Saturday, June 25th, 2016
ফিরে দেখা: ইন্দিরা হটাও আন্দোলন
June 25th, 2016 at 8:57 am
ফিরে দেখা: ইন্দিরা হটাও আন্দোলন

ডেস্কঃ সময় ১৯৭৫ সাল, আজকের দিন, ২৫ জুন। ‘অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কারণে ভারতের নিরাপত্তা বিপন্ন’ এই অজুহাতে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি দেশে জরুরী অবস্থা জারি করেন। সংবিধানের ৩৫২(১) নং ধারা অনুযায়ী ‘নিদারুণ আপৎকালীন অবস্থা বিদ্যমান’; কিন্তু আসলে এত কিছুর পেছনে দায়ী হাইকোর্টের এক রায়- ১২ই জুন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহন সিংহ রায় দেন, ইন্দিরা গান্ধী তার নির্বাচনে অসদুপায় অবলম্বন করেছিলেন। তাই ৬ বছরের জন্য তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

২৬শে জুন ভোরে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জাতির উদ্দেশ্যে আকাশবাণী থেকে দেয়া ভাষণে বলেন, ‘সন্ত্রস্ত হওয়ার মতো কিছু নেই। বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচিত সরকার কাজ করতে পারছে না। চারিদিকে হিংসাত্মক ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। ললিতনারায়ণ মিশ্রর মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী খুন হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি অজিতনাথ রায় আক্রান্ত। পুলিশ ও মিলিটারিকে বিদ্রোহ করতে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়েছে।’

ভারতজুড়ে তখন চলছে কংগ্রেস সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই। গ্রামের মানুষের দারিদ্র্য, ভূমি সংস্কারে চরম ঔদাসীন্য এবং পরিকল্পিত ব্যর্থতা। ভারতে ৫৫ লক্ষ গ্রামে অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যরেখার নিচে, অভাবের দাপটে কৃষকের অর্ধেক দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া সব মিলিয়ে হাহাকার। শহরেও অবস্থা দুঃসহ। বেকারের সংখ্যা হুহু‌ করে বাড়তে থাকে। সাধারণ মানুষের অবস্থা বুঝতে পরিসংখ্যানই যথেষ্ট- ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে ১৯৬৫-তে দেশের মানুষ মাথাপিছু খাদ্যশস্য পেত ৪৮০.২ গ্রাম। আর ১০ বছর পরে ১৯৭৫ সালে প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়াল ৪১৫.৩ গ্রামে। বস্ত্রের বেলায়, ১৯৬৫-৬৬ সালে মিলত মাথাপিছু ১৪.৭ মিটার। ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে আনুমানিক হিসেবে মাথাপিছু ১২.৯ মিটার।

আর এসবের সঙ্গে বাড়ে দুর্নীতির বহর, যার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনে জয়প্রকাশ নারায়ণের ডাক। সেই আন্দোলনের একটি পর্যায়ে পরে গুজরাটে নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়। কিন্তু সবার ওপরে এসে গেল ১৯৭৪ সালে ১৮ লক্ষ রেলওয়ে শ্রমিকের ঐতিহাসিক ধর্মঘট। স্বাধীন হওয়ার পর দেশজুড়ে এমন বিশাল ব্যাপক ধর্মঘট তখনও পর্যন্ত কেউ দেখেনি। যেমন দেখেনি ধর্মঘট ভাঙতে অমন বিপুল সরকারি আয়োজন। ২০ হাজার রেল কর্মীকে গ্রেপ্তার করে, ২৫ হাজারকে ছাঁটাই করে, শ্রমিক কোয়ার্টারগুলোকে অবরুদ্ধ রেখে মি‍‌লিটারি এবং সি আর পি, এমনকি কোচিনে নৌবাহিনীকে পর্যন্ত ধর্মঘটরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে সেই ঐতিহাসিক ধর্মঘটকে দমন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

গ্রেপ্তার হতে থাকেন একের পর এক বিরোধী দলীয় নেতা, বুদ্ধিজীবি, লেখক, সাংবাদিক, সিপিআই কর্মী। কিন্তু এমন নয় যে জরুরি অবস্থার সময়ে অভূতপূর্ব অত্যাচার-নিপীড়নের চাপে মানুষের যাবতীয় লড়াই স্তব্ধ হয়েছিল। যদি শ্রমিক আন্দোলনের দিকে তাকাই তো দেখব জরুরি অবস্থার দিনগুলিতে শ্রমিকরা অসংখ্য ধর্মঘট করে — কোথাও সংগঠিত কোথায় স্বতঃস্ফূর্ত। উত্তর প্রদেশের বিদ্যুৎকর্মীরা, হায়দরাবাদের ওষুধ শিল্পের শ্রমিকরা, কেরালার বাগিচা শ্রমিক, মাদ্রাজে সাইকেল কারখানায়, কলকাতার চর্ম শিল্প, দিল্লির বয়ন শিল্পে শ্রমিকরা অগণিত সংগ্রামে অংশ নেয়। আইনজীবী ও সর্বস্তরের বুদ্ধিজীবীরা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াইয়ে নামে।

শুরু হয় কংগ্রেসের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও শহরের সৌন্দর্য্যবর্ধনের নামে প্রহসন; সাথে তাদের ২০ দফা কর্মসূচি। দ্রব্যমূল্য লাগাম ছাড়া ঘোড়ার মত এগোতে থাকে পাহাড়ি উপত্যকায়, পরিলক্ষিত হয় একের পর এক কৃষকের আত্মহত্যা। অভুক্ত মানুষ থেকে যায় অভুক্ত, কেড়ে নেয়া হয় গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা। ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয় বামপন্থী নেতা-কর্মীরা।

আঘাত আনা হলো বিচারবিভাগেরও ওপরে। বলা হয়, হাইকোর্ট কেন্দ্রের আইনের বৈধতা বিচার করতে পারবে না। তাছাড়াও হাইকোর্টের রিট ও স্থগিতাদেশ জারি করার ক্ষমতাকে সংকুচিত করা হলো। এর আগেই বিচারপতি নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যাপারে শুরু হয়ে গেছিল নানান অনাচার। সব মিলিয়ে কোপ পড়ল বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার ওপর।

শুধুমাত্র ভারত নয়, সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে কংগ্রেস ও ইন্দিরা গান্ধীর এহেন হীন পদক্ষেপ সমূহ কালো হরফে লেখা থাকবে।

নিউজনেক্সটবিডিডটকম/এসকেএস/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ  ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা

করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা

অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা


কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!

কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!


প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা

প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা


রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি

রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি


মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর

মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর


মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন

মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন