ব্যবধানে এসব এলাকায় কয়েকটি পাহাড় ন্যাড়া করে ফেলেছেন তারা। সেখানে বনের গাছপালা উজাড় করে, পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। যত দূর দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায়, পাদদেশে শত শত পলিথিনের ছাউনিযুক্ত ঘর। কেউ ঘর তৈরি করে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ নতুন ঘর গড়ার কাজ করছে্ন।

উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া, লেদা ও শামলাপুর এলাকায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বনবিভাগের জমির ওপর আগে থেকেই বসবাস করে আসছেন।

টেকনাফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পুটিবনিয়ায় কথা হয় আক্কাস মিয়ার সঙ্গে। তিনি মাটি সমতল করার কাজ করছিলেন। নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘আমি পাশের এক চাকমার কাছ থেকে টাকা দিয়ে পলিথিন ও বাঁশ কিনেছি। ওই বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে যে ঘর তৈরি হবে তাতে আমি আমার পরিবারের ১৩ সদস্য রাত কাটাতে পারবো।’

তার পাশেই কাজ করছিলেন হানিফ নামের আরেক রোহিঙ্গা। তিনি নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘আমি, আমার স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্রায় ১০ দিন ধরে আছি। আর কতদিন এভাবে থাকবো? আমরা বাঁচার জন্য বাংলাদেশে আসছি। এখন কি মরে যাবো? একটু জায়গা পেয়েছি তাই মাথা গোঁজার চেষ্টা করছি।’

শাহানূর নামে আরেক রোহিঙ্গা নারী নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘আমার স্বামী সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গেছে। আমি পাঁচ সন্তান নিয়ে সবার সঙ্গে চলে এসেছি। এখন এখানে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা তো করতে হবে। তাই পলিথিন কিনে এখানে থাকার একটা ব্যবস্থা করছি।’

পাহাড় ছাড়াও অনেক রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নভাবে উখিয়ার সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের ভেতরে পলিথিন ও বাঁশ দিয়ে ঘর তৈরি করে থাকছেন। উখিয়া উপজেলা থেকে বান্দরবান যাওয়ার পথে মাইলের পর মাইলজুড়ে চোখে পড়ে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের সারি। তাদের কেউ রাস্তার পাশে, কেউ গাছে বসে বা শুয়ে আছেন। অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন।

রোহিঙ্গাদের এমন অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয়রাও তাদের ব্যাপারে অনেকটা নমনীয় হয়ে উঠেছেন। রোহিঙ্গারা ঘর তুললেও কেউ বাধা দিচ্ছেন না। বরং কেউ কেউ তাদের খাবার দিয়ে সহায়তা করছেন। বন বিভাগের শত শত একর জায়গায় বসতি করলেও তাতে বাধা দিচ্ছে না সরকারও।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও সেনা পোস্টে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি(আরসা) নামে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এতে ১২ পুলিশ সদস্য ও বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। এর জেরে রাজ্যজুড়ে অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ কঠোর দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় বৌদ্ধজনগোষ্ঠীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাবমতে শরণার্থীদের এই সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ।

সম্পাদনা: ফারহানা করিম


সর্বশেষ

আরও খবর

ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহারে অনীহা

ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহারে অনীহা


বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ


সিটি সেন্টারে গাড়ি পার্কিং: অনিয়ম যেন নিয়ম

সিটি সেন্টারে গাড়ি পার্কিং: অনিয়ম যেন নিয়ম


‘বাড়ি কই’ অ্যাপে সফল আল-আমিন

‘বাড়ি কই’ অ্যাপে সফল আল-আমিন


এলইডি বিলবোর্ডে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, রয়েছে দূর্ঘটনার আশঙ্কা

এলইডি বিলবোর্ডে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, রয়েছে দূর্ঘটনার আশঙ্কা


ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৮৭ রুটে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৮৭ রুটে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক


সুফল মিলছে না বিআরটিএ’র ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের, ক্ষুব্ধ যানবাহন মালিকরা

সুফল মিলছে না বিআরটিএ’র ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের, ক্ষুব্ধ যানবাহন মালিকরা


যে গল্পের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই

যে গল্পের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই


ঐতিহ্যকে লালন করছে দোয়েল চত্ত্বরের শো-পিস মার্কেট

ঐতিহ্যকে লালন করছে দোয়েল চত্ত্বরের শো-পিস মার্কেট


মৃণাল হক: শিল্পকর্ম এবং শিল্পের ঠিকাদারী

মৃণাল হক: শিল্পকর্ম এবং শিল্পের ঠিকাদারী