Friday, January 31st, 2020
প্রচারণা শেষে ভোটের অপেক্ষায় ঢাকাবাসী
January 31st, 2020 at 11:09 am
এবার মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ মোট ৭৪৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন; এরমধ্যে মেয়র প্রার্থী ১৩জন
প্রচারণা শেষে ভোটের অপেক্ষায় ঢাকাবাসী

নিউজ ডেস্ক, ঢাকাঃ

আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। টানা তিন সপ্তাহ নগরীর প্রার্থীদের অলিগলি চষে বেড়ানো, পোস্টারে-পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সরগরম মাইকিং আর জনসংযোগ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে। এবার ভোটারের রায়ের অপেক্ষায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় সাড়ে সাতশ’ প্রার্থীর সঙ্গে গোটা দেশ।

নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে দুই সিটিতে ভোটের প্রচার। শুক্রবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাবে ইভিএমসহ ভোটের সরঞ্জাম। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার দুই সিটিতে সম্পূর্ণ ভোটই গ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। এরই মধ্যে ইভিএম নিয়ে প্রদর্শনী ও ভোটের মহড়া শেষ হয়েছে।

নিরাপত্তার জন্য বৃহস্পতিবার নির্বাচনী এলাকায় নেমেছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ভোটের পরিবেশ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ‘পুরোপুরি’ নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করে যাচ্ছে। আমি মনে করি, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সুন্দর রয়েছে।”

বৃহস্পতিবার শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা, শেষবারের মতো ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তারা। প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের স্লোগানে-স্লোগানে পুরো রাজধানী ছিল মিছিলের নগরী।

১০ জানুয়ারি থেকে ঢাকার দুই সিটি ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনার বাইরে এই নির্বাচনের প্রচারণার সময়কে বিগত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় উৎসবমুখরই মানছেন পর্যবেক্ষকরা।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক ছিল শেষ সময়ে। উত্তরের অন্তত ৬৭টি ও দক্ষিণে অন্তত ১০৭টি লিখিত অভিযোগ পড়েছে। এরমধ্যে সবগুলোই নিষ্পত্তি করা হয়েছে জানিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার‌্যালয়।

শেষ সময়ে এসে অননুমোদিত নির্বাচনী ক্যাম্প, পোস্টার, ব্যানার সরাতেও উদ্যোগ নেন রিটার্নিং কর্মকর্তা  ইসির যুগ্মসচিব আবুল কাসেম ও আব্দুল বাতেন।

বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইভিএমসহ নির্বাচনী মালামাল পাঠানো হবে শুক্রবার। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও আনুষঙ্গিক মালামাল রাজধানীর ৮টি স্থান থেকে শুক্রবার বিতরণ করা হবে। দক্ষিণ সিটির ভোটের সরঞ্জামও যাবে ৮টি স্থান থেকে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমদের নেতৃত্বে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, এপিবিএন সদস্যদের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নির্বাচনী এলাকায় টহলে থাকবেন ।আর পুলিশসহ অঙ্গীভূত আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা থাকবেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে।

দুই সিটির ২৪৬৮টি ভোট কেন্দ্রের ১৪ হাজার ৪৩৪টি ভোটকক্ষে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা একটানা ভোট হবে। দুই সিটিতে ভোটের দায়িত্বে থাকবেন অর্ধলক্ষের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।

সিটি নির্বাচনের পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাওয়া দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। এবার দেশীয় সংস্থার ১০১৩টি ও দূতাবাসের অন্তত ৭০ জন কর্মকর্তা পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র নিয়েছেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে গিয়ে দূতাবাস কর্মকর্তারা যেন তাদের কর্মপরিধির সীমা লংঘন না করেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেন, “মান্যবর রাষ্ট্রদূতদের যথেষ্ট সম্মান করি। বাংলাদেশের মতো এত আদর-যত্ন কেউ করে না। সেটা তো অব্যাহত থাকবে। কিন্তু আতিথেয়তা মানে এই নয় যে কেউ সেটির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করবে।”

এই সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৭০ জনের বেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়েছেন, তাদের প্রায় সবাই বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে দূতাবাসগুলোর নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ও সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকরা রয়েছেন।

কূটনীতিকদের জন্য যে নিয়ম কানুন, সেটা দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ‘প্রযোজ্য হতে পারে না’ বলে স্মরণ করিয়ে দেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচটি ইমাম।

তিনি বলেন, “তাদের কোনো কূটনৈতিক দায়মুক্তিও নেই। কাজেই তাদের বেলায় আইন কানুন যেভাবে আছে সেভাবেই যেন পালন করা হয়। তারা অনেক কিছু করতে পারবে কিংবা যেখানে সেখানে যেতে পারবে তা মনে করার সুযোগ নেই।”

এই ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকরা’ যেন বিধি-বিধান মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন সি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জোরাল পদক্ষেপ চেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা।

এর আগেরদিন বুধবার নির্বাচন কমিশনে দেশিয় পর্যবেক্ষক সংস্থার কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দল অনুসারী সংস্থাগুলোই পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে এসব সংস্থা ভোট ভালো না হলেও প্রতিবেদন দেবে ‘ভালো হয়েছে’।

বৃহস্পতিবার থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অর্ধ লক্ষ সদস্য মাঠে থাকছেন। নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে দুই সিটিতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েনঃ

নিরাপত্তা সদস্য: কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্য থাকছে ৪১ হাজার ৯৫৬ জন। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে  ১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোবাইল ফোর্স: পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত ১২৯টি মোবাইল ফোর্সে থাকবেন ১ হাজার ২৯০ জন,

স্ট্রাইকিং ফোর্স: ৪৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবেন ৪৩০ জন,

রিজার্ভ: রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবেন ৫২০ জন।

র‌্যাব: দুই সিটিতে র‌্যাবের টিম থাকবে ১৩০টি। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে টিম দায়িত্ব পালন করবে। গড়ে ১১ জন করে এতে মোট ১ হাজার ৪৩০ জন র‌্যাব সদস্য থাকবেন।

রিজার্ভ: দুই সিটিতে র‌্যাবের ১০টি রিজার্ভ টিম থাকবে, তাতে ১১০ জন সদস্য থাকবেন।

বিজিবি: রিজার্ভসহ দুই সিটিতে ৭৫ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্বে পালন করবেন। প্রতি প্লাটুনে গড়ে ৩০ জন করে মোট ২ হাজার ২৫০ জন বিজিবি সদস্য থাকবেন ভোটের দায়িত্বে।

হাকিম:  ৩০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী অপরাধ দমন ও সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুই সিটিতে থাকবেন ১৭২ জন নির্বাহী এবং ৬৪ জন বিচারিক হাকিম।

ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাঃ

দুই সিটিতে দুজন রিটার্নিং অফিসার মোট ৪৩ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে এবারের সিটি নির্বাচন পরিচালনা করবেন।

প্রতি ভোটকেন্দ্রে ১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, প্রতি ভোটকক্ষে ১ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন।

দুই সিটিতে সব মিলিয়ে ২৪৬৮ জন প্রিজাইডিং আফিসার, ১৪ হাজার ৪৩৪জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ২৮ হাজার ৮৬৮ জন পোলিং আফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

ইভিএম কারিগরি টিম: দুই সিটি ভোটের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে প্রতি কেন্দ্রে দুইজন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

সব কেন্দ্রে ইভিএম-এর ব্যবস্থাপনায় সশস্ত্র বাহিনীর ৫ হাজার ২৮০ জন সদস্য থাকবেন। তারা শুধু ইভিএম পরিচালনার দায়িত্বে পালন করবেন।

ভোট তথ্যঃ

উত্তর সিটি করপোরেশন: সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪টি, সংরক্ষিত ১৮টি, মোট ভোট কেন্দ্র ১৩১৮টি, মোট ভোট কক্ষ ৭৮৪৬।

মোট ভোটার ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। তাদের মধ্যে ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ জন পুরুষ, ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন নারী।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি, সংরক্ষিত ২৫টি, মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ১৫০টি, মোট ভোট কক্ষ ৬ হাজার ৫৮৮টি।

মোট ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। তাদের মধ্যে ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ জন পুরুষ; ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন নারী।

এবার মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ মোট ৭৪৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে মেয়র ১৩জন।


সর্বশেষ

আরও খবর

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান


কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রাখা ব্যক্তি শনাক্ত

কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রাখা ব্যক্তি শনাক্ত


কুমিল্লার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দ্রুতই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দ্রুতই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ


দেবীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড নিছক দূর্ঘটনা: ইউএনও

দেবীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড নিছক দূর্ঘটনা: ইউএনও


সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যে আক্রান্ত ২৩ জেলা

সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যে আক্রান্ত ২৩ জেলা


ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ

ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ


ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু


পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড


মিরপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার

মিরপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার