Sunday, January 1st, 2017
প্রলয় সাহা’র কবিতা
January 1st, 2017 at 12:15 pm
প্রলয় সাহা’র কবিতা

প্রিয় প্রাচীন

কেমন যাচ্ছে জীবনকাল?
এ্যাকুরিয়ামের মাছের মত
দাবার বোর্ডে নীরব খেলুড়ে
হার জিত যা-ই হোক সব সম্ভব
নাকি জ্বলন্ত মোমের মত যাচ্ছ তুমি গলে!
আচ্ছা, তোমার শার্টের কলারে কি
এখনও শ্যাওলা জমে আগের মত?
সোহাগ বাঁধা উঠোনে, শুকনো ঘাসের বপন কি বেড়েছে?
জানো, অনেকদিন ওই ঘাসেদের খাতির জোটেনা কোমল অবয়বে।
শুনেছি সকাল হলেই নাকের ডগায় থাই গ্লাসে কুয়াশা জমে রোজ
তাই খোঁজ নাও এদের ওদের তাদের এবং আমাদের।
মনোমালিন্যের সংসারে হাসতে ভুলোনি নিশ্চয়
অভিজ্ঞ একচোখে স্বপ্ন দেখতে সত্যিই কি ভালো লাগে বলো;
নাকি শেষটা দেখা দরকার তাই পৃষ্ঠা উল্টাও।
আসলে তোমার মনের খবর পাইনি কখনো
ছাপাও হয়নি কোন পত্রে, চিকা মারাতো দূরের কথা
সত্যি বলছি জানতে ইচ্ছে করে খুব।
কতটা গভীর হলে তোমার মত হওয়া যায়?
কতগুলো কাক রাজনীতির সংলাপ পুড়িয়ে দিয়েছ স্বইচ্ছায়?
আর কতটুকু গোপন হলে তোমার তার-কে ভুলে যাওয়ার ভাব ধরেছ?
তোমার আর তার মাঝেতো বেশ রোমান্টিক ছায়াছবি
সেই ছোট্টবেলা থেকে দেখে এসেছি; হেসেছি লজ্জায় লাল হয়ে।
তবে এটাও ঠিক,
তোমাদের মাঝে ছিল অনেকের যাতায়াত।
বন, সমুদ্র, নদী, রাস্তা, ঘর-বাড়ি, সকাল, বিকাল, রাত, আকাশ, সূর্য, চাঁদ, তারা।
ভাবতেই অবাক লাগে পুরো একটা পৃথিবী।
পৃথিবীটা আর আগের মত নেই তা আমি জানি
তবুও কি রোজ সকালে তার মাঝে হয় অবগাহন!
জানি জানি খুব ভালোবাসো তাকে
ভালোবাসাটা ঠিক আগের মত তাই-না?
না হলে কি কেউ ওভাবে বর চায়!
“তার আগে আমায় দিও তোমার দেখা”
সকল প্রাপ্তি চুকিয়ে দিতে চাও।
আয়ুষ্কাল দিন দিন হচ্ছে উর্ধ্বগামী
যা ছিল বরাঙ্গ; ইদানিং নাকি ওই দেয়াল থেকে
চুনকাম সব আস্তে আস্তে যাচ্ছে খসে।
সেকেলে হয়ে গেল চাকচিক্যের বর্তমান সংসারে তোমার নিঃশ্বাস।
সব কেমন অতীত হয়ে খাচ্ছে।
জযবা সময়ের অনুষ্ঠানে নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুসরত প্রাপ্ত ধীবর
সামনের দিনগুলো দেখতে দেখতে কেটে যাবে,
স্থির হয়ে যাবে সব, স্থির
এসে যাবে হঠাৎ গল্পের শেষ পৃষ্ঠা।
তাই বলে কি আমিও!
না, সবকিছুর পরেও আমি বলবো;
তুমি আমার মুখোশ, আমার চরিত্রের শেষ অক্ষর।
প্রিয় প্রাচীন,
ভুল করে হলেও গ্রহণ করো
আমার দু’পাণির শ্রেয় শ্রদ্ধা
যার একটাই নাম হবে তোমার শুষ্ক চরণ।

 

কল-এর চক্রব্যূহে অভিশাপ

কতজনের মনে কষ্ট দিলে
অভিশাপ দিবে গোপন ভুলে?
কান্নার স্রোত কতটা বহমান হলে,
ধৈর্য্যের মোহনায় শিল্পকলার তুলির আঁচড়-
মুছে নিবে দু’চোখ।
গনিতের শিক্ষার্থী হয়ে প্রমাণের তাগিতে
গণনার সুবিধার্থে ব্যবহার করবে, সকল গাণিতিক চিহ্ন।
হিসাব কষতেও নাকি মারাত্মক পটু!
লেনদেনের যোগান দিতে ট্যালি খাতায় করবে
হিসাবের শেষধাপ পর্যন্ত কাঁটাছেঁড়া।
হিসেব না মিললে, বাকিটার দাবিদার
ওই শালা্ অনিশ্চিত হিসাব।
বিশ্বাসের পুস্তক থেকে উড়ে গেল রঙিন প্রজাপতিটি।
তার শিরা-উপশিরা প্রযত্নে গেল বিজ্ঞানীদের-
মোগজ সংশোধনে।
অতীতের থিয়েটার থেকে বের করা হলো;
জাতির উদ্দেশ্যে বিশ্লেষণ।
হাতেনাতে ধরা পড়লো নৈতিক-অনৈতিক সংলাপ!
নৈতিকতার হাত ধরে রাজনীতি নিয়েছে বিশেষ সভা
দফায় দফায় দিনের মাথার উপর রাখা হলো;
ধর্ম প্রভার ঘট।
কে কার ধর্ম!
কার এই ঘট!
ঘটনাক্রমে সবার সম্মুখে ভাঙলো তা
গোত্র লেখা নেই শরীরে, তবুও ঠাপের ধরণে আচরণ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
রক্ত খাবে জীবনের নামে
জুতা পেটানো হবে সম্মানের ললাটে
গ্রন্থে লাগানো হলো আগুন; পোড়া গ্রন্থে সংক্রমিত রাগের অসুখ
জরুরীভিত্তিতে ঔষধ প্রয়োজন
বসানো হলো; আকার-নিরাকার সার্টিফিকেটের গোলটেবিল।
সবার মুখে পচা মাংসের গন্ধ
কারণ জানতে চায় সবাই
উত্তর ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হলো একে অপরের মুখে
প্রশ্ন একটাই, কোন মাগীর বেটা করেছে পাপ!
দিলাম অভিশাপ-
তোর লিঙ্গ নিপাত যাক, নিপাত যাক …

মধ্যবিত্ত

আমার সকালটা শুরু কথার ব্যথায়
তা নিয়ে বের হয়ে যাওয়াটা আমার দৈনন্দিন চরিত্র
হেঁটে চলি মরা গাছের বাকল বিছানো খসখসে রাস্তায়;
মরে যায় আশা, হয় শুষ্ক কাঠ-
আমি তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে,
একবুক তৃষ্ণা মাটি চিনে না।
গল্প করে না বন্ধুর জলাশয়ের সাথে,
মাথার উপর শূন্যতাকে ঈশ্বর ভাবে,
ডেকে বলে, দাও হে আমার বরের দেবতা-
বেশী না মধ্যবিত্ত চাওয়া-পাওয়ার মত বৃষ্টি।
নেমে এসো স্থলভাগে, ভাসাও তোমার মেঘ শরীর
কোমল আদরে ভিজাও আমার চোখ-
জানান দাও বৈরাগী শীতের আবেগী ধ্বনি।
বেলা-অবেলায় যান্ত্রিকতায় বেদনার সুর
যা অবিরাম বাজে আমার কানে, ছড়িয়ে পরে সারা অঙ্গে,
মাতাল-কামুক-গোপন ধ্যান নৃত্য করুক আমার মস্তিষ্কে।
ঘ্রাণে মিশে যাক লীলাময় বিষ সুখ
কষ্টের দীর্ঘশ্বাসে বারংবার ডাক আসুক প্রেমিকার।
আমি আর মানুষ না নামে মাত্র গোত্র বিশেষ
চিনতে পারবে,চিনতে হলে হাত বাড়াও সেই বৃক্ষের দিকে,
যে বৃক্ষের রন্ধে-রন্ধে লেখা আছে, এক অপ্রিয় আয়ুশ্মান অভিশাপের নাম-
আর তা হলো, আমি বেঁচে থাকতে মধ্যবিত্ত অক্সিজেন গ্রহন করি।


সর্বশেষ

আরও খবর

নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


ক্রোকোডাইল ফার্ম

ক্রোকোডাইল ফার্ম


সামার অফ সানশাইন

সামার অফ সানশাইন


মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার