Sunday, April 12th, 2020
প্রানের জন্য ত্রান
April 12th, 2020 at 10:36 pm
প্রানের জন্য ত্রান

রুহুল আমিন;

“প্রানের জন্য ত্রান, ঘরে ঘরে পৌঁছে দিন” স্লোগানটি আমার একার জন্য নয়, সারা বাংলার আপামর জনতার।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রনোদনা মেনে নেই। কিন্তু ভারী শিল্প রক্ষায় প্রনোদনা প্যাকেজ হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। যার সুদ হার ৯%। এই সুদের অর্ধেক সরকার ভর্তুকি দিবে। এই ভর্তুকির টাকা কার। আপনার আমার খেটে খাওয়া মানুষের। আমরা মায়ের গর্ভ থেকে কবরস্থ পর্যন্ত কর দিয়ে আসি। কোথাও ক্ষমা নেই, নেই লুকোচুরিও। গর্ভে থাকতে আমার ভ্রুন হৃষ্ট পুষ্ট হতে, ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে মা’ কে বেশী বেশী খেতে দিতে হয়। এখানেও কর। মরনের পরে কাপড়, গোসল, কাঠ, বাঁশ, মজুর খরচ হয়। এখানেও সরকারকে কর দেই।

পুঁজিপতিরা শিল্প কারখানা বানায়। একটা থেকে এক’শ কারখানা হয়। বিদেশেও ব্যাবসা ছড়ায়। চ্যানেল খুলে, পত্রিকার মালিক হয়, ব্যাংকের মালিক হয়। গ্রূপ অব কোম্পানি হয়, ব্র্যান্ড হয়। দেশে বাড়ী গাড়ী বিশাল সম্পত্তি বানায়। সেকেন্ড হোম, থার্ড হোম আরো কত হোম যে হয়। তারপরেও তারা কর ফাঁকি দেয়, ব্যাংকের টাকা মারে, শেয়ার বাজারে সাধারন মানুষকে পথে বসায়।

তবুও সরকার আর্থিক প্রনোদনাসহ নানান সুযোগ সুবিধা দেয়। দুর্যোগ এলেই এরা হাত পা গুটিয়ে বসে থাকে সরকারের আশায়। ছোট খাটো দুর্যোগেও নিজ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সুরক্ষার কোন তহবিল থাকে না, পারলে ঝুলি ভর্তি সামান্য ত্রানেও থাবা মারতে চায়! এটাও আমাদের বিশ্বাস করতে হয়!

করোনার মহামারি কোন অঞ্চল কিংবা নির্দিষ্ট কোন দেশের নয়। সারা বিশ্বময় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করছে। মানুষ দিগ্বিদিক, দিশেহারা। হাহাকার করছে। তবুও সরকারের ত্রান ভান্ডারের দরজায় তালা! শুধু মিডিয়ার পর্দায় ত্রান বিতরন হয়, ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়। তারচেয়েও যা বেশী পাওয়া যায় তা হচ্ছে ত্রান চোর।

আমি গত বুধবার ঢাকার ডিসি জনাব আবু ছালেহ্ মোহাম্মদ ফেরদৌস খানকে মুঠো ফোনে কল দেই। কল বেজে ওঠার সাথে সাথেই তিনি লাইনটা কেটে দেন। আমি এসএমএস পাঠাই। লিখলাম আমি অমুক, ঠিকানা এই। আমার বাসায় মাত্র আধা কেজি চাল আছে। তিনি সাথে সাথে এসএমএস দিয়ে একটা টিএন্ডটি নাম্বার আর একটা মোবাইল নাম্বার দেন এবং লেখেন এই নাম্বার দু’টিতে যোগাযোগ করতে। টিএন্ডটি নাম্বারে কল দিলে রিং না হয়েই নিঃশব্দে ঘুমিয়ে যায়। মুঠোফোনটি অদ্যাবধি বিজি। পরবর্তীতে মুঠোফোনটিতে ডিসি সাহেবের রেফারেন্স দিয়ে একই ম্যাসেজ দেই । কিন্তু ফিরতি ম্যাসেজ আর পাওয়া হয় নাই। নাম্বারটি এমনও বলে না যে – সব ক’টি লাইন ব্যাস্ত, একটু অপেক্ষা করুন এই জাতীয় কোন কিছু।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন যারা সাহায্যের জন্য প্রকাশ্যে হাত বাড়াতে পারে না, গোপনে তাদের ঘরে গিয়ে ত্রান দিন। কোথায় এর প্রমান? কি প্রমান করবো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানছে না! নাকি ডিসি সাহেবই ভুয়া নাম্বার দিয়েছে! কোনটা ধরে নেব! এই যদি হয় আমার বেলায় যে কিনা ডিসি সাহেবকে ফোন দিতে বা এসএমএস দেওয়ার মত সাহস বা মানষিকতা বা বুদ্ধি রাখে।
তাহলে যারা মোবাইল ব্যাবহার করে না অথবা স্মার্ট ফোন নেই, নেট নেই, টিভি নেই, খবরের কাগজ পড়ে না স্বল্প শিক্ষিত তাদের বেলায় কি হতে পারে?

ভারতের দুই নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন এবং অভিজিৎ ব্যানার্জীর আহ্বানে উদ্বদ্ধ হয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যদি ১ কোটি ২০ লাখ পরিবার মানে ৪ কোটি ৮০ লাখ লোককে পরিবার প্রতি ১২,০০০ টাকা অনলাইন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। আমরা কেন মাত্র ৫০ লাখ পরিবার মানে ২ কোটি লোককে পরিবার প্রতি ৬,০০০ টাকা করে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা দিতে পারছি না। কেন সব দিচ্ছি চোরের ঘরে? এমএসগুলোর স্কীন শট দেয়া হোল।

রুহুল আমিন


সর্বশেষ

আরও খবর

বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?

বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?


রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!

রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!

ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!


সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত  বন্ধুত্ব

সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত বন্ধুত্ব


প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ

প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ


ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান

ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান


কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ


করোনাকালের খোলা চিঠি

করোনাকালের খোলা চিঠি


সিগেরেট স্মৃতি!

সিগেরেট স্মৃতি!