Tuesday, June 14th, 2016
ফের আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন
June 14th, 2016 at 6:13 pm
ফের আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন

শরীফ খিয়াম, ঢাকা: আদালতের আওতা বা এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের এক রায়ের সমালোচনা করেছে জাতীয় সংসদ। দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) না রাখার ব্যাপারে আদালতের দেয়া ওই রায়ের ব্যাপারে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আমি যত দূর জানি একটি স্কুলকে কেন্দ্র করে মামলাটি হয়েছিলো। তাই আমারও মনে হয়েছে, আদালত তার আওতার বাইরে গিয়ে এই রায় দিয়েছে’।

সংসদ ভবনে চলমান বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবার দুপুরে এ নিয়ে এক অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অধিবেশন কক্ষে উপস্থিতি ছিলেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারি ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আমি যত দূর জানি একটি স্কুলকে কেন্দ্র করে মামলাটি হয়েছিলো। তাই আমারও মনে হয়েছে, আদালত তার আওতার বাইরে গিয়ে এই রায় দিয়েছে। অনেক সিনিয়র আইনজীবীও এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষন করেছেন। আমার মনে হয় শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়টি দেখতে পারেন। এমনকি এ ব্যাপারে আমি হাউজের যিনি প্রধান, মানণীয় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করছি।’

এর আগে এ ব্যাপারে সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান। দিনের বাজেট আলোচনার সর্বশেষ বক্তার বক্তব্য শেষ হলে বেলা দুটা ৩৮মিনিটে ডেপুটি স্পিকার যখন সংসদ মুলতবী করবেন, ঠিক  সেই মুহুর্তে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দানের সুযোগ চান এমপি রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অনেকটা বিরক্তি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে পাশে বসা অন্যান্য সংসদ সদস্যদের দিকে হাত নেড়ে জানতে চান, ‘তিনি কি নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন?’

পরে ডেপুটি স্পিকার আব্দুর রহমানকে দুই মিনিট সময় দিলে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার কয়েকদিন আগে আদালত থেকেত একটি রায় দেয়া হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে কোনো এমপি থাকতে পারবেন না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে আগ্রহী নই। কিন্তু বিষয়টি যেভাবে নেয়া হয়েছে, সেটাও বোধহয় ঠিক নয়।’

আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি মনে করি এই রায়ের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। সে কারণে আমি আশাকরি, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেবেন।’

আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘আমি মনে করি এই রায়ের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। সে কারণে আমি আশাকরি, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেবেন।’ এ কথা বলেই আব্দুর রহমান বসে পরেন। উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। এরপরই ডেপুটি স্পিকার অধিবেশন মুলতবী ঘোষণা করেন।

এর আগে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনাকে ‘অবৈধ’ বলে হাইকোর্টের দেয়া রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন সংসদ সদস্যরা। সে সময়ও আদালতের আওতা বা এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তার আগে নবম সংসদে সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান অফিস সড়ানো নিয়ে আদালতের দেয়া এক রায়কে নিয়ে সংসদ ও বিচার বিভাগ মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

তৎকালীন স্পিকার আব্দুল হামিদ সংসদকে বলেছিলেন, ‘বিচার বিভাগের কোনো রায় যদি জনগণের আশা-আকাঙ্খা বা মতামতের বিপক্ষে যায়, তবে জনগণ সেই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারে।’ 

বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের তোলা এক পয়েন্ট অব অর্ডারের প্রসঙ্গ তুলে তৎকালীন স্পিকার আব্দুল হামিদ সংসদকে বলেছিলেন, ‘বিচার বিভাগের কোনো রায় যদি জনগণের আশা-আকাঙ্খা বা মতামতের বিপক্ষে যায়, তবে জনগণ সেই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারে।’ আব্দুল হামিদের এই বক্তব্য প্রচারের পর তৎকালীন বিচারপতি শামসুদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মানিক আব্দুল হামিদের ব্যক্তিগত লেখাপড়া এবং ‍শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, ‘বিচারবিভাগ নিয়ে ওই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।’

বিচারপতির শামসুদ্দিনের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তখন সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংসদ সদস্যরা স্পিকারের কাছে তাৎক্ষণিক এক রুলিং দাবি করেন। কারণ সংবিধান মতে, সংসদে আলোচিত কোনো বিষয় আদালত আমলে নিতে পারেন না। সংসদ সদস্যরা সে সময় সংবিধান থেকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে পুনরায় সংসদের হাতে ন্যস্ত করার দাবি জানান। দেশের প্রথম সংবিধানে এমন বিধান ছিলো বলেও তারা উল্লেখ করেন। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বিচারপতিদের অপসারনের সংসদীয় ক্ষমতা বাতিল করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রবর্তন করেছিলেন। গত বছর সংবিধানের ষোড়ষ সংশোধনী পাস হওয়ার আগে বিধানটি এমনই ছিলো।

পরে গত ৫ মে হাইকোর্ট এক রায়ে বিধানটি ফের ফিরিয়ে আনে। সরকার ইতিমধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদকে বলেছিলেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত এই সরকার সহ্য করবে না। উচ্চ আদালতে হাইকোর্টের এই রায় টিকবে না।’ প্রসঙ্গত, দেশের সংবিধান অনুযায়ী আদালতের যে কোনো রায় নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে পারেন সংসদ সদস্যরা। এনিয়ে আদালতের প্রশ্ন তোলার কোনো এখতিয়ার নেই।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসকে/এসজি


সর্বশেষ

আরও খবর

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু

দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু


সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং

সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত


বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা

বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা