Sunday, June 26th, 2016
ফিরে দেখা: হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা
June 26th, 2016 at 2:13 am
ফিরে দেখা: হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

ডেস্কঃ সহাস্য প্রাণবন্ত আড্ডার মাঝেও যার মুখ দিয়ে একটি গল্প বের হয়না, যে দাবী করে তার ঝুলিতে কোন গল্প নেই,  সেও নিঃসন্দেহে  হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প জানে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার দ্রুত-পঠন ভাষা শিক্ষার কল্যানে কোমলমতি শিশুরা স্কুল জীবনের প্রারম্ভেই পরিচিত হয় এই বিদেশী ছোট গল্পটির সাথে। জার্মানীর ঐতিহ্যে বিছানায় শিশুদের এই গল্প শুনিয়ে সম্মোহনকারী বাঁশিওয়ালার ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে গল্পটি তাদের মনে কল্পকাহিনী বা রূপকথা হিসেবেই থেকে যায়, এই ঘটনার বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক প্রমাণসূত্র অনেকের কাছেই অজানা রয়ে যায়।

সময়টা তখন ১২৮৪ খ্রিস্টাব্দ। জার্মানীর লোয়ার স্যাক্সনির হ্যামিলন শহর; ছোট শহর, মফস্বল বলা চলে। ইঁদুরের উপদ্রবে জনগনের জীবন অতীষ্ঠ। হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হয় রঙচঙে পোশাক পরিহিত এক অদ্ভুত ব্যক্তি, ঝুলিতে অনেক বাঁশি তার; দাবী করে সুরের জোরে সব সম্ভব।

হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হয় রঙচঙে পোশাক পরিহিত এক অদ্ভুত ব্যক্তি, ঝুলিতে অনেক বাঁশি তার; দাবী করে সুরের জোরে সব সম্ভব।

এক নিমেষেই হ্যামিলনকে ইঁদুর মুক্ত করার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমান স্বর্নমুদ্রা দাবি করে সে শহরের মেয়রের কাছে। চুক্তিতে প্রথমে রাজী হলেও কার্যোদ্ধারের পর বাঁশিওয়ালার প্রাপ্য মেটাতে অস্বীকার করে মেয়র। প্রতিশোধ নেয়ার সংকল্প মনে নিয়ে নীরবে শহর ত্যাগ করে বাঁশিওয়ালা। একই বছরের আজকের দিনে (২৬ জুলাই) হ্যামিলনে ফেরে সে। বাঁশির অদ্ভুত সুরের সম্মোহনে এবার তার পিছু নেয় শহরের সব শিশু। বাঁশি বাজাতে বাজাতে, হাঁটতে হাঁটতে হ্যামিলনের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে দিগন্তের ওপারে হারিয়ে যায় বাঁশিওয়ালা। একজন বধির শিশু যে বাঁশির সুর শুনতে পায়নি, একজন অন্ধ শিশু যে পথ দেখতে অক্ষম ছিল আর একজন পঙ্গু শিশু যে বাকীদের সাথে তাল মেলাতে পারেনি; এই তিনজন শহরের অবশিষ্ট শিশু হিসেবে রয়ে যায় যারা ধর্মোৎসবে গির্জায় যাওয়া প্রাপ্ত বয়স্করা ফিরে এলে এই কাহিনী বর্ণনা করে।

বিভিন্ন সূত্রে লিপিবদ্ধ ‘পায়েড পাইপার অফ হ্যামিলন’ গল্পটি মোটামুটই এইরকম।

oldest-known-picture-of-the-Pied-Piper

                                                      চার্চের জানালায় হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

হ্যামিলনের এই বিচিত্র রহস্যময় ঘটনার লিপিবদ্ধ ইতিহাস হিসেবে সবচেয়ে পুরনো যে নথিটির কথা উল্লেখ করা যায়, তা হলো হ্যামিলন শহরেরই একটি চার্চের কাঁচের একপাটি জানালা। ১৩০০ সালে নির্মিত হওয়ার পর ১৬৬০ সালে কাঁচের টুকরোটি ভেঙে গেলেও লিখিত ইতিহাস পুনরুদ্ধার করা হয়। ১৪৪০ থেকে ১৪৫০ সালের মধ্যে লিখিত ‘লয়েনবার্গ’ পান্ডুলিপি থেকে পাওয়া যায়,

“In the year of 1284, on the day of Saints John and Paul on June 26, by a piper, clothed in many kinds of colours, 130 children born in Hamelin were seduced, and lost at the place of execution near the koppen.”

গায়েব হয়ে যাওয়ার আগে যে রাস্তাটিতে শেষবারের মত হ্যামিলনের ১৩০ শিশুকে দেখা যায় তার নাম ‘বাঞ্জেলোসেন্ত্রাস’ বা বাদ্যবিহীন সড়ক, সেখানে আজ অবধি নাচ-গান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনেক পুরনো ঘটনা হওয়ায় এর ইতিহাস নিয়েও রয়েছে মতভেদ। অনেকের মতে, গল্পটি রূপক, আর ইঁদুরের মড়কের ব্যাপারটি এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। অনেকের মতে, হারিয়ে যাওয়া শিশুরা আসলে কোন প্রাকৃতিক সংক্রমণে মারা যায়, বাঁশিওয়ালা স্রেফ সাহিত্যিকের ভাষায় মৃত্যুর ব্যক্তিরূপ। আরেকটি তুলনামূলক দূর্বল তত্ত্ব অনুযায়ী, চরম দূর্ভিক্ষের শিকার হয়ে ১৩০ শিশুকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করেন তাদের পিতা মাতা। কিছু তত্ত্বে বলা হয় ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য এসকল শিশুকে অপহরণের পর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, যারা পরবর্তী জীবন রোমানিয়া অথবা পশ্চিম ইউরোপে কাটায়। অনেক উপকথায় এও লিখিত আছে যে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা মূলত একজন পেডোফাইল, যে ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে নিজের কাম চরিতার্থ করতো।

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার যদি সত্যিই ঐতিহাসিক অস্তিত্ব থেকে থাকে, তাহলে শৈশবে আমাদের শোনা রূপকথাগুলো হয়তো কোন না কোন বাস্তব ঘটনার অতিরঞ্জিত রূপ। সব প্রশ্নের উত্তর সময়ের কাছে রয়েছে নিশ্চয়ই!

নিউজনেক্সটবিডিডটকম/এসকেএস/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ  ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা

করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা

অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা


কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!

কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!


প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা

প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা


রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি

রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি


মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর

মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর


মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন

মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন