Thursday, October 13th, 2016
ফিদেল কাস্ত্রোর ৯০তম জন্মদিনে লাল সালাম
October 13th, 2016 at 3:09 pm
ফিদেল কাস্ত্রোর ৯০তম জন্মদিনে লাল সালাম

কিউবান রাজনৈতিক নেতা ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী ফিদেল আলেসান্দ্রো কাস্ত্রো রুজ। জন্ম ১৩ অগাস্ট ১৯২৬। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে তিনি ফিদেল কাস্ত্রো নামেই পরিচিত। তিনি একজন কিউবান রাজনৈতিক নেতা ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী। আজ মহান এ নেতার ৯০তম জন্মদিন।

কিউবা বিপ্লবের প্রধান নেতা ফিদেল ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯ থেকে ডিসেম্বর ১৯৭৬ পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ফেব্রুয়ারি ২০০৮-এ স্বেচ্ছায় তিনি সরে যাওয়ার আগপর্যন্ত কিউবার মন্ত্রিপরিষদের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কিউবা কমিউনিস্ট দলের প্রধান হিসেবে ফিদেল ১৯৬১ সালে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখনো পর্যন্ত আছেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব তার ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে অর্পণ করেন। রাউল বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির সহকারী প্রধান এবং মন্ত্রিপরিষদের প্রধান হিসেবে আছেন। এর আগে ১৯৫৯-২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ফিদেলের মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছে।

হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ার সময় ফিদেল কাস্ত্রো তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। এরপর কিউবার রাজনীতিতে একজন বিখ্যাত ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় প্রেসিডেন্ট ফালজেন্সিও বাতিস্তা ও কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সমালোচনামূলক নিবন্ধ লিখে। এ ব্যাপারে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে মনকাডা ব্যারাকে একটি ব্যর্থ আক্রমণ করেন। এরপর কারারুদ্ধ হন। পরে অবশ্য ছাড়া পান। এরপর তিনি বাতিস্তার সরকার উৎখাতের জন্য সংগঠিত হতে মেক্সিকো যান। ফিরে এসে ১৯৫৬’র ডিসেম্বরে সরকার উৎখাতে আন্দোলন শুরু করেন।

2

পরবর্তী সময়ে কাস্ত্রো কিউবান বিপ্লবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে চলা বাতিস্তার স্বৈরশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় আসেন। কিছুদিন পরই কাস্ত্রো কিউবার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৬৫ সালে তিনি কিউবা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হয়ে কিউবাকে একদলীয় সমজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রূপ দেন। ১৯৭৬ সালে তিনি রাষ্ট্র ও মন্ত্রিপরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি কিউবার সর্বোচ্চ সামরিক পদ Comandante en Jefe এ আসীন হন।

১৯৫৫ সালের জুন মাসে রাউল কাস্ত্রোর সাথে নিকো লোপেজের মাধ্যমে চে গুয়েভারার পরিচয় হয়। পরে তার মাধ্যমে ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে পরিচিত হন চে। কাস্ত্রোর সাথে চে’র প্রথম সাক্ষাতে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয়। এসময় চে বলেন, কিউবার সমস্যা নিয়ে তিনি চিন্তিত। সেই সময় চে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, আগ্রাসি এ তৎপরতার শীঘ্রই সমাপ্তি প্রয়োজন। এরপর ফিদেল কাস্ত্রোর ২৬ জুলাই আন্দোলন দলের সদস্য হন চে।

বিপ্লবের পরিকল্পনায় কাস্ত্রের প্রথম পদক্ষেপ ছিল মেক্সিকো থেকে কিউবায় আক্রমণ চালানো। ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর তারা কিউবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। সেখানে পৌঁছানোর সাথে সাথেই বাতিস্তার সেনাবাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করে। এ ঘটনায় মারা যায় ও কারাবন্দি হয় কাস্ত্রোর ৮২ জন সহচরী। এ যাত্রায় বেঁচে যায় ২২ জন। চে গুয়েভারা লেখেন, এটি ছিল রক্তক্ষয়ী মুখামুখি সংঘর্ষ। এ সময় আমি চিকিৎসা সামগ্রীর সাথে একজন কমরেডের ফেলে যাওয়া এক বাকসো গোলাবারুদ সাথে নিই, যা আমাকে চিকিৎসক থেকে বিপ্লবীতে পরিণত করে।

3

উল্লেখ্য, সিয়েরা মস্ত্রা পর্বতমালায় বিদ্রোহীদের ছোট্ট একটা অংশ পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়। সেখানে তারা ২৬ জুলাই আন্দোলনের গেরিলা এবং স্থানীয় লোকজনদের সহযোগিতা পান। সিয়েরা থেকে দল উঠিয়ে দেয়ার সময় কাস্ত্রোর একটি সাক্ষাৎকার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৯৫৭ পর্যন্ত সারা পৃথিবীর মানুষ জানত না, তিনি বেঁচে আছেন কিনা।

ফিদেল কাস্ত্রোকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কূটনীতি ও অধ্যবসায়ের কথা জানান চে। যুদ্ধ চলাকালীন চে বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর অখণ্ড অংশ হয়ে যান। ফিদেল কাস্ত্রো গুয়েভারাকে গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি সেকানোর জন্য চুল্লি প্রস্তুত এবং নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য পাঠশালা তৈরির দায়িত্ব দেন। এছাড়া একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, সামরিক প্রশিক্ষণের কর্মশালার আয়োজন এবং তথ্য সরবরাহের জন্য পত্রিকা প্রচার করার দায়িত্বও দেন। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তিন বছর পর চে গুয়েভারাকে কাস্ত্রোর মস্তিষ্ক হিসেবে আখ্যা দেয়।

২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ফিদেল কাস্ত্রো আনুষ্ঠানিকভাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

আজকের দিনে সাম্রাজ্যবাদ থাবা মেলে ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। আর এ সুযোগ রক্ষণশীল জঙ্গিবাদ ভাইরাসের মতো ঢুকে পড়ছে বিশ্বের আনাচে-কানাচে। কিন্তু মানুষ যতদিন থাকবে, ততদিন থাকবে শুভবোধ। শুভবোধের প্রতীক কাস্ত্রো। জন্মদিনে বর্ষীয়ান বিপ্লবী এ নেতাকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: এটিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ